ডাক পাওয়ায় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে নিজের দায়িত্ব আরো বেড়ে গেছে বলে মত তার। বাংলা ট্রিবিউনকে এই গোলকিপার বললেন সেই কথা, ‘গোলবারের নিচে দাঁড়ানোটা সবসময়ের জন্য আমার কাছে চ্যালেঞ্জের। আসলে নিজের সঙ্গে কমিটমেন্ট থাকে সেরাটা দিতে হবে। নিজের দায়িত্বটা পালন করতে হবে। এখন সাফে নেপালের বিপক্ষে সোহেলের ওই ভুলটার পর বঙ্গবন্ধু কাপে সবার দৃষ্টি থাকবে। এখন যেই গোলবারের নিচে দাঁড়াবে, তাকে আরো সতর্ক হয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।যদি কোচ আমাকে সুযোগ দেয় তাহলে সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবো।’
সাফের সেই ঘটনার পর বাড়তি কোন চাপ নিচ্ছেন না রানা। নির্ভার হয়ে আগের মতোই নিজের কাজটি করার ইচ্ছা তার, ‘আমি কোন চাপ নিচ্ছি না। ভালো করতে হবে নিঃসন্দেহে। গোলকিপারদের অতিরিক্ত দায়িত্ব নিতে হয়। এশিয়ান গেমসে ভালো ফল হয়েছে। দেখা যায় গোলকিপাররা ভালো খেললে সেই ম্যাচে ইতিবাচক ফল হয়।’
সোহেলের ভুলে অবশ্য নেতিবাচক দৃষ্টিভিঙ্গ নেই রানার। তার ঢাল হয়েই কথা বললেন। একই সঙ্গে এমন ভুলের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে চান তিনি নিজেও, ‘সোহেলের ভুলটা আমিও করতে পারতাম। ভুল তো ভুলই। কেউ তো ইচ্ছে করে ভুল করে না। যখন খেলে তখন সেরাটা দিয়ে খেলে। তাই আমি গোলবারের নিচে কোন ভুল করতে চাই না। সাফে ব্যর্থ হতে হয়েছে। এখন বঙ্গবন্ধু কাপে ভালো সুযোগ এসেছে নিজেদের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের। এই সুযোগ নষ্ট করতে চাই না। যে করেই হোক পারফরম্যান্স দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’
২০১৫ থেকে জাতীয় দলে নিয়মিত খেলে যাচ্ছেন আশরাফুল ইসলাম রানা। একসময় সেনাবাহিনীতে ফুটবল খেলেছেন। তারপর চাকরি ছেড়ে দিয়ে পুরোদস্তুর পেশাদার ফুটবলার। ঘরোয়া ফুটবলের পাশাপাশি জাতীয় দলেও নিজেকে যোগ্য করে তুলেছেন। নিচ থেকে খেলোয়াড়দের দিক-নির্দেশনাও দিয়ে থাকেন। রানা অবশ্য সেই অভিজ্ঞতার কথা বললেন নিজের মুখে, ‘অনেক সময় ডিফেন্ডাররা জায়গা মতো থাকেন না। আমার পজিশন থেকে তা দেখতে পেলে তখন ঠিক করে দিই। যেন ওরা পজিসন ভুল না করে। এতে দলও রক্ষা পায়। আর গোলকিপারের জন্য ভালো হয়। এছাড়া দলকে উজ্জ্বীবিত করতেও ভুল করি না।’