বাংলাদেশের কাছে হারের পর অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৯২-এর ভয় দেখালেন লারা

ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক হার শুধু একটি টেস্টের ফল নয়, সামনে এনেছে অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্নও। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া তারকাদের পরের প্রজন্ম কতটা প্রস্তুত? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে সতর্ক করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা। নিজের দলের একসময়কার পতনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেছেন, একসঙ্গে অনেক সিনিয়র ক্রিকেটার বিদায় নিলে অস্ট্রেলিয়ার পরিণতি ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো হতে পারে।

ডারউইনে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয় তুলে নিয়েছে। একই সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়।

আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, অস্ট্রেলিয়া খেলেছিল পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে। প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়নের মতো অভিজ্ঞ বোলাররা ছিলেন একাদশে। কিন্তু এই বোলিং ইউনিটের সম্মিলিত বয়স নিয়েও এখন আলোচনা চলছে।

উসমান খাজা ইতোমধ্যে অবসর নিয়েছেন। দলের আরও কয়েকজন অভিজ্ঞ তারকার ক্যারিয়ারও শেষের দিকে। এই অবস্থায় প্রজন্ম বদলের প্রক্রিয়াটি ধীরে ও পরিকল্পিতভাবে করার পরামর্শ দিয়েছেন লারা। কোড স্পোর্টসকে বলেছেন, ‘অবসর নেওয়ার ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে এগোনো অনেক ভালো।’

অস্ট্রেলিয়ার মূল একাদশের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়েই বেশি চিন্তা লারার। তার মতে, ভবিষ্যতের ব্যাকআপ ব্যাটারদের পারফরম্যান্স এখনো এমন নয়, যা একসঙ্গে কয়েকজন কিংবদন্তির জায়গা পূরণ করতে পারে। তার ভাষায়, ‘অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ বেঞ্চের দিকে তাকালে দেখি অনেক ব্যাটারের গড় ৩০-এর ঘরে। তাই চার-পাঁচজন একসঙ্গে দল থেকে চলে গেলে পরিস্থিতি সামলানো খুব কঠিন হবে।’

তার আশঙ্কা, কামিন্স, স্টার্ক, হ্যাজলউড, লায়ন ও স্টিভ স্মিথের মতো ক্রিকেটাররা যদি অল্প সময়ের ব্যবধানে বিদায় নেন, তাহলে নতুনদের ওপর একসঙ্গে যে চাপ পড়বে, সেটি সামলানো সহজ হবে না।

অস্ট্রেলিয়াকে সতর্ক করতে লারা উদাহরণ হিসেবে টেনেছেন নিজের দল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। ১৯৯২ সালের আশপাশে কয়েকজন কিংবদন্তির দ্রুত বিদায় কীভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আধিপত্যের পতন ঘটিয়েছিল, সেটি নিজের চোখেই দেখেছেন তিনি। লারা বলেছেন, ‘১৯৯২ সালের দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গেও এমনটা ঘটেছিল। গর্ডন গ্রিনিজ, ভিভ রিচার্ডস, ম্যালকম মার্শাল ও জেফ ডুজনের মতো খেলোয়াড়রা অল্প সময়ের মধ্যে চলে গিয়েছিলেন।’

এই তারকারা বিদায় নেওয়ার পর মাত্র ২২ বছর বয়সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছিলেন লারা। একটি প্রজন্মের তারকারা একসঙ্গে চলে যাওয়ার পর নতুন দল গড়ার দায়িত্ব পড়ে তরুণদের ওপর।

পরবর্তী সময়ে লারাই হয়ে ওঠেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ের প্রধান মুখ। কিন্তু তাকে আউট করতে পারলেই প্রতিপক্ষের বোলারদের সামনে তুলনামূলক দুর্বল হয়ে পড়ত দলের বাকি ব্যাটিং লাইনআপ। ১৯৯৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও সেই চিত্র দেখা গিয়েছিল।

লারা যে সময়ের কথা বলছেন, সেটি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের ইতিহাসে এক বড় মোড়। ১৯৭০ ও ৮০-এর দশকে কার্যত বিশ্ব ক্রিকেটের অঘোষিত চ্যাম্পিয়ন ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু গ্রিনিজ, রিচার্ডস, ডুজ ও মার্শালের মতো তারকারা অল্প সময়ের ব্যবধানে বিদায় নেওয়ার পর সেই আধিপত্যে ভাটা শুরু হয়।

এরপর আর আগের অবস্থানে ফিরতে পারেনি ক্যারিবীয় দল। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সেই পতনের ধারা অব্যাহত। লারার নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারও মূলত সেই অবনতির সময়েই কেটেছে।