অর্থনীতিতে ঝড়, এসএ-টোয়েন্টি থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার আয় ৪০৬ মিলিয়ন ডলার!

মাঠে ব্যাট-বলের লড়াই, গ্যালারিতে উপচে পড়া দর্শক। যার প্রভাব এবার দেখা গেলো দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনীতিতে। দেশটির জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি লিগ এসএ-টোয়েন্টির চতুর্থ মৌসুম শুধু ক্রিকেটীয় সাফল্যেই রেকর্ড গড়েনি, অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলেছে। স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করা এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, লিগের চতুর্থ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) যোগ হয়েছে ৪০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে লিগটি দেশজুড়ে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রেখেছে।

চতুর্থ মৌসুমের চূড়ান্ত অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন অনুযায়ী, সরাসরি ব্যয়, জিডিপিতে অবদান, কর্মসংস্থান এবং পরিবারের আয়—সব ক্ষেত্রেই আগের মৌসুমকে ছাড়িয়ে গেছে এসএ-টোয়েন্টি।

রেকর্ড গড়া মৌসুমে দর্শক উপস্থিতি বেড়েছে ১৩ শতাংশ। ছয়টি আয়োজক শহরে অনুষ্ঠিত ৩৪ ম্যাচের মধ্যে ২২টিই ছিল হাউজফুল। টানা চতুর্থ মৌসুমে ফাইনালের টিকিটও রেকর্ড সময়ে বিক্রি হয়ে যায়। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া সূচির অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে এই লিগ।

লিগকে ঘিরে দর্শক ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ায় সরাসরি ব্যয়ের পরিমাণও বেড়েছে। তৃতীয় মৌসুমের ১১২ মিলিয়ন ডলার থেকে চতুর্থ মৌসুমে তা বেড়ে হয়েছে ১৩৭ মিলিয়ন ডলার। এর ফলে দেশের জিডিপিতে লিগটির অবদান দাঁড়িয়েছে ৪০৬ মিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি।

কর্মসংস্থানেও এসেছে বড় প্রবৃদ্ধি। চতুর্থ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে বার্ষিক হিসাবে ৯,৪৭০টি কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা টিকিয়ে রাখা হয়েছে, যা তৃতীয় মৌসুমের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি। একই সময়ে পরিবারের আয়ও ৮৭ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ১০৬ মিলিয়ন ডলার।

স্বাধীন মূল্যায়নের ফলাফলকে লিগটির ক্রমবর্ধমান সাফল্যের বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন লিগ কমিশনার গ্রায়েম স্মিথ।

তিনি বলেছেন, ‘চারটি মৌসুম শেষে আমরা দেখতে পাচ্ছি, এসএ-টোয়েন্টির প্রভাব মাঠের বাইরেও অনেক দূর ছড়িয়ে পড়ছে। জিডিপিতে ৪০৬ মিলিয়ন ডলারের অবদান, প্রায় ৯,৫০০ কর্মসংস্থান এবং পরিবারের আয়ে ১০৬ মিলিয়ন ডলার—এগুলো উল্লেখযোগ্য সংখ্যা। এগুলো প্রমাণ করে, দক্ষিণ আফ্রিকার একটি সফল ক্রীড়া আয়োজন কীভাবে বৃহত্তর অর্থনীতিতে মূল্য তৈরি করতে পারে।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘আমরা যখন পঞ্চম মৌসুমের দিকে এগোচ্ছি, আমাদের লক্ষ্য শুধু লিগের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখা নয়; ক্রিকেট, আয়োজক শহর এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বৃহত্তর অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও গভীর করা।’

লিগের ছয়টি আয়োজক শহর এবং ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের মালিকানাধীন ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজিও এই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো নিজ নিজ বাজারে বিনিয়োগ, দর্শক উপস্থিতি এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

স্মিথ বলেছেন, ‘সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, এই প্রভাব পুরো দেশজুড়ে তৈরি হচ্ছে। আমাদের ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং আয়োজক শহরগুলো প্রথম দিন থেকেই লিগের প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রতিটি পূর্ণ স্টেডিয়াম মানুষকে শহরগুলোতে নিয়ে আসে, স্থানীয় ব্যবসাগুলোকে সহায়তা করে এবং আয়োজনকে ঘিরে নতুন সুযোগ তৈরি করে। লিগ যত বড় হবে, আমরা চাই এর অবদানও তত বাড়ুক।’