ওমান ও বৃষ্টিকে হারিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে টাইগাররা

236717.3আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু করে চমক দেখিয়েছিল ওমান। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ওমানের অধিনায়ক সুলতান আহমেদ জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশকেও চমকে দিতে চান তারা। তবে এদিন প্রথমবারের মতো কোনও বিশ্বকাপ খেলতে আসা দলটিকে ব্যবধান বুঝিয়ে দিল বাংলাদেশ। কিংবা বলা যায়, ব্যবধানটা একাই বুঝিয়ে দিলেন তামিম ইকবাল। এদিন টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে তামিমের ৬৩ বলে ১০৩ রানের টর্নেডো ইনিংসে বাংলাদেশ ১৮০ রানের বিশাল পুঁজি সংগ্রহ করে। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শতক হাঁকান তামিম।

বাংলাদেশের ইনিংসে বৃষ্টি হানা না দিলেও ওমানের ইনিংসে হানা দেয়। দুবার খেলা বন্ধ থাকার পর বৃষ্টি আইনের মার-প্যাঁচে ওমানের টার্গেট দাঁড়ায় ১২ ওভারে ১২০ রান। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ১২ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৬৫ রান করতে সক্ষম হয় ওমান। ফলে ৫৪ রানের জয় নিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে ওঠে টাইগার বাহিনী।

রবিবার রাতে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান ওমানের অধিনায়ক সুলতান আহম্মেদ। এদিন যেন শুরু থেকে স্বস্তিতে ছিলেন না সৌম্য সরকার। কিছুতেই যেন টাইমিং মেলাতে পারছিলেন না তিনি। অবশেষে ৬.৫ ওভারে দলীয় ৪২ রানে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন সৌম্য । ২২ বলে মাত্র ১২ রান করে লালচেতার বলে বোল্ড হন সৌম্য!
সৌম্য আউট হলেও বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমান। দ্রুত রান তোলা শুরু করেন এ দুজন। তামিম-সাব্বির ৯.১ ওভারে ৯৭ রনের পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। ষোলোতম ওভারের শেষ বলে দলীয় ১৩৯ রানে খাওয়ার আলির বলে দুর্ভাগ্যজনকভাবে বোল্ড হন সাব্বির। আউট হওয়ার আগে ৫ চার ও ১ ছয়ে ২৬ বলে ৪৪ রান করেন ইনফর্ম এই ব্যাটসম্যান।

এরপরও থেমে থাকেননি তামিম।  ৬০ বলে টি-টোয়েন্টিতে প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে শতক আদায় করে নেন তামিম। শেষ পর্যন্ত ৬৩ বলে ১০৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। সাকিব আল হাসান ৯ বলে ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে বাংলাদেশ ১৮০ রান সংগ্রহ করে।সেঞ্চুরির পর তামিমের উদযাপন

১৮১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ওমান। প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে দলীয় ১ রানে আউট হন জিসান মাকসুদ (০)। তাকে মাহমুদউল্লাহর হাতে ক্যাচে পরিণত করেন তাসকিন। ৩.২ ওভারে ১৪ রানের মাথায় আউট হন খাওয়ার আলি (৮)। আল আমিনের বলে মাশরাফির হাতে ক্যাচ তুলেন তিনি।

৭ ওভারে ৪২ রানের মাথায় ফের হানা দেয় বৃষ্টি। প্রায় ৫০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। বৃষ্টি থামলে খেলা শুরু হয়। বৃষ্টি আইনে ১৬ ওভারে ওমানের টার্গেট দাঁড়ায় ১৫৪ রান।

খেলা শুরু হলে রান আউটের শিকার হন আদনান ইলিয়াস। এরপরই আঘাত হানেন সাকিব। তার বলে মুশফিকের হাতে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন আমির কলিম (০)। ৮.২ ওভারে ৪৫ রানে চার উইকেট হারায় ওমান। এরপরই ফের হানা দেয় বৃষ্টি। আবারও কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। খেলার শুরু হলে ১২ ওভারে ওমানের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১২০ রান। ম্যাচ জিততে ২২ বলে তাদের প্রয়োজন ৭৫ রান!

কিন্তু রান রেটের গতি বাড়াতে পারেনি ওমানের ব্যাটসম্যানরা। নবম ওভারের পঞ্চম বলে ফের আঘাত হানেন সাকিব। আমির আলিকে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। ৫০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে তখন হ‌‌‌ারের অপেক্ষায় ওমান। ১১তম ওভারে জোড়া আঘাত হানেন সাকিব। আউট করে মেহরান খান ও সুলতান আহমেদকে।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ১২ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৬৫ রান সংগ্রহ করে ওমান। ফলে ৫৪ রানে ম্যাচ জিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্ব নিশ্চি করে বাংলাদেশ। টাইগারদের হয়ে চারটি উইকেট নিয়েছে সাকিব। একটি করে উইকেট নিয়েছেন তাসকিন, আল আমিন ও মাশরাফি।

/এমআর/এমএনএইচ/