তাইজুল সাত উইকেট নিলেও চালকের আসনে জিম্বাবুয়ে

একমাত্র টেস্টে সোমবার হারারেতে বাংলাদেশের হয়ে শুধু আলো ছড়িয়েছেন তাইজুল ইসলাম। টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেরা বোলিং করে সাত উইকেট শিকার করেছেন তিনি। তবে তার দুর্দান্ত নৈপুণ্য ছাপিয়েও দ্বিতীয় দিন শেষে জিম্বাবুয়ের আধিপত্যই অব্যাহত রয়েছে। প্রথম ইনিংসে ৪১০ রান তুলে ২৭০ রানের বড় লিড পেয়েছে জিম্বাবুয়ে। জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেটে ৪০ রানে দিন শেষ করেছে সফরকারীরা। তারা এখনও ২৩০ রানে পিছিয়ে।   

প্রথম দিন প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর হাসান মাহমুদ, খালেদ আহমেদ ও দলে ফেরা পেসার এবাদত হোসেনকে ঘিরেই আশা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু দ্বিতীয় দিনের পুরোটা সময় দাপট দেখিয়েছেন জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা।

এদিন স্বাগতিকদের হয়ে ইনোসেন্ট কাইয়া খেলেছেন ১৪০ রানের টেস্ট সুলভ ইনিংস। তবে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর ছিলেন খালেদ আহমেদ। তিনি ব্রেন্ডন টেলরকে ১৭ রানে উইকেটকিপারের ক্যাচ বানিয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন।

হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেন মাঝেমধ্যে সম্ভাবনার আভাস দিলেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি। হাসান উইকেটশূন্য থেকে ১০২ রান দেন। আর এবাদত কোনো উইকেট না পেয়েই খরচ করেছেন ৯৬ রান। 

এরপর ম্যাচে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফেরান তাইজুল ইসলাম। ১০৭ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি ভেঙেছেন তিনি। ব্রায়ান বেনেট ৫৯ রানে তাইজুলকে ফিরতি ক্যাচ দিয়েছেন। এরপর ১৪০ রান করা কাইয়াকেও টপ-এজে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন।

নিচের সারির ব্যাটারদের দ্রুত ফিরিয়ে ১৩৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে ইনিংস শেষ করেন তাইজুল। এটি টেস্টে তার ১৯তম পাঁচ উইকেট শিকার। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তিতে সাকিব আল হাসানের পাশে নাম লেখান তিনি। একই সঙ্গে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের কোনো বোলারের সেরা টেস্ট বোলিংয়ের রেকর্ডও গড়েন তাইজুল। তিনি ছাড়িয়ে যান কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাকিবের ৩৩ রানে ৬ উইকেটের আগের রেকর্ড। ওয়েসলি মাধেভেরে ৭৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ৪১০ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে।

ইনিংস ব্যবধানে হার এড়ানোর লক্ষ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করছে বাংলাদেশ। শুরুটা ইতিবাচক হলেও ৯ রান করে ফিরে গেছেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। এরপর মাহমুদুল হাসান জয় ও মুমিনুল হক বাকি সময় আর কোনো উইকেট না হারিয়ে দিন শেষ করেন। দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৪০ রান।