প্রথম ওয়ানডেতে আফগানদের কাছে বাংলাদেশের হার

প্রথম ওয়ানডে- সংক্ষিপ্ত স্কোর: আফগানিস্তান ৪৭.১ ওভারে ২২৬/৫ (নবী ১১*, শহীদী ৩৩*; ইব্রাহিম ২৩, অটল ৫, রহমত ৫০, গুরবাজ ৫০, ওমরজাই ৪০)

ফল: আফগানিস্তান ৫ উইকেটে জয়ী। 

বাংলাদেশ ৪৮.৫ ওভারে ২২১/১০ (তাসকিন ৪*; তানজিদ ১০, শান্ত ২, সাইফ ২৬, হৃদয় ৫৬, মিরাজ ৬০, জাকের ১০, নুরুল ৭, হাসান ৫, তানজিম ১৭, তানভীর ১১)

আবু ধাবিতে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাটিং ব্যর্থতার মাশুল দিলো বাংলাদেশ। আফগানগানিস্তানের কাছে প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেটে হেরেছে। তাতে ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেছে আফগানিস্তান। 

মিরাজরা ২২২ রানের মামুলি দিলেও সেই লক্ষ্য তাড়া করতে কষ্ট করতে হয়েছে আফগানদের। বাংলাদেশ বল হাতে চাপ তৈরির চেষ্টা করেছিল। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭ বল হাতে রেখে লক্ষ্য তাড়া করেছে হাশমতউল্লাহ শহীদীরা। 

৫২ থেকে ৫৮ রানে দ্রুত ২ উইকেট পতনের পর আফগানদের ভিত গড়েন মূলত রহমত শাহ ও রহমানউল্লাহ গুরবাজ। তৃতীয় উইকেটে ৭৮ রান যোগ করেন তারা। ১৩৬ রানে এই দুটি উইকেট তুলে মোমেন্টাম তৈরির চেষ্টা করেছিলেন তানজিম হাসান ও মেহেদী হাসান। তার পর বাংলাদেশ চাপ তৈরি করলেও পরে সেটা ভালোভাবেই কাটান হাশমতউল্লাহ শহীদী ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই। ৫৯ রানের জুটিতে দলকে জয়ের কাছে পৌঁছে দেন তারা। ওমরজাই দ্রুত রান তুলে ৪০ রানে ফিরলে ৪৭.১ ওভারে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন মোহাম্মদ নবী (১১) ও হাশমতউল্লাহ শহীদী (৩৩)। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে অবদান রাখায় ম্যাচসেরা ওমরজাই।

৩১ রানে ৩ উইকেট নেন তানজিম হাসান সাকিব। একটি করে নেন তানভীর ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। 

ওমরজাইকে ফিরিয়ে ‍জুটি ভাঙলেন তানজিম

রহমত-গুরবাজকে দ্রুত ফিরিয়ে ছন্দপতন ঘটিয়েছিল বাংলাদেশ। তার পর হাশমতউল্লাহ শহীদী ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই জুটি গড়ে বাংলাদেশকে হতাশ করেছেন। ব্যবধান কমিয়ে আনেন তারা। ৫৯ রানের সেই জুটি ভেঙেছেন তানজিম হাসান সাকিব। দ্রুত গতিতে রান তুলতে থাকা ওমরজাইকে তানভীর ইসলামের তালুবন্দি করান তিনি। এটি ছিল তানজিমের তৃতীয় শিকার।  তাতে ৪৪ বলে ৪০ রানে আউট হন ওমরজাই। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ১টি ছয়।   

রহমত-গুরবাজকে ফিরিয়েছে বাংলাদেশ

৫৮ রানে দ্বিতীয় উইকেট নেওয়ার পর আর উইকেটই ফেলতে পারছিলো না বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৩০.১ ওভারে এসে রহমত শাহ ও রহমানউল্লাহ গুরবাজের তৃতীয় উইকেট জুটি ভেঙেছেন তানজিম হাসান সাকিব। ফিফটি করা রহমত শাহকে ক্যাচ আউটে ফিরিয়েছেন তিনি। তাতে ভেঙেছে ৭৮ রানের জুটি। রহমতের ৭০ বলে করা ৫০ রানের ইনিংসে ছিল ২টি চার। 

পরের ওভারে ফিফটি করা গুরবাজকে বোল্ড করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। গুরবাজ ৭৬ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় ৫০ রানে ফিরেছেন। তাতে ১৩৬ রানেই দুটি উইকেট হারায় আফগানিস্তান।    

তানজিমের আঘাতে পড়লো দ্বিতীয় উইকেট

তানভীর শুরুর জুটি ভাঙার পর দ্বিতীয় উইকেট পেতে সময় লাগেনি বাংলাদেশের। নতুন ব্যাটার সেদিকুল্লাহ অটলকে দ্রুত ফিরিয়েছেন পেসার তানজিম হাসান সাকিব। তার বাউন্সারে পুরোপুরি পরাস্ত হন আফগান ব্যাটার। বল ব্যাটের কানায় লেগে জমা পড়ে স্লিপে থাকা তানজিদ হাসানের হাতে। অটল ১৫ বলে বিদায় নেন ৫ রানে। 

৫২ রানের জুটি ভাঙলেন তানভীর

২২২ রানের লক্ষ্যে দারুণ জবাব দিতে থাকে আফগানিস্তান। দুই ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান ও রহমানউল্লাহ গুরবাজ মিলে যোগ করেন ৫২ রান। ৯.৩ ওভারে এসে ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছেন বামহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম। তার ঘূর্ণিতে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে পরাস্ত হন ইব্রাহিম। সেই সুযোগে তাকে স্টাম্পড করেন নুরুল। ইব্রাহিম ২৫ বলে ২৩ রানে আউট হয়েছেন। তাতে ছিল ৪টি চার। 

বাংলাদেশকে আশা দেখাচ্ছিলো মিরাজ-হৃদয় জুটি।২২১ রানে শেষ বাংলাদেশের ইনিংস

প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে আবু ধাবিতে শুরুতে ব্যাটিং নিয়েও বেশি সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। ২২১ রানেই অলআউট হয়ে গেছে! অথচ ৫৩ রানে তিন উইকেট হারানোর পর হৃদয়-মিরাজের ১০১ রানের জুটি আড়াইশর বেশি স্কোর করার সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। কিন্তু হৃদয়-মিরাজ আউট হতেই ৩ উইকেটে ১৫৪ রান থেকে ২২১ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। যার পেছনে দায়ী রশিদ খানের ঘূর্ণি ও ওমরজাইর নিয়ন্ত্রিত পেস বোলিং।     

৩৮ রানে তিনটি উইকেট নেন রশিদ খান। ৪০ রানে ৩টি নেন ওমরজাইও। ৫৫ রানে দুটি নিয়েছেন এএম গজনফর। একটি নিয়েছেন নানগেলিয়া খারোটে। 

তানজিমের আউটে নেই নবম উইকেট

ব্যাটারদের ব্যর্থতার দিনে পেসার তানজিম সাকিব চেষ্টা করছিলেন বড় শট খেলে রান তুলতে। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৪৭.২ ওভারে তাকে ফেরান আজমতউল্লাহ ওমরজাই। ফেরার আগে ২৩ বলে ১ ছক্কায় ১৭ রান করেন তিনি।  

হাসানের আউটে পড়লো অষ্টম উইকেট

শেষ দিকে ব্যাটিংয়ে ধস নামায় কোনও কিছুইতেই আর কিছু হয়নি। দ্রুত সময়ে হাসান মাহমুদও (৫) আউট হন। তাকে দলের ২০৫ রানে তুলে নেন গজনফর। 

দুইশর আগেই সপ্তম উইকেট নেই বাংলাদেশের

ছন্দপতনে বাংলাদেশ শেষ দিকে এসে দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে। যার কারণ রশিদ খানের ঘূর্ণি। ৪৪.২ ওভারে তার তৃতীয় শিকারে পরিণত হন নুরুল হাসান সোহান (৭)। তাতে দুইশর আগেই সাত উইকেট হারায় বাংলাদেশ। 

জাকের আলীকেও ফেরালেন রশিদ

দুই সেট ব্যাটার হৃদয়-মিরাজ ফিরতেই ছন্দপতন হয়েছে ইনিংসে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আউট হয়েছেন জাকের আলীও। তাকে ১০ রানে লেগ বিফোরে বিদায় দেন রশিদ খান। তাতে ১৭৮ রানে পড়েছে ষষ্ঠ উইকেট। 

রশিদের দুইশতম শিকার মিরাজ

৩৭.১ ওভারে এলবিডাব্লিউ হয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। রিভিউ নিয়ে রক্ষা পেয়েছিলেন। পরের ওভারে রশিদ খানের ঘূর্ণিতে আর শেষ রক্ষা হয়নি। তাকে ৬০ রানে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন আফগান লেগ স্পিনার। মিরাজ রিভিউ নিয়ে এবার অবশ্য ব্যর্থ হয়েছেন। এটি ছিল রশিদের ২০০তম উইকেট। মিরাজের ৮৭ বলের ইনিংসে ছিল ১টি চার ও ১টি ছয়। 

১০১ রানের জুটি ভাঙলো হৃদয়ের রানআউটে

৫৩ রানে তৃতীয় উইকেট পতনের পর বাংলাদেশকে দারুণভাবে টেনে নিচ্ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাওহীদ হৃদয়। চতুর্থ উইকেটে ১০১ রান যোগ করেন তারা। দুর্ভাগ্যক্রমে ৩৫.২ ওভারে রানআউটে কাটা পড়েন হৃদয়। ফেরার আগে ৮৫ বলে ৫৬ রান করেন তিনি। তাতে ছিল ১টি চার ও ৩টি ছক্কা। 

হৃদয়-মিরাজের ফিফটি

৫৩ রানে তৃতীয় উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের ইনিংসকে স্থিরতা এনে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাওহীদ হৃদয়। চতুর্থ উইকেটে দারুণ জুটি গড়েন তারা। হৃদয় তো ক্যারিয়ারের দশম ফিফটিও তুলে নিয়েছেন ৭৫ বলে। কিছুক্ষণ পর মিরাজও ৭৪ বলে তুলে নেন সপ্তম হাফসেঞ্চুরি। 

অভিষেকে সাইফ আউট হলেন ২৬ রানে

২৫ রানে দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন ওপেনার সাইফ হাসান ও তাওহীদ হৃদয়। ২৮ রান যোগ করেছিলেন তারা। তাদের ব্যাটেই ১০ ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৫১। নানগেলিয়া খারোটে ১২তম ওভারে প্রথমবার আক্রমণে এলে তাকে মেরে খেলতে যান সাইফ। কিন্তু তার ফ্লাইটেড ফুলার লেংথের ডেলিভারি ঠিকমতো ব্যাটে সংযোগ ঘটাতে পারেননি। রশিদ খানের কাছে ক্যাচ দিয়ে অভিষেক ম্যাচে আউট হয়েছেন ২৬ রানে। তার ৩৭ বলের ইনিংসে ছিল ৫টি চার। বাংলাদেশ তৃতীয় উইকেট হারায় ৫৩ রানে। 

দ্রুত ফিরলেন শান্তও

তানজিদ হাসানের বিদায়ের পর নতুন নামা নাজমুল হোসেন শান্ত বেশি সুবিধা করতে পারেননি। এক ওভার পর ওমরজাইর দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি। অবশ্য শান্ত আলগা শট খেলেই বিদায় নিয়েছেন। একেবারে সহজ ক্যাচ তুলে দেন শহীদীর কাছে। ৫ বল খেলে শান্ত আউট হন ২ রানে। 

ওমরজাইর শিকার তানজিদ

অভিষিক্ত সাইফ হাসানের সঙ্গে ওপেনিং করতে নেমেছিলেন তানজিদ হাসান। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না। দলের ১৮ রানে চতুর্থ ওভারে আজমতউল্লাহ ওমরজাইর শিকার হয়ে ১০ রানে ফিরেছেন। তার ১০ বলের ইনিংসে ছিল দুটি চার।  

টসের মুহূর্তের ছবি। টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি সিরিজের শতভাগ সাফল্যের পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। আবুধাবিতে টস জিতে শুরুতে ব্যাটিং নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। 

টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে দুর্দান্ত ছন্দে আছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে টানা চারটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জিতেছে। এশিয়া কাপেও সুপার ফোরে পৌঁছে গিয়েছিল। যদিও ওয়ানডেতে চিত্রটা একেবারেই উল্টো।

গত বছরের নভেম্বর থেকে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ ছিল এই আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কা। সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে জয় এসেছিল ২০২৪ সালের মার্চে ঢাকায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।

একাদশে কারা

টি-টোয়েন্টি সাফল্যে ব্যাট হাতে অন্যতম পারফর্মার ছিলেন ওপেনার সাইফ হাসান। ওয়ানডেতে আজ তার অভিষেক হচ্ছে। আফগান দলেও অভিষেক হচ্ছে পেসার বশির আহমেদের। 

বাংলাদেশ একাদশে মোস্তাফিজুর রহমানকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। নাঈম শেখ ভিসা জটিলতায় এখনও যেতে পারেননি। তাছাড়া ২০২৩ সালের পর ওয়ানডে খেলতে নামছেন নুরুল হাসান সোহান। ফিরেছেন পেসার হাসান মাহমুদ। 

বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাইফ হাসান, তাওহীদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), নুরুল হাসান, জাকের আলী, তানজিম হাসান, তাসকিন আহমেদ, তানভীর ইসলাম, হাসান মাহমুদ।

আফগানিস্তান একাদশ: রহমানউল্লাহ গুরবাজ, ইব্রাহিম জাদরান, সেদিকুল্লাহ অটল, রহমত শাহ, হাশমতউল্লাহ শহীদী (অধিনায়ক), আজমতউল্লাহ ওমরজাই, রশিদ খান (অধিনায়ক), নানগেলিয়া খারোটে, এএম গজনফর ও বশির আহমেদ।