জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, বর্তমান সরকার ৫ মাসে ৩ বার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালো। যা সরকারের গণবিরোধী নীতির বহিঃপ্রকাশ।
তিনি বলেন, সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্য এক লাফে লিটার প্রতি ২০ টাকার বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করতে হবে।
বাসদ সভাপতি বলেন, জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধিতে গাড়ি ভাড়া তথা পণ্যপরিবহন ও যাতায়াত খরচ, বিদ্যুতের দাম এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়বে। এতে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জীবেনযাত্রার ব্যয় বহুগুনে বেড়ে গিয়ে দুর্বিষহ করে তুলবে। এমনিতেই গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত। দ্রব্যমূল্যে উর্ধগতিতে জনসাধারণের নাভিশ্বাস উঠছে। সরকার এসব সমস্যার কোনও কার্যকর সমাধান করতে পারছে না।
বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, মুক্তবাজারের নিষ্ঠুর কষাঘাতে পিষ্ট সাধারণ মানুষের ওপর রাষ্ট্র আবারও চাপিয়ে দিল এক চরম জুলুমের বোঝা। ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি একলাফে ২০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কৃষি ও গণপরিবহনের চালিকাশক্তি ডিজেলের দাম ১৭.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ টাকায়, যা সরাসরি সেচ ও উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে প্রান্তিক কৃষকদের খাদের কিনারায় ঠেলে দেবে। অন্যদিকে, পেট্রোল ১৬০ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং গ্রামীণ মেহনতি মানুষের আলোর উৎস কেরোসিনের দাম ১৪.৮ টাকা বাড়িয়ে ১৫৫ টাকা করায় তীব্র সংকটের সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষ যখন মূল্যস্ফীতির তীব্র চাপে নাভিশ্বাস উঠছে, তখন বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ না করে দাম বৃদ্ধি ও জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে সরকারের তথাকথিত লোকসান কমানোর এই নীতি সরাসরি আমজনতার পকেট কাটার শামিল। চাল, ডাল, সবজিসহ প্রতিটি মৌলিক পণ্যের দামের ওপর এই জ্বালানি মূল্যের যে প্রত্যক্ষ পরোক্ষ প্রভাব পড়তে যাচ্ছে, তা সাধারণ শ্রমজীবী ও দরিদ্র মানুষের মুখের আহার কেড়ে নেবে।
বাসদ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বর্তমান সরকার ৫ মাসে ৩ বার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালো। যা সরকারের গণবিরোধী নীতির প্রকাশ। তিনি অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, গ্যাস, বিদ্যুত, পানির সংকট নিরসন ও দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখার দাবি জানান।








