অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে জাতীয় দলের পাঁচ ক্রিকেটারের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে তরুণ পেসার নাহিদ রানাকে নিয়ে। চোটের কারণে পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন তিনি। অন্যদিকে লিটন কুমার দাস ও শরিফুল ইসলাম দ্বিতীয় টেস্টে ফেরার দৌড়ে রয়েছেন।
ডানহাতি পেসার নাহিদ রানা গত ১৭ জুলাই চোট আক্রান্ত হন। পরীক্ষায় তার বাম পাশের পেশিতে গ্রেড-২ ইনজুরি ধরা পড়ে।
আরও পড়ুন: ব্রিকস আমন্ত্রণের প্রভাব ক্রিকেটে, বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ নিয়ে নতুন খবর!
বিসিবির মেডিকেল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই চোট সারতে প্রায় চার সপ্তাহ লাগবে। এরপর বোলিং ওয়ার্কলোড ধাপে ধাপে বাড়াতে আরও দুই থেকে চার সপ্তাহ প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে ছয় থেকে আট সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে নাহিদকে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পুরো টেস্ট সিরিজেই খেলতে পারবেন না তিনি।
বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম ১৪ জুলাই গ্রেড-১ হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে আক্রান্ত হন। তবে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ভালো অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিসিবি।
আগামী ২৯ জুলাই থেকে তিনি আবার বোলিং শুরু করবেন। ১২ আগস্টের দিকে তার ফিটনেস পরীক্ষা হবে। প্রথম টেস্টে খেলার সম্ভাবনা কম থাকলেও, বোলিং ওয়ার্কলোড সফলভাবে শেষ করে মেডিকেল ছাড়পত্র পেলে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য বিবেচনায় থাকবেন শরিফুল।
অপর দিকে, বাঁ পায়ের কাফ মাংসপেশির চোট থেকে এখনও সেরে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন কুমার দাস। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে সম্প্রতি সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে প্লাটিলেট-রিচ প্লাজমা (PRP) চিকিৎসা নিয়েছেন। আগামী ২৮ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে দৌড় ও ফিটনেস কার্যক্রম শুরু করবেন। ১৩ আগস্টের দিকে তার ফিটনেস মূল্যায়ন করা হবে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রসর হলে এবং মেডিকেল ছাড়পত্র পেলে দ্বিতীয় টেস্ট থেকে নির্বাচনের জন্য উন্মুক্ত থাকবেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।
পেসার তানজিম হাসান সাকিবও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছেন। সম্প্রতি বিদেশি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও নতুন স্ক্যান রিপোর্টে জানানো হয়েছে, আরও আট থেকে দশ সপ্তাহ পুনর্বাসন চালিয়ে যেতে হবে তাকে। এরপর আবার স্ক্যান করা হবে। হাড়ের চোট পুরোপুরি সেরে ওঠার অগ্রগতির ওপর তার মাঠে ফেরার সময় নির্ভর করবে। বর্তমানে বছরের শেষ দিকে তার ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিং ও কাফের চোট থেকে সেরে উঠছেন বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি নিয়মিত পুনর্বাসন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। চলতি মাসের শেষ দিকে তার ফিটনেস পরীক্ষা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং ওয়ার্কলোড সম্পন্ন করতে পারলে ১৮ আগস্টের পর জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবেন কাটার মাস্টার।








