এজবাস্টনে পাকিস্তানের টেস্ট দলে অভিষেক হয়েছে রাজাউল্লাহর। এজবাস্টনে আরও দুজনের সঙ্গে টেস্ট অভিষেক হয়েছে তার। আর অভিষেক ম্যাচেই ব্যাটে-বলে নিজেকে চিনিয়ে দিয়েছেন ২১ বছর বয়সী অলরাউন্ডার।
প্রথম ইনিংসে বল হাতে দলের সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নিয়েছেন রাজাউল্লাহ। ব্যাট হাতে দ্বিতীয় ইনিংসে তো গড়লেন ইতিহাস। চাপের মুখে রাজাউল্লাহর ৯ ছক্কার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়েই ইনিংস পরাজয় এড়িয়ে লক্ষ্য দিতে পেরেছে পাকিস্তান।
আজান আওয়াইস, শান মাসুদ, বাবর আজমের পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংসের পরও রাজাউল্লাহ যখন ৯ নম্বরে ব্যাট করতে নামেন, ইনিংস পরাজয় এড়াতে তখনও ৮ রান। সেখান থেকে শুরু হয় তরুণ পেস বোলিং অলরাউন্ডারের লড়াই।
বাকি ৩ উইকেটে আরও ১৩৭ রান করে পাকিস্তান। যেখানে রাজাউল্লাহর একার অবদানই ৮১ রান, সেটিও মাত্র ৬৩ বলে। ৪ চারের সঙ্গে ৯টি বিশাল ছক্কায় অভিষেক ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় ইনিংসটি রাঙান রাজাউল্লাহ।
টেস্ট ইতিহাসে এখন অভিষেক ম্যাচে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার মালিক রাজাউল্লাহ। এর আগে ২০০৮ সালে নেপিয়ার টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই নিজের অভিষেকে ৪৮ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেলার পথে ৯টি ছক্কা মেরেছিলেন টিম সাউদি।
এছাড়া টেস্টে অভিষেক ম্যাচে ৯ বা তার নিচে নেমে চতুর্থ সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেছেন রাজাউল্লাহ। তার সামনে আছেন শুধু বাংলাদেশের আবুল হাসান রাজু (১১৩) এবং অস্ট্রেলিয়ার রেগি ডাফ (১০৪) ও অ্যাশটন অ্যাগার (৯৮)।
রাজাউল্লাহর এই পাল্টা আক্রমণের সৌজন্যে ইংল্যান্ডের মাঠে ১০ বছরের মধ্যে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের দেখা পেয়েছে পাকিস্তান। এর আগে ২০১৬ সালের ওভাল টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৫৪২ রান করেছিল তারা।
এছাড়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে এটিই পাকিস্তানের দলীয় সর্বোচ্চ স্কোর। এর আগে ১৯৬২ সালের করাচি টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ৪০৪ রান করেছিল তারা।
দলকে ৪০০ রান করানোর পথে মোহাম্মদ আব্বাসকে নিয়ে নবম উইকেটে ১২১ রানের জুটি গড়েছেন রাজাউল্লাহ। ২০১৫ সালের পর শেষ দুই উইকেটে এটিই পাকিস্তানের প্রথম শতরানের জুটি।
লড়াই করে মাত্র ৪৩ বলে ফিফটি পূর্ণ করেছেন রাজাউল্লাহ। যার সৌজন্যে অভিষেকে পাকিস্তানের পক্ষে দ্রুততম ফিফটির মালিক এখন তিনি। আগের রেকর্ড ছিল ফাহিম আশরাফের করা ৫২ বলে।