খেলার মাঠে স্পোর্টসম্যানশিপ সবসময়ই প্রশংসিত বিষয়। তবে সেই মহানুভবতাই যদি দলের পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়? লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে এমনই এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ক্যান্ডি রয়্যালস অধিনায়ক ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। আইনসিদ্ধ একটি রানআউট ফিরিয়ে দিয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটারকে দ্বিতীয় জীবন দেন তিনি। আর সেই সুযোগই কাজে লাগিয়ে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় জাফনা কিংস।
গতকাল জাফনা কিংসের ইনিংসের সপ্তম ওভারে হাসারাঙ্গার বলে সোজা ড্রাইভ খেলেছিলেন কামিল মিশারা। বলটি নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকা আভিশকা ফার্নান্দোর ব্যাটে লেগে হাসারাঙ্গার দিকে চলে আসে। সুযোগ বুঝে বল কুড়িয়ে নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে আভিশকাকে রানআউট করেন শ্রীলঙ্কার এই অলরাউন্ডার।
কিন্তু আউটের আবেদন করার পরই সিদ্ধান্ত বদলান হাসারাঙ্গা। তিনি আবেদন প্রত্যাহার করে আভিশকাকে আবার ব্যাটিংয়ে ফেরার সুযোগ দেন। তখন ২৪ বলে ৪৬ রানে খেলছিলেন জাফনার এই ওপেনার।
সেই মুহূর্তে উদ্বোধনী জুটির সংগ্রহ ছিল ৬৬ রান। জীবন পাওয়ার পর দুজনে মিলে আরও বড় জুটি গড়েন। শেষ পর্যন্ত উদ্বোধনী জুটিতে যোগ হয় ১২৯ রান। আভিশকা ৩৬ বলে ৬৬ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচটি কার্যত ক্যান্ডির হাতছাড়া করেছেন।
ধারাভাষ্যকার রাসেল আর্নল্ড হাসারাঙ্গার এই সিদ্ধান্তকে দারুণ স্পোর্টসম্যানশিপ বলে প্রশংসা করলেও, অনেকের মতে সেই সময় আভিশকার উইকেটটি ক্যান্ডি রয়্যালসকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ এনে দিতে পারতো।
জাফনা কিংস উদ্বোধনী জুটির ওপর ভর করে ৪ উইকেটে ১৯৯ রান তোলে। জবাবে ক্যান্ডি রয়্যালস ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে মাত্র ১০৬ রানে অলআউট হয়ে যায়। ছয় ম্যাচে এটি ছিল ক্যান্ডি রয়্যালসের চতুর্থ হার। ফলে এলপিএলের ২০২৬ মৌসুমের পয়েন্ট তালিকায় তারা নেমে গেছে একেবারে তলানিতে। একই সঙ্গে নকআউট পর্বে ওঠার পথেও বড় ধাক্কা খেয়েছে।