দুই দিনে টেস্ট শেষ হওয়ার ধাক্কা, ব্যাটারদের জন্য পিচে বদল আনছে অস্ট্রেলিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক
২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০০আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০০

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেট কি ধীরে ধীরে ব্যাটারদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠছে? মাত্র দুই দিনেই টেস্ট শেষ হওয়ার ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়। গত সাতটি হোম টেস্টের তিনটিই শেষ হয়েছে তৃতীয় দিনের আগেই। পিচের চরিত্র, কুকাবুরা বলের পরিবর্তন, আধুনিক ব্যাটিং কৌশল—সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাট-বলের ভারসাম্য নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন করে ভাবনা। আর সেই সংকট সামলাতে এবার কিউরেটরদের জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) নতুন বার্তা—‘সন্দেহ হলে ব্যাটারদের পক্ষে থাকুন।’

আসন্ন শেফিল্ড শিল্ড মৌসুমে পিচ তৈরির সময় ব্যাটারদের একটু বেশি সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানাবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ঘরোয়া ক্রিকেটের পিচের মান এবং সেসব উইকেট কীভাবে ভবিষ্যৎ টেস্ট ক্রিকেটারদের গড়ে তুলছে, তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই এই সিদ্ধান্ত।

সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ার পিচ আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। ম্যাকাইয়ে আরও একটি টেস্ট মাত্র দুই দিনে শেষ হয়েছে। গত সাতটি ঘরের মাঠের টেস্টে এটি এমন তৃতীয় ঘটনা। তবে ম্যাকাইর উইকেটে ঘাস ছিল মাত্র ৩.৫ মিলিমিটার। এরপরও আইসিসির কাছ থেকে ভালো রেটিং পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে উইকেটটির। গত মৌসুমের অ্যাশেজে পার্থে দুই দিনে শেষ হওয়া টেস্টের উইকেটও ভালো রেটিং পেয়েছিল।

টেস্টের আগে জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম শ্রেণির ভেন্যুগুলোর কিউরেটরদের নিয়ে বার্ষিক সম্মেলনে আলোচনা করেছিলেন সিএ’র অপারেশনস ও শিডিউলিং বিভাগের প্রধান পিটার রোচ। রাজ্য দলের পুরুষ কোচদের সঙ্গেও সিএ’র হাইপারফরম্যান্স স্টাফদের বৈঠক হয়েছে। সেখানে জাতীয় দলের কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড, জাতীয় দলের প্রধান বেন অলিভার এবং ক্রিকেট বিভাগের প্রধান জেমস অলসপও ছিলেন। আলোচনায় ঘরের মাঠের টেস্ট ও শেফিল্ড শিল্ডের পিচ ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অস্ট্রেলিয়ার গত ২০টি ঘরের টেস্টের চারটিই তৃতীয় দিনে গড়ায়নি—এটিও উদ্বেগের কারণ। একই সঙ্গে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার টেস্টে ব্যাটিং ও বোলিং গড়েও সামগ্রিকভাবে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, ব্যাটারদের পারফরম্যান্স পরিমাপে শুধু গড় নয়, অন্যান্য সূচকও ব্যবহার করছে তাদের কোচিং স্টাফ। শেফিল্ড শিল্ডেও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে।

এ কারণেই অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটারদের অনেকে দেশটির ব্যাটিং সংকট নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। পিচের চেয়ে ব্যাটারদের কৌশল ও মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। ২০১৯ সালে কুকাবুরা বলে দ্বিতীয় স্তরের ল্যাকার এবং সিমে কিছুটা শক্তিবর্ধক পরিবর্তন আনার পর বলের আচরণেও পরিবর্তন এসেছে।

লাল বলের ক্রিকেটে বর্তমান ব্যাটিংয়ের ধরন, যা ছোট সংস্করণের ক্রিকেটের প্রভাবে বদলে গেছে, সেটিও দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আবির্ভাবের ফলে ফল নিশ্চিত করে এমন পিচ তৈরির প্রবণতাও বেড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

ঘরোয়া ক্রিকেটে বোলারদের সহায়ক পিচ তৈরির আরেকটি কারণ হিসেবে রাজ্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর শেফিল্ড শিল্ড জয়ের তাগিদকে সামনে আনা হচ্ছে। গত মৌসুমে শেফিল্ড শিল্ডের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের সেরা ১০ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যাটিং গড় ছিল মাত্র ৩৬.৪১।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও কিউরেটররা পরিস্থিতি এই সম্পর্কে অবগত এবং ব্যাট-বলের ভারসাম্য ফেরাতে পিচ তৈরির দর্শনে পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছেন রোচ। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের আগের ভাষ্য, সম্ভবত প্রায় এক দশক ধরে ছিল যে আমরা ব্যাট ও বলের মধ্যে ভারসাম্য দেখতে চাই। আমাদের কিউরেটররাও একই মত পোষণ করেন। আশা করি আমাদের দলগুলোও তা চায়। কিন্তু গত এক দশকে আমাদের অবস্থানটা ছিল- সন্দেহ হলে বোলারের দিকে ঝুঁকে যাও।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘১০ বছর আগে যখন ব্যাটাররা নিজেদের মতো করে খেলছিল এবং উইকেট কিছুটা ফ্ল্যাট ছিল, তখন এমনটা করার যুক্তি ছিল। আমরা এখনও ম্যাচের ফল দেখতে চাই। দীর্ঘ, একঘেয়ে ড্র আমরা চাই না। এটা ক্রিকেটের জন্য ভালো নয়। ম্যাচের শেষ দিকে ফলাফল আসুক—এটাই আদর্শ। কিন্তু এখন আমাদের কিউরেটরদের যে বার্তাটি দিতে চাই, তা হলো—সন্দেহ হলে ব্যাটারের পক্ষে থাকুন।’

পিচে এই পরিবর্তন অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের খুব একটা খুশি করবে না। তাদের অনেকেই মনে করেন, পিচ নিয়ে আসলে সমস্যা নেই। আধুনিক ব্যাটিং কৌশলের সমালোচনা করা সাবেক ক্রিকেটারদেরও এতে সন্তুষ্ট হওয়ার কথা নয়।

তবে ২০১৯ সালে অস্ট্রেলিয়ায় পরিবর্তিত কুকাবুরা বল ব্যবহারের আগে ও পরে স্টিভেন স্মিথের পরিসংখ্যানটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ঘরের মাঠে ২৯ টেস্টে স্মিথের ব্যাটিং গড় ছিল ৭৭.২৫। ৫০ ইনিংসে করেছিলেন ১৩টি সেঞ্চুরি। বল পরিবর্তনের পর ঘরের মাঠে ৩৫ টেস্টে তার গড় নেমে এসেছে ৪৫.৫৩-এ। ৬১ ইনিংসে সেঞ্চুরি পেয়েছেন মাত্র ছয়টি। দেশের বাইরে তার গড়ও কমেছে, তবে তুলনামূলকভাবে কম—৫৭.১০ থেকে ৪৫.১১।

২০২৪-২৫ মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ চলাকালে স্মিথ বলেছিলেন, কুকাবুরা বলে পরিবর্তনের পর ব্যাটিং আরও কঠিন হয়ে গেছে। রোচও মনে করেন, বেশ কিছু বিষয় একসঙ্গে বদলে গিয়ে ক্রিকেটের চরিত্র পাল্টেছে। তার কথায়, ‘এটা অনেক বিষয়ের সম্মিলিত ফল। আমাদের কিউরেটরদেরও বরাবরের মতোই প্রতিটি ম্যাচে ব্যাট ও বলের মধ্যে সেরা ভারসাম্য আনার জন্য নিজেদের মানিয়ে নিতে হবে।’

 

/এফআইআর/এমওএফ/
সম্পর্কিত
এশিয়া কাপে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ দলে দুঃসংবাদ 
বিসিবির সতর্কবার্তা, ‘বিভ্রান্ত হবেন না’
বাংলাদেশের কাছে হেরেই ম্যাকাইতে এমন পিচ বানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া: গাভাস্কার
সর্বশেষ খবর
বায়ুদূষণের শীর্ষে দিল্লি, ১১২ স্কোর নিয়ে বিশ্বে ১২ নম্বরে ঢাকা 
বায়ুদূষণের শীর্ষে দিল্লি, ১১২ স্কোর নিয়ে বিশ্বে ১২ নম্বরে ঢাকা 
শিশুদের স্ক্রিন টাইম নিয়ে যে ধারণা বদলে দিচ্ছে নতুন গবেষণা
শিশুদের স্ক্রিন টাইম নিয়ে যে ধারণা বদলে দিচ্ছে নতুন গবেষণা
জানাজার সময় তদন্ত করতে গিয়ে হামলার শিকার দুই পুলিশ, রাতেই বরখাস্ত
জানাজার সময় তদন্ত করতে গিয়ে হামলার শিকার দুই পুলিশ, রাতেই বরখাস্ত
এক শতাব্দীর ইতিহাস বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে যে স্থাপনাগুলো
এক শতাব্দীর ইতিহাস বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে যে স্থাপনাগুলো
সর্বাধিক পঠিত
শেখ হাসিনার আত্মীয় বলায় যা বললেন আন্দালিভ রহমান পার্থ
শেখ হাসিনার আত্মীয় বলায় যা বললেন আন্দালিভ রহমান পার্থ
প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে দায়িত্বে থাকবেন ৩ মন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে দায়িত্বে থাকবেন ৩ মন্ত্রী
বিদ্রোহী শিবির ঘুরে আবারও মমতার কাছে ফিরলেন কাসেম সিদ্দিকী
বিদ্রোহী শিবির ঘুরে আবারও মমতার কাছে ফিরলেন কাসেম সিদ্দিকী
বিনা খরচে জাপানে চাকরির সুযোগ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের
বিনা খরচে জাপানে চাকরির সুযোগ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের
রংপুরে চার খুন: এবার পুলিশ ও চিকিৎসকের বক্তব্যে অমিল, তদন্ত কোন পথে?
রংপুরে চার খুন: এবার পুলিশ ও চিকিৎসকের বক্তব্যে অমিল, তদন্ত কোন পথে?