অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম দ্বি-পাক্ষিক সিরিজে ওয়ানডে খেলতে নেমেও ব্যাটিংয়ের পুরোনো দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ নারী দল। শুরুতেই মেগান শুটের জোড়া আঘাতে বিপর্যয়ে পড়া নিগার সুলতানার দল শেষ পর্যন্ত ১৬৬ রানে গুটিয়ে গেছে। জবাবে ফিবি লিচফিল্ডের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ভর করে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ব্রিসবেনের অ্যালান বোর্ডার ফিল্ডে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ৩ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকরা ১৪৬ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে।
টস হেরে খেলতে নামা বাংলাদেশকে ম্যাচের প্রথম ওভারেই ধাক্কা দেন শুট। ইনিংসের প্রথম বলেই ফেরান ওপেনার ফারজানা হককে। পরের ওভারে শারমিন সুলতানাকে এলবিডব্লিউ করে আবারও আঘাত হানেন অভিজ্ঞ এই পেসার। পরপর দুই উইকেট নিয়ে ওয়ানডেতে ১৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন শুট। অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেটে ক্যাথরিন ফিটজপ্যাট্রিক ও এলিস পেরির পর তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন তিনি।
১০ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন শুট। বাংলাদেশের ইনিংসের শেষ দিকে ধস নামান অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড। ৩০ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়ে সফরকারীদের ইনিংস গুটিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।
বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৬৩ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেছেন রিতু মনি। তার লড়াকু ব্যাটিংয়েই বাংলাদেশ ৫০ ওভারের কাছাকাছি গেছে। এছাড়া ২৯ রান করেন অধিনায়ক নিগার সুলাতানা। শারমিন আক্তারের ব্যাট থেকেও আসে ২৪ রান। এছাড়া শেষ দিকে ৩২ বলে ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন নাহিদা আক্তার। শেষ পর্যন্ত ৪৯.৪ ওভারে ১৬৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
জবাবে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের পথে তেমন কোনো বাধাই আসেনি। জর্জিয়া ভল ১৮ বলে ১৯ রান করে বিদায় নেন। ১৭ বছর বয়সী অভিষিক্ত পেসার হাবিবা ইসলামের বলে ক্যাচ দেন তিনি।
এরপর শুরুতে কিছুটা সতর্ক থাকলেও ক্রমেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন লিচফিল্ড। বাউন্ডারির পর বাউন্ডারি হাঁকিয়ে মাত্র ৩৫ বলে তুলে নেন অর্ধশতক। দ্বিতীয় উইকেটে এলিস পেরির সঙ্গে ৮৯ রানের জুটি গড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত রাবেয়া খানের বলে রিতু মনির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লিচফিল্ড। তার ব্যাট থেকে আসে ৫৭ বলে ৭৭ রান।
কিছুক্ষণ পর বেথ মুনিকে ১৩ রানে ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেটটি নেন হাবিবা। তাতেও অবশ্য ম্যাচের ওপর প্রভাব ফেলা যায়নি। অন্য প্রান্তে অপরাজিত ২৬ রান করে অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন পেরি। সঙ্গে ২৫ রানে অপরাজিত ছিলেন অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড।