আগের দিন থেকেই উত্তেজনায় কাঁপছিলেন নাসুম

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ও ওয়ানডে ফরম্যাটে আগেই জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০০৫ সালে কার্ডিফে আশরাফুলের কাব্যিক ইনিংসের অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর ২০১৭ সালে সাকিবের অলরাউন্ড পারফর‌ম্যান্সে আসে টেস্টের প্রথম জয়। বাকি ছিল টি-টোয়েন্টি। মঙ্গলবার সেই আক্ষেপও দূর হয়েছে।

নাসুমের স্পিন ঘূর্ণির সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করা সফরকারীরা হেরেছে ২৩ রানের ব্যবধানে। অথচ বাংলাদেশকে প্রথম জয় উপহার দেওয়া নাসুম আহমেদ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন উত্তেজনায় কাঁপছিলেন।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিনেই নাসুমকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল তিনি আছেন একাদশে। কোচের কাছ থেকে এমন কথা শুনেই উত্তেজনায় কাঁপছিলেন বাঁহাতি এই স্পিনার। ম্যাচ সেরার পুরষ্কার হাতে নাসুম জানালেন সেই কথা, ‘কালকে যখন নেটে বল করছিলাম তখন কোচ আমাকে বলল যে কাল (মঙ্গলবার) তুমি খেলবে। তাই তোমার ওপর অনেক দায়িত্ব। সেখান থেকেই আমি ভাবছিলাম খেললে আমি কী করবো, কী করবো। অনেক উত্তেজিত ছিলাম। ’

হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন নাসুম। কিন্তু ৩৭ রান খরচ করে ছিলেন উইকেটশূন্য। ব্যর্থতার কথা মনে করে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংকল্পবদ্ধ ছিলেন ২৬ বছর বয়সী এই স্পিনার, ‘শেষ একটা ম্যাচে একটু বাজে বল করেছি। তো যখন আমরা ১৩১ করেছি, তখন নামার আগে রিয়াদ ভাই বলছিল আমরা এ রানেই ফাইট করবো, ডট বল করবো, যতটুকু পারি চেষ্টা করবো জেতার জন্য। আমার পরিকল্পনাও ছিল ডট বল।’

ম্যাচের নায়ক নাসুমকে দ্বিতীয় বলেই ছক্কা হজম করতে হয়েছিল। পরে অবশ্য নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছিলেন এই স্পিনার। শেষ পর্যন্ত ৪ ওভারে ১৯ রান খরচায় তুলে নিয়েছেন চারটি উইকেট। এমন সাফল্যে সাকিবের পরামর্শ কাজে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন নাসুম, ‘যখন প্রথম দুটো বল করলাম ব্যাক অব লেন্থে তখন সাকিব ভাই আমাকে বললেন, এই উইকেটে আস্তে বলটাই ভালো এবং সামনে করলে ভালো হয়। তো ওটাই চেষ্টা করেছি। চারটা ওভার যে করেছি সবসময়ই সাকিব ও রিয়াদ ভাই আমার সঙ্গে কথা বলেছে।’

১৩১ রান করার পরও বাংলাদেশের ভাবনায় জয় ছাড়া কিছু ছিল না। সংবাদ সম্মেলনে নাসুম জানালেন, ‘আমরা যে রান করছি ওটাতে ডিফেন্ড করা সম্ভব ছিল। আমাদের চেষ্টাও ছিল সেই সঙ্গে উইকেটেও সাহায্য ছিল। সবার ইচ্ছা ছিল ভাল কিছু একটা করে দেখানোর। আর ওই ইচ্ছার কারণে আমরা সফল হয়েছি।’