সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান নগদ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে একটি মহল নানা অপপ্রচারের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নানা রকম মিথ্য ও বানোয়াট তথ্য ব্যবহার করে নগদে বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহকে জড়িয়ে নানা গালগল্প তৈরি করা হচ্ছে। বিষয়টি নগদ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। নগদ এই চক্রান্তের প্রতি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বুধবার (৭ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে অপপ্রচার করে নগদকে সুনামহানী করার মাধ্যমে কোনও একটি পক্ষ হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার অপচেষ্টা করছে।
প্রশাসকদের নগদ থেকে বেতন গ্রহণের অভিযোগ প্রসঙ্গে
অপপ্রচার করা হচ্ছে, প্রশাসক প্রতি মাসে ৯ লাখ এবং সহযোগী প্রশাসকরা প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকা করে বেতন নিচ্ছেন। প্রকৃত সত্য হলো, নগদের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসিক ৯ লাখ টাকা হারে মূল বেতন (অন্যান্য ভাতা ও সুবিধা ছাড়া) গ্রহণ করতেন; যা প্রশাসকের বেতন হিসেবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। প্রশাসক ও সহযোগী প্রশাসকরা নগদ থেকে কোনও বেতন গ্রহণ করেন না। তারা স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান (বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাক বিভাগ) থেকে বেতন গ্রহণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত যে ছবি ছড়ানো হয়েছে তা মিথ্যা। নগদের কর্মীদের মাসিক বেতন সিট পরীক্ষা করা হলে এ সংক্রান্ত সব তথ্য পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে নগদ কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক সহযোগীতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আরও উল্লেখ্য, প্রশাসক ২০২৪ সালের আগস্টে নগদে যোগদানের পর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নগদ থেকে কোনও মাসিক ভাতা পাননি। তবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে প্রশাসক দল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিশেষ ভাতা পেতেন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ওই বিশেষ ভাতা গ্রহণ না করার শর্তে নগদের বোর্ড ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে প্রশাসকের জন্য মাসিক ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং সহযোগী প্রশাসকদের জন্য ২ লাখ টাকা হারে মাসিক বিশেষ ভাতা নির্ধারণ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে যখন আদালতের আদেশে প্রশাসক দল নগদ থেকে প্রত্যাহার হয়, তখনও নগদ থেকে প্রশাসক দলের বেতন গ্রহণ বিষয়ে একই মিথ্যা ও অপতথ্য প্রচার করা হয়। নগদ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তখনও এ বিষয়ে একটি প্রতিবাদলিপি দেওয়া হয়েছে।
নগদের গাড়ি ব্যবহার প্রসঙ্গে
অপর একটি অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, নগদ থেকে দুটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো গাড়ি নিয়েছেন প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ। প্রকৃত সত্য হলো, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে নগদের পরিবহন পুলে অনেক আগে থেকে থাকা তিনটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো গাড়ির মধ্যে একটি গাড়িই প্রশাসক দাফতরিক কাজে ব্যবহার করেন। অপর দুটি গাড়ি নগদের অন্যান্য কর্মকর্তারা দাফতরিক কাজে ব্যবহার করেন। আরও উল্লেখ্য, প্রশাসক নগদে দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন কোনও গাড়ি কেনা হয়নি এবং প্রশাসক কখনোই দুইটি গাড়ি ব্যবহার করেননি।
যাতায়াত ভাতা গ্রহণ প্রসঙ্গে
৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর দেশের বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো নগদরে সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়। এতে নগদের লেনদেন দ্রুত কমতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আস্থা পুনরুদ্ধার ও লেনদেন পুনরায় শুরু করাসহ নানাবিদ কারণে নগদের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারাসহ প্রশাসক দলের বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা অফিস সময়ের বাইরেও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর অফিসে সভা করেছে। এই সব সভায় অংশগ্রহণের জন্য যে সব ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের যাতায়াতের জন্য নগদের অফিসিয়াল গাড়ি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি, সে সব ক্ষেত্রে নগদের ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের অনুমোদিত পলিসি অনুযায়ী কনভেয়ান্স বা যাতায়াত খরচ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে, নিয়মের কোনও ধরনের ব্যত্যয় হয়নি।
বোর্ড সদস্যদের সম্মানী গ্রহণ প্রসঙ্গে
ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের সদস্যরা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত মাসিক ৫০ হাজার টাকা করে সম্মানী পেয়ে থাকেন। পাশাপাশি, প্রতিটি বোর্ড মিটিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য ১০ হাজার টাকা করে সম্মানী পান। ম্যানেজমেন্ট বোর্ড নিয়োগের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনও মাসে একটির অধিক বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয়নি। উল্লিখিত সম্মানী বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের সদস্যদের নিয়োগের বিধি অনুযায়ী প্রদেয় হয়। উল্লেখ্য, ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগকৃত স্বতন্ত্র পরিচালকরাও অনুরূপ সম্মানী পেয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রেও, কোনও ধরনের নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেনি।
রিক্রুটমেন্ট ইন্টারভিউয়ের জন্য সম্মানী গ্রহণ প্রসঙ্গে
নগদের বোর্ড অনুমোদিত পলিসি অনুসারে কর্মী রিক্রুটমেন্টের উদ্দেশে গঠিত ইন্টরভিউ বোর্ডের সদস্যরা ইন্টারভিউ গ্রহণের জন্য সম্মানী পেয়ে থাকেন। নগদের ইন্টারনাল ও এক্সটারনাল সব সদস্য এই সম্মানী পান। কোনও ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রশাসক দলের কোনও সদস্য অংশগ্রহণ করে থাকলে তিনিও অন্যান্য বোর্ড সদস্যদের মতো সম্মানী প্রাপ্য হতে পারেন। এ ক্ষেত্রেও নিয়মের কোনও ব্যত্যয় হয়নি।
বোট ক্লাবে প্রশাসকের জন্মদিন পালনের অভিযোগ প্রসঙ্গে
অপপ্রচার করা হচ্ছে, নগদের অর্থ খরচ করে বোট ক্লাবে প্রশাসকের জন্মদিন পালন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা তথ্য। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, বোট ক্লাবে নগদের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের গেট-টুগেদার অনুষ্ঠিত হয় এবং ওই অনুষ্ঠানের বিল প্রশাসক নিজে পরিশোধ করেন। ওই অনুষ্ঠানে নগদের কোনও ধরনের আর্থিক সংশ্লিষ্টতা নেই। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের মে মাসে নগদ তার ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৪ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকা লেনদেন করে। ওই লেনদেনের রেকর্ড উপলক্ষে প্রশাসক নগদের সিনিয়র কর্মকর্তাদের নিয়ে কেক কেটে উদযাপন করেন; যার ছবি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায়ও প্রকাশিত হয়। ওই কেক কাটার ছবি একটি মহল অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে প্রশাসকের সম্মান হানীর অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।
প্রশাসকের ব্যক্তিগত খরচ নির্বাহের অভিযোগ প্রসঙ্গে
অপপ্রচার করা হচ্ছে, নগদ থেকে প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ তার গৃহপরিচারিকার বেতন নিয়েছেন এবং ব্যক্তিগত গাড়ির জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় পরিশোধ করেছেন। এটি সম্পূর্ণ একটি মিথ্য প্রচারণা। প্রকৃত সত্য হলো, একই গ্রেডভুক্ত অন্যান্য সরকারি চাকরিজীবীদের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুসারে নির্বাহী পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্যে এই সুবিধার বিধান রয়েছে। নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধান অনুসারেই তিনি এই সুবিধা পাপ্য। তিনি তার প্রাপ্য সুবিধা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর আবেদন করেছেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি মাসেই মো. মোতাছিম বিল্লাহর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার প্রাপ্য সুবিধা দেওয়া থাকে। এখানে নগদের কোনও ধরনের আর্থিক সংশ্লিষ্টতা নেই। অথচ প্রশাসক কর্তৃক বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রেরিত দুটি চিঠির ছবি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ব্যবহার করে প্রচার করা হচ্ছে যে, প্রশাসক নগদ থেকে গৃহপরিচারিকার বেতন নেওয়া বা ব্যক্তিগত গাড়ির জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় পরিশোধ করেছেন– যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উল্লেখ্য, অবৈধভাবে ব্যবহৃত চিঠি দুটির ছবি থেকেও পরিষ্কার বোঝা যায়, এগুলো প্রশাসক বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর পাঠিয়েছেন। তারপরও প্রশাসকের নেতৃত্বে নগদের রেকর্ড লেনদেন ও পুনরুত্থানকে বিনষ্ট করার হীন উদ্দেশ্যে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল প্রশাসকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।
ব্যক্তিগত গানম্যান বা দেহরক্ষী রাখা প্রসঙ্গে
প্রশাসক কর্তৃক ব্যক্তিগত গানম্যান বা দেহরক্ষী রাখার বিষয়টি বিকৃতভাবে উপস্থাপনও নগদ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, নগদের পূর্বাতন প্রশাসক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান দিদারের ওপর নগদে প্রশাসনিক দায়িত্বপালনরত অবস্থায় দুর্বৃত্তকারীরা হামলা করেছে। এছাড়াও প্রশাসক দলকে দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ মাধ্যমে হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসকের নিরাপত্তার জন্য একজন গানম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়।
সর্বোপরি নগদ কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে পুনঃব্যক্ত করছে, প্রশাসক নগদ থেকে কোনও ধরনের নিয়মবহির্ভুত আর্থিক বা অনার্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন নাই। এ বিষয়ে কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যে কোনও জিজ্ঞাসাকে নগদ কর্তৃপক্ষ স্বাগত জানায় এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।