স্টোকসের যে প্রস্তাবে হচ্ছে বিতর্ক

ওল্ড ট্র্যাফোর্ড টেস্ট ড্র হলেও শেষ বেলায় ঘটেছে নাটকীয় ঘটনা। খেলা শেষের ঘণ্টা খানেক আগে টেস্ট ড্র মেনে নেওয়ার প্রস্তাব দেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস। তিনি হাত বাড়িয়ে দিলেও তখন ব্যাট করতে থাকা রবীন্দ্র জাদেজা ও ওয়াশিংটন সুন্দরের কেউ তাতে সায় দেননি। কারণ দুজনেই তখন সেঞ্চুরির কাছে ছিলেন। 

লাঞ্চের আগে ব্যাট করতে নামা দুই বামহাতি তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। ৫৫.২ ওভার ব্যাট করে জুটি গড়েন ২০৩ রানের। জাদেজা ব্যাট করছিলেন ৮৯ রানে, সুন্দর ৮০ রানে। ঠিক এমন সময়ে ড্রয়ের প্রস্তাব দেওয়াকে কৌশলের অংশ মনে করছেন অনেকে। যা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ম্যাচ শেষে ওই সময়ের ঘটনা নিয়ে পরে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন স্টোকস। তার মতে, সেঞ্চুরি না পেলেও ওই সময় ড্র মেনে নিলে কোনওভাবেই দুই ব্যাটারের কৃতিত্ব কমে যেত না। কিন্তু ওয়াশিংটন প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পাওয়ার কাছে ছিলেন। জাদেজার ছিল পঞ্চম সেঞ্চুরি। তাই আরও ৫ ওভার ব্যাট করেন সেই মাইফলক পূরণের আশায়। শেষ পর্যন্ত সুন্দর অপরাজিত থাকেন ১০১ রানে, জাদেজা ১০৭ রানে। তাদের ব্যাটেই সিরিজ ২-২ ব্যবধানে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে স্টোকস বলেন, ‘যে ইনিংসটা ওরা খেলেছে, সেটা খুব, খুব ভালো ছিল। যে পরিস্থিতিতে ভারত ছিল, যেখানে আমরা খানিকটা ম্যাচের দরজা খুলে দিয়েছিলাম, সেই সময় ওদের পার্টনারশিপটা ছিল বিশাল। কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে বাধ্য, ওরা দারুণ খেলেছে—অসাধারণভাবে।’

ওই সময় ড্রয়ের প্রস্তাব দেওয়া নিয়ে তার যুক্তি, ‘আমার মনে হয় না ১০ রান বেশি করে শতকে পৌঁছানোতে আলাদা কোনও তৃপ্তি থাকবে, যতটা তৃপ্তি পাওয়া যায় ৮০ বা ৯০ রান নিয়ে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়ার মধ্যে, যখন আপনি আপনার দলকে একটা কঠিন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করেছেন। আপনি যেটা দলের জন্য করেছেন, সেটাই আসল কথা। ওই ১০ রান কম-বেশি তেমন কিছু বদলাবে না। কারণ আপনি এমন এক পরিস্থিতি থেকে দলকে টেনে বের করেছেন, যেটা সিরিজ হার হয়ে যেতে পারতো শেষ ম্যাচের আগেই।’

এক্ষেত্রে অবশ্য একমত নন ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীর। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘কেউ যদি ৯০, আরেকজন ৯৫ রানে ব্যাট করে তাহলে কি তাদের সেঞ্চুরিটা প্রাপ্য নয়? ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রেও এমনটা হলে তারা কি চলে যেতো?’