আসিফ নজরুলকে নিয়ে তদন্তে কী বলেছেন শান্ত-লিটন?

ভারতে অনুষ্ঠিত গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যায়নি বাংলাদেশ। এ নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে মঙ্গলবার। 

২২ পৃষ্ঠার যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে ১২ জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছে তদন্ত কমিটি। সেখানে তাদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপও তুলে ধরা হয়। তাতে ক্রিকেটারদের মধ্যে ছিলেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস ও টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এবার দেখে নেওয়া যাক সেখানে দুই অধিনায়ক কী বলেছিলেন। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী শান্তর ভাষ্য হচ্ছে, ওয়ানডে অধিনায়কসহ দলের অন্য সিনিয়র খেলোয়াড়দের তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এরপর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আরেকটি সংবাদ সম্মেলন হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা, বিসিবি সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম ‍বুলবুল এবং ক্রীড়া সচিব।

শান্ত জানান, ভালো প্রস্তুতি ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকায় খেলোয়াড়রা ভালো ক্রিকেট খেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ক্রীড়া উপদেষ্টা নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি রয়েছে জানিয়ে সরকার টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাদের সব প্রস্তুতি ও স্বপ্ন বৃথা যায়।

বিসিবির সাবেক সভাপতিও সরকারের অবস্থানকে সমর্থন করেন এবং নিরাপত্তার বিষয়টিতে জোর দেন। শান্তর ভাষ্য অনুযায়ী, ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলই ছিলেন একমাত্র সিদ্ধান্তগ্রহণকারী। তবে এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করার জন্য আর কে কে ছিলেন, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

লিটন দাসের কথাতেও মিলেছে একই ইঙ্গিত। প্রতিবেদন অনুযায়ী দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের সঙ্গেও পরামর্শ করা হয়েছিল। তিনি মত দেন, খেলোয়াড়রা সবাই বিশ্বকাপে খেলতে প্রস্তুত ছিলেন। তবে তারা ভেন্যু নিয়ে কিছুটা অনাগ্রহী ছিলেন এবং ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় ভেন্যু হলে সেটিই বেশি পছন্দ করতেন।

তার মতে, সরকারের পূর্বপরিকল্পিত সিদ্ধান্তটি ছিল একতরফা। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যকার এই রাজনৈতিক জটিলতায় খেলোয়াড়রা কেবল নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিলেন।