আইসিসির র‍্যাঙ্কিং ও রেটিং কীভাবে কাজ করে?

র‌্যাঙ্কিংয়ে থাকা আইসিসির প্লেয়ার রেটিং হলো একজন ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দেওয়া পয়েন্ট। কোনও খেলোয়াড় নিজের আগের পারফরম্যান্সের তুলনায় ভালো করলে তার রেটিং পয়েন্ট বাড়ে। আবার ফর্ম খারাপ হলে কমে যায় এবং র‍্যাঙ্কিংও নিচে নেমে যায়।

এবার জেনে নেওয়া যাক এই র‌্যাঙ্কিং সিস্টেম কীভাবে কাজ করে। মূলত ক্রিকেটারদের র‍্যাঙ্কিং নির্ধারণ করা হয় তাদের প্লেয়ার রেটিংয়ের ভিত্তিতে। রেটিং পয়েন্টই ঠিক করে দেয় একজন খেলোয়াড় কোন অবস্থানে থাকবেন।

র‍্যাঙ্কিংয়ে জায়গা পান কারা?

আইসিসির র‍্যাঙ্কিং ও রেটিং দিয়েই মূলত ক্রিকেটারদের দীর্ঘমেয়াদি পারফরম্যান্স নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। শুধু সাম্প্রতিক ফর্ম নয়, একজন ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ের পারফরম্যান্সও এর হিসাবের মধ্যে আসে।

সাধারণত গত প্রায় ১২ মাসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলেছেন এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেছেন, এমন খেলোয়াড়রা র‍্যাঙ্কিংয়ে থাকার যোগ্য। অবসর নিলে তাদের র‍্যাঙ্কিং থেকে বাদ দেওয়া হয়।

যোগ্যতার শর্ত পূরণ করা সব ক্রিকেটারেরই রেটিং পয়েন্ট থাকে। তবে আইসিসি প্রকাশ করে শীর্ষ ১০০ জনের তালিকা।

র‍্যাঙ্কিং আপডেট হয়?

২০২১ সালের মার্চে আইসিসি রেটিং পয়েন্ট সাপ্তাহিকভাবে আপডেট করার ব্যবস্থা চালু করে। নারী ক্রিকেটের র‍্যাঙ্কিং প্রতি মঙ্গলবার এবং পুরুষ ক্রিকেটের র‍্যাঙ্কিং প্রতি বুধবার আপডেট করা হয়।

কীভাবে রেটিং পয়েন্ট হিসাব করা হয়?

কোনও ম্যাচে একজন ক্রিকেটারের ভূমিকা ও পারফরম্যান্সকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে রেটিং পয়েন্টের হিসাব করা হয়। এখানে শুধু রান বা উইকেট নয়, ম্যাচের বিভিন্ন পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়।

সেসবের মধ্যে উইকেটের মান ও প্রতিপক্ষের শক্তিও গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, ব্যাটিংয়ের জন্য কঠিন উইকেটে করা রান কিংবা শক্তিশালী দলের বিপক্ষে করা রান তুলনামূলক বেশি মূল্য পায়। সহজ ব্যাটিং উইকেটে কিংবা দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে করা একই সংখ্যক রান তাই সমান মূল্য পায় না।

তবে আইসিসির বর্তমান রেটিং ও র‍্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় ক্রিকেটের সব ধরনের পারফরম্যান্সের হিসাব করা হয় না। যেমন ফিল্ডিং ও উইকেট কিপিংয়ের জন্য আলাদা কোনও র‍্যাঙ্কিং ব্যবস্থা নেই।

আবার ব্যাটার ও বোলারদের তুলনায় অলরাউন্ডারদের র‍্যাঙ্কিংয়ের হিসাবও কিছুটা আলাদা। একজন অলরাউন্ডারের রেটিং নির্ধারণ করা হয় তার ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগে পাওয়া পয়েন্টকে গুণ করে। এরপর সেই ফলকে ১ হাজার দিয়ে ভাগ করা হয়।

ফলে একজন অলরাউন্ডারের মূল্যায়নে তার ব্যাটিং ও বোলিং দুই ক্ষেত্রের পারফরম্যান্সই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।