অভিষেকেই প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বসুন্ধরা কিংস। গত মৌসুমে এসে তিনটি প্রতিযোগিতায় শিরোপা জিতেছে দুটি। অন্যটিতে রানার্সআপ। এমন সাফল্যে দলটির দেশের বাইরেও খেলার সুযোগ এসেছে। এখন প্রথমবারের মতো এএফসি কাপে অভিষেকের অপেক্ষায়।
তার আগে দ্বিতীয়বারের মতো প্রিমিয়ার লিগ জেতার হাতছানি। বসুন্ধরা কি পারবে আবারও লিগের ট্রফি ছুঁয়ে উল্লাসে মাততে?
এমন প্রশ্নের সামনে আত্মবিশ্বাসী দলের কোচ থেকে খেলোয়াড়সহ কর্মকর্তারা। এমন আত্মবিশ্বাসের কারণ? আগের চেয়ে যে আরও বেশি শক্তিশালী দল বসুন্ধরা! এমনিতেই ক্লাবটি জাতীয় দলের এক ঝাঁক খেলোয়াড় নিয়ে গতবার যাত্রা শুরু করেছিল। এবার সেই দল আরও কয়েকজনকে যোগ করে নিজেদের শক্তি বাড়িয়ে নিয়েছে। গতবার লিগ চ্যাম্পিয়ন হলেও তাদের রক্ষণ নিয়ে দুর্বলতা ছিলই। সেই ঘাটতি পূরণে এবার তারা জাতীয় দলের দুই স্তম্ভ তপু বর্মণ ও ইয়াসিন খানকে দলে ভিড়িয়েছে। এছাড়া বিপলু আহমেদ-রবিউল হাসানকে নিয়ে মধ্যমাঠ আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী।
শুধু কী তাই? বিদেশি সংগ্রহও তো দেখার মতো। কোস্টারিকার বিশ্বকাপ তারকা দানিয়েল কোলিনদ্রেস খেলছেন। আর্জেন্টিনার দেলমন্তে, তাজিকিস্তানের আখতাম নাজারভ ও কিরগিজস্তানের বখতিয়ার দুইশভেকব আছেন।
এদের সঙ্গে লিগের দ্বিতীয় পর্বে খেলার জন্য আগেভাগেই এসেছেন আর্জন্টিনার জাতীয় দলে খেলা স্ট্রাইকার হার্নান বার্কোস। কোচ হিসেবে ভরসা স্পেনের অস্কার ব্রুজন। গতবার তিনটির মধ্যে দুটি প্রতিযোগিতায় ট্রফি জেতার নেপথ্যে ছিলেন এই কোচ। এবার তিনটি প্রতিযোগিতাতেই পাখির চোখ রেখে এগিয়ে যাচ্ছে বসুন্ধরা।
তারমধ্যে মৌসুম শুরুর ফেডারেশন কাপের শিরোপা জিতে আগামী বছরের এএফসি কাপও নিশ্চিত করে রেখেছে দলটি! এখন তাদের লক্ষ্য লিগের দ্বিতীয় ট্রফি। ব্রুজন সেই লক্ষ্যেই নিজেদের মাঠে অনুশীলনে মগ্ন। বাংলা ট্রিবিউনকে বললেন সেই কথাই, ‘আমাদের সামনে এখন লিগ ট্রফি জেতার হাতছানি। সেই লক্ষ্যে দল অনুশীলন করছে। আমি মনে করি আমরা আবারও ট্রফি জিততে পারবো। তবে হ্যাঁ কাজটি হয়তো সহজ হবে না। এবার অন্যদলগুলো কম শক্তিশালী নয়।’
বসুন্ধরা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পছন্দ করে। ৪-৩-৩ ফরমেশনে অনেক সময় দুই সেন্টার ব্যাক উপরে উঠে আক্রমণে যোগ দেয়। তাতে করে প্রায়ই মাঝ মাঠ ডায়মন্ড আকারও ধারণ করে।
অনেক সময় প্রতি আক্রমণে গোলও হজম করে দলটি। ব্রুজন তাই খুব সাবধানি, ‘প্রতিটি দলের ভালো ও খারাপ দিক আছে। আমরা যখন আক্রমণে উঠি, তখন অনেক সময় ডিফেন্স কিছুটা অরক্ষিত থেকে যায়। এবার অন্তত তা হতে দিতে চাই না। তপু ও ইয়াসিন দেশের সেরা ডিফেন্ডার। তাদের নিয়ে রক্ষণ সাজানো হয়েছে। আশা করছি আমরা গোল করার পাশাপাশি নিজেদের ডিফেন্স লাইনও অটুট থাকবে।’
তবে লিগ শুরুর আগে ইনজুরির কবলে রয়েছে বসুন্ধরা। বিপলু আহমেদ, মতিন মিয়া ও মাশুক মিয়া জনি লিগের শুরুতে খেলতে পারবেন কিনা-এ নিয়ে সংশয় আছে। তবে দলটির ব্যাকআপ খেলোয়াড়ও কম নয়। ব্রুজন তাই বলেছেন, ‘আমার প্রতিটি পজিশনে একাধিক খেলোয়াড় আছে। বড় কোনও সমস্যা হবে না। মতিন ও বিপলু শিগগিরই মাঠে ফিরতে পারবে। জনির কিছুদিন সময় লাগবে।’
দলটির অধিনায়ক দানিয়েল কোলিনদ্রেসও লিগ জিততে মরিয়া, ‘আমরা ফেডারেশন কাপ জিতেছি। এবার লিগের ট্রফি ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামতে হবে।’
এখন টানা লিগ জিততে পারলে বসুন্ধরা কিংসের নতুন অর্জনই হবে।