পুরো আইপিএলের জন্য এনওসি পাচ্ছেন সাকিব?

৩১ মার্চ থেকে  শুরু হচ্ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। কিন্তু জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচির কারণে সাকিব আল হাসানসহ বাকি দুই ক্রিকেটার লিটন দাস ও মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রাথমিকভাবে ২৪ দিনের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিয়েছিল বিসিবি। তবে সাকিবের চাওয়া ছিলো পুরো মৌসুম খেলবেন। এই অবস্থায় বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন স্পষ্ট জানিয়েও দিয়েছিলেন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট বাদ দিয়ে আইপিএলে যাওয়ার কোনও সুযোগ দেখেন না তিনি। সোমবার হুট করেই খবর চাউর হয় পুরো মৌসুমের জন্য অনাপত্তিপত্র পেতে যাচ্ছেন সাকিব। যদিও এ ব্যাপারে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুসের কাছ থেকে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আয়ারল‌্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুরে টেস্ট খেলার পরই মূলত আইপিএলে খেলতে পারবেন সাকিব। তবে মে মাসে ইংল‌্যান্ডে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ফিরতে হবে তাকে। এই নিয়ম কেবল সাকিবের জন্যই নয়। লিটনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে মোস্তাফিজ টেস্ট না খেলায় ৮ দিন বেশি সময় পাবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সাকিব আইপিএলের পুরো মৌসুম খেলতে বোর্ডকে নানাভাবে বুঝিয়েছেন। শীর্ষ এক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, সাকিব নানা ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করছেন এটাই তার শেষ আইপিএল। পরেরবার হয়তো আর খেলা হবে না। এই কারণে পুরো মৌসুমের জন্য খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সাকিব। যদিও তার এমন আগ্রহের ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বিসিবি। 

বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান জানিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চলাকালে আইপিএল খেলার কোনও সুযোগ দেখেন না তিনি, ‘না থাকার (বাংলাদেশের খেলার সময় এভেইলেবল) আমি কোনও অপশনই দেখি না। এইটা যদি এমন হতো ওদেরকে বলেছি যে ভেবে চিন্তে দেখতেও পারি- এরকম কোন অপশন দিয়েছি খেলোয়াড়দের বা আইপিএলকে, তাহলে সন্দেহ থাকতো। আমরা তো পরিষ্কার বলেই দিয়েছি।’

এদিকে হাথুরুসিংহেও বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত পোষণ করে বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি, বোর্ডও চায় দেশের জন্য খেলা আগে। আর নিলামে নাম তোলার আগে তাদেরকে একই বার্তা দিয়েছে বোর্ড। সিদ্ধান্ত পাল্টায়নি।’

সাকিবের আইপিএলের পুরো মৌসুম খেলা নিয়ে বোর্ড প্রধান ও প্রধান কোচ দ্বিমত পোষণ করলেও সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা মনে করেন সাকিবকে পুরো মৌসুমের জন্যই ছেড়ে দেওয়া উচিত। গত সোমবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে সংবাদ মাধ্যমকে মাশরাফি বলেছেন, ‘আমরা অনেক প্লেয়ারকে চেঞ্জ করে খেলাচ্ছি। খেলাচ্ছি না তা তো না। ওদের যখন ভালো জায়গায় সুযোগ হয়, তখন বারবার আটকানো তো ঠিক না। ওরা যদি মন থেকে যেতে চায় তাহলে... হোয়াই নট? আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে যেহেতু টেস্ট ম্যাচ আমার মনে হয়, আমাদের এটা ম্যানেজ করার এবিলিটি আছে। পৃথিবীর অন্যান্য কোনও দেশ তো কোনও ক্রিকেটারকে আটকাচ্ছে না। আমরা শুধু শুধু ইমোশনাল হয়ে তো লাভ নেই।'

সাকিবের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে গেলে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে বোর্ডকে। কেননা সেক্ষেত্রে লিটন ও মোস্তাফিজ এই সিদ্ধান্তকে কীভাবে নেবেন- এমন প্রশ্ন থেকে যায়। আবার লিটন-সাকিবকে ছেড়ে দিলে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে দুর্বল হয়ে পড়ে স্কোয়াড। অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক ছাড়া টেস্টে খারাপ ফল হলে সমালোচনায়ও পড়তে হবে বোর্ডকে। সবকিছু মিলিয়ে উভয় সংকটে বিসিবি! 

যদিও জানা গেছে সাকিবের চাওয়া অনুযায়ীই বোর্ড শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে! তবে পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান কী সিদ্ধান্ত দেন। এই মুহূর্তে তিনিও আছেন উভয়সংকটে। কেননা কয়েকদিন আগেই তিনি জানিয়েছিলেন কোনোভাবেই ২৪ দিনের বেশি এনওসি বা অনাপত্তিপত্র পাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। এখন যদি সাকিবকে পুরো মৌসুমের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে বোর্ড প্রধানের কথার গুরুত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠবে!