তাসকিন নিষিদ্ধ হওয়ায় পশ্চিম বাংলাও সমব্যথী

তাসকিনপশ্চিম বাংলায় বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় দুজন হচ্ছেন আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে মাঠ মাতানো বাংলাদেশি সাকিব আল হাসান ও ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান সুনীল নারাইন। সম্প্রতি বাংলাদেশ দলে উঠতি তারকা তাসকিনও জয় করে নিয়েছিলেন ভারতীয়দের মন।

একে তো গতি তার ওপর তাসকিনের গ্ল্যামার, সব মিলিয়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছিলেন সুদর্শন এই ক্রিকেটার। বিশ্বমঞ্চে এই বাঙালি সন্তান যখন নিজের জাত চেনাচ্ছিলেন ঠিক তখনই তাকে নিষিদ্ধ করলো আইসিসি। ক্রীড়ামোদীদের অনেকেই মনে করছেন তাসকিনকে নিষিদ্ধ করা আসলে বিশ্ব ক্রিকেটের ওপরই খাড়া।

ক্রীড়া বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উচিৎ আইসিসির সাবেক সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামালের শরণাপন্ন হওয়া। আইসিসিতে তার একটা অন্য জায়গা রয়েছে, প্রভাব রয়েছে। আইনগত দিক থেকে এগুনোর পাশাপাশি বিসিবির উচিৎ ক্রিকেট কূটনীতি জোরদার করা। সে উদ্যোগটা নিতে হবে বিসিবির বর্তমান সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে। তিনি ও মুস্তফা কামাল মিলে যৌথভাবে আইসিসিতে বিষয়টি নিয়ে প্রভাব সৃষ্টি করতে পারেন। পাকিস্তান যেভাবে স্পিড স্টার শোয়েব আখতারকে চাকিংয়ের অভিযোগ থেকে ফিরিয়ে এনেছিল। ঠিক সেভাবে আইনি রাস্তায় হাঁটার পাশাপাশি বিসিবিকে কুটনীতিক পথেও হাটতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গের ক্রিকেটপ্রেমীরা তাসকিনকে ওভার অল এশিয়া কাপ থেকে ভালোবেসে ফেলেছেন। আইসিসির নিয়ম-কানুনে খুব একটা সন্তুষ্ট নন তারা। আইসিসি'র চাকার বের করার যে পদ্ধতি অনুসরণ করছে তা নিয়েই সংশয় আছে তাদের। আপামর ক্রিকেটমোদীরা মনে করছেন চাকার বের করার যে পদ্ধতি তার মধ্যে স্বচ্ছতা থাকা উচিৎ । কোন পদ্ধতিতে, কিভাবে একজন চাকারকে খুঁজে বের করা হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা উচিৎ।

আইসিসি'র প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ক্ষোভের একটি বড় কারণ হলো সুনীল নারাইন। আপামর জনতার মতে ১৫ ডিগ্রি আবার কী! তাদের দাবি সব মিলিয়ে চাকিং সম্পর্কে আইসিসির নির্দিষ্ট কোনও স্বচ্ছতা নেই এটা পরিস্কার। সুনীল নারাইনকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে অনেককে শ্রীনিবাসনের ষড়যন্ত্রও দেখেছেন। চেন্নাই সুপার কিংসে না হয়ে কলকাতার হয়ে খেলাতেই শ্রীনি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেন বলে অভিযোগ অনেকের।

এদিন কলকাতায় বাংলাদেশের প্রশংসা করলেন সাবেক পাক ক্রিকেটার ইমরান খান। তিনি জানান, বাংলাদেশ টিমের ওপর ভরসা ক্রমশ বাড়ছে। বেঙ্গালুরুতে স্পিন সহায়ক উইকেট করলে ভারত ভুল করবে। কারণ বাংলাদেশের হাতে পাকিস্তানের চেয়েও ভালো স্পিনার আছে। স্পিনিং উইকেট তৈরি করে বাংলাদেশকে বিপদে ফেলা যাবে না। ‌

তা বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক হাল-হকিকত জানেন না বা মুস্তাফিজ তাসকিনদের সম্পর্কে কোনও খোঁজ খবর রাখেন না বলেই হয়তো অমনটা বলছেন তিনি!

কলকাতাবাসী মনে করছে তাসকিন নিষিদ্ধ হওয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেটে কিছুটা হলেও জৌলুসহীন হয়ে গেল। তাদের মতে, এতদিন ধরে তাসকিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন কোনও সমস্যা পাওয়া গেল না। হঠাৎ করে গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট চলার সময় জানা গেল তার অ্যাকশন অবৈধ, তা গ্রহণযোগ্য নয়। এত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার পর হঠাৎ করে এমন অভিযোগ একেবারে অনভিপ্রেত।

ওপার বাংলার সাবেক বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারে সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তারা মনে করেন, টাইগারদের সবচেয়ে গতিসম্পন্ন বোলার তাসকিন। তার মধ্যে বাংলাদেশে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিহিত। গবেষণাগারে রুটিন মানা পরীক্ষায় কোনটা ১৫ ডিগ্রি আর কোনটা নয়, সে বিষয়ে বিস্তর অভিযোগ তাদের। তাসকিনকে নিষিদ্ধের ঘটনায় আইসিসি'র প্রতি তাদের পুরনো গরল ফের বেরিয়ে এলো।

/এমআর/