পিএসএলে বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে নিবন্ধিত হচ্ছেন মোহাম্মদ আমির!

ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার পর পাকিস্তান সুপার লিগ তথা পিএসএলে আর স্থানীয় ক্রিকেটার হিসেবে নয়, বরং বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে নিবন্ধিত হতে চলেছেন মোহাম্মদ আমির। 

উইজডেনের একটি অনুষ্ঠানে আমির নিজেই জানান, নাগরিকত্ব পরিবর্তনের ফলে তিনি আর পিএসএল-এ স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত হবেন না। উইজডেনও নিশ্চিত করেছে, পরবর্তী পিএসএলে তিনি বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবেই অংশ নেবেন।

৩৪ বছর বয়সী আমির এতদিন পাকিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে স্থানীয় ক্রিকেটার হিসেবে খেলেছেন। তবে চলতি বছরের জুনে নটিংহ্যামশায়ার তাকে ২০২৬ সালের ভাইটালিটি ব্লাস্ট-এর বাকি মৌসুমের জন্য দলে ভেড়ানোর সময় নিশ্চিত করে যে, ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী হওয়ায় ইংল্যান্ডে তিনি বিদেশি কোটায় গণ্য হবেন না।

এই নতুন নাগরিকত্বের সুবাদে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া প্রতিযোগিতাগুলোতে তিনি দেশীয় ক্রিকেটার হিসেবেই খেলতে পারছেন। পরে দ্য হান্ড্রেড ২০২৬-এ ট্রেন্ট রকেটস দলে ডেভিড পেইনের বদলি হিসেবে যোগ দেন আমির। 

পিএসএলে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত প্লেয়ার নিলামে ৫ কোটি ৪০ লাখ পাকিস্তানি রুপিতে রাওয়ালপিন্ডিজ দলে যোগ দেন আমির। নিলামের পর কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় নাসিম শাহ ও নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার ড্যারিল মিচেলের সঙ্গে আমিরকেও দলটির অন্যতম বড় সংযোজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তবে তার নতুন পরিচয় একটি চুক্তিগত জটিলতাও তৈরি করেছে। কারণ, পিএসএল-২০২৬ এর আগে যেসব খেলোয়াড়কে দলে রাখা বা নিলাম থেকে কেনা হয়েছিল, তাদের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করা হয়। অর্থাৎ সেই চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ ও ২০২৭- দুই মৌসুমের জন্যই প্রযোজ্য। নিয়ম অনুযায়ী, পিএসএল শুরুর আগে প্রতিটি দল সর্বোচ্চ সাতজন খেলোয়াড় ধরে রাখতে পারবে, এরপর ছেড়ে দেওয়া ক্রিকেটাররা আবার নিলামে ফিরে যাবেন।

তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি, রাওয়ালপিন্ডিজ আমিরকে আগের চুক্তিতেই ধরে রাখতে পারবে কি না, যদিও তার ক্যাটাগরি স্থানীয় থেকে বিদেশিতে পরিবর্তিত হচ্ছে। একই সঙ্গে এটিও স্পষ্ট নয়, তাকে ছেড়ে দিয়ে নতুন চুক্তি করতে হবে, নাকি আগের চুক্তি বহাল রেখেই বিদেশি কোটায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।

পিএসএলের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি দলে স্কোয়াডের আকার অনুযায়ী ৫ থেকে ৭ জন বিদেশি খেলোয়াড় রাখা যায়। তবে একাদশে খেলানো যায় ন্যূনতম ৩ জন এবং সর্বোচ্চ ৪ জন বিদেশি ক্রিকেটার। ফলে আমিরের নতুন অবস্থান আগামী মৌসুমে রাওয়ালপিন্ডিজের দল নির্বাচন ও বিদেশি খেলোয়াড়ের সমন্বয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।