এক ইনিংসে অপরাজিত ৩৫০* রান। ব্যাট হাতে যেন ইতিহাসই লিখলেন তাওহীদ হৃদয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় আনঅফিসিয়াল টেস্টে পচেফস্ট্রুমে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে একসঙ্গে একাধিক রেকর্ড ভেঙেছেন তিনি। বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের মালিক এখন তিনিই। শুধু কি তাই? বিদেশি ব্যাটার হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও সর্বোচ্চ ইনিংসের তালিকাতে উঠে এসেছে তার নাম।
চতুর্থ দিনের চা পরবর্তী সেশনে তামিম ইকবালের রেকর্ড ভাঙেন হৃদয়। ২০২০ সালে ঢাকায় বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ম্যাচে অপরাজিত ৩৩৪ রান করেছিলেন তামিম। সেই রেকর্ড পেরিয়ে হৃদয় নতুন ইতিহাস গড়েছেন। এটি তার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরিও। বাংলাদেশের হয়ে তামিম ও রকিবুল হাসানের পর তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরির এই কীর্তি গড়েছেন তিনি। রকিবুল ২০০৭ সালে জাতীয় ক্রিকেট লিগে অপরাজিত ৩১৩ রান করেছিলেন। তবে হৃদয়ের রেকর্ড এখানেই থামেনি।
৪৮১ বলের ম্যারাথন ইনিংসে তিনি ২৭টি চার ও ১০টি ছক্কা মেরেছেন। এই ইনিংসে বিদেশের মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করার নজির গড়েছেন তিনি।
ট্রিপল সেঞ্চুরির মাইলফলক ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বিদেশি ব্যাটারদের সর্বোচ্চ রানের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসেন হৃদয়। যার মাধ্যমে ১৯৪৮ সালে নর্থ ইস্টার্ন ট্রান্সভালের বিপক্ষে ৩০০ রান করা ডেনিস কম্পটনের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যান তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে হৃদয়ের ৩৫০* এখন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। ৩৩৭* রান করা ড্যারিল কালিনানকে পেছনে ফেলেছেন তিনি। তার সামনে কেবল স্টিফেন কুক, যার সর্বোচ্চ ইনিংস ৩৯০ রান।
হৃদয়ের রেকর্ড গড়া ইনিংসকে বড় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন জাকের আলী ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। জাকের করেছেন ৯৪ রান, সাইফউদ্দিনের ব্যাট থেকে এসেছে ৮৭।
জাকেরের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে হৃদয়ের জুটিটি ছিল ১৫১ রানের। এরপর ষষ্ঠ উইকেটে সাইফউদ্দিনের সঙ্গে যোগ করেন আরও ১৮৫ রান। ১০ নম্বরে নেমে রেজাউর রহমান রাজাও হৃদয়কে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন। ১১০ বলে অপরাজিত ৩১ রান করেন তিনি। হৃদয়ের ব্যাটে ভর করেই বাংলাদেশ ‘এ’ শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ৬৭৬ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে। যা দলটির প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দ্বিতীয় ইনিংসে ১২ ওভার ব্যাট করে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৮ রান তোলার পর দুই দল ড্র মেনে নেয়। প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকরা করেছিল ৫১২ রান।
তবে দুই ম্যাচের অনানুষ্ঠানিক টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ ‘এ’ হেরেছে ১-০ ব্যবধানে। প্রথম ম্যাচে ইনিংস ও ৪১৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ।