সেমির লড়াইয়ে বাংলাদেশ, ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে কপাল খুলবে পাকিস্তানের!

বৃষ্টির কাছে হার মেনেছে এশিয়ান গেমসের নকআউট পর্বের সব ম্যাচ। কোয়ার্টার ফাইনালের কোনো ম্যাচই মাঠে গড়াতে পারেনি। এবার বৃহস্পতিবার নিশিনে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের প্রথম সেমিফাইনালেও তাই সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারে সেই বৃষ্টি। তবে আপাতত স্বস্তির খবর যে, ম্যাচের দিন রোদ ও উষ্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। ম্যাচটি শুরু হবে কাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায়। 

বৃহস্পতিবারের ম্যাচেও যদি বৃষ্টি হানা দেয় এবং খেলা মাঠে না গড়ায়, তাহলে উঁচু র‌্যাঙ্কিংয়ের কারণে এশিয়ান গেমসের ফাইনালে উঠে যাবে পাকিস্তান। 

সবকিছু পরিকল্পনামতো হলে সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়া ধারাবাহিকতা ধরে রাখার প্রত্যাশা থাকবে লিটন দাসের। বাংলাদেশের ভরসা থাকবে শক্তিশালী টপ অর্ডারের ওপর। বিশেষ করে তানজিদ হাসানের দিকে থাকবে বাড়তি নজর। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সেঞ্চুরি করে ফর্মে রয়েছেন তিনি। 

ভালো ফর্মে আছেন তাওহীদ হৃদয়ও। দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘এ’ দলের হয়ে চার দিনের ম্যাচে অপরাজিত ৩৫০ রানের ইনিংস খেলেছেন হৃদয়। সেমিফাইনালে ব্যাট হাতে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন এই ব্যাটার।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের নেতৃত্ব দেবেন অধিনায়ক সাহেবজাদা ফারহান। এরপর দায়িত্ব নিতে পারেন হাসান নওয়াজ ও উসমান খান। তবে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের আরও কয়েকটি নামও ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।

মাজ সাদাকাত আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। সাম্প্রতিক ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) করেছেন দুটি সেঞ্চুরি। সাইম আইয়ুব ও আরাফাত মিনহাসও ব্যাট হাতে ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন।

তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ পাকিস্তানের চেয়ে কিছুটা বেশি অভিজ্ঞ। অচেনা কন্ডিশনে এই অভিজ্ঞতাই বাংলাদেশের জন্য কাজে আসতে পারে।

নিশিনের কন্ডিশনে স্পিনারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বাংলাদেশের রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, মেহেদী হাসান ও মোসাদ্দেক হোসেনের চারজনই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। পেস আক্রমণেও বাংলাদেশের ভরসা মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদ। তারাও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের সামর্থ্য দেখিয়েছেন বহুবার।

তুলনায় পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণ কিছুটা অনভিজ্ঞ। তবে সিপিএলে দারুণ ফর্মে থাকা সুফিয়ান মুকিমকে ঘিরে আশাবাদী তারা। পাঁচ ইনিংসে ১২ উইকেট নিয়েছেন তিনি, যার মধ্যে শেষ দুই ম্যাচেই ছিল চারটি উইকেট। আর আবরার আহমেদ নিজের সেরা ছন্দে থাকলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। এবার ম্যাচ মাঠে গড়ানোর অপেক্ষা।