আবুধাবিতে একমাত্র টেস্টে শুরুতে মনে হচ্ছিল, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতেই থাকবে। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে চিত্র। আব্দুল মালিক ও অধিনায়ক রহমত শাহর দৃঢ়তায় লড়াইয়ে ফিরেছে আফগানিস্তান। দ্বিতীয় দিনের শেষে তাই জমে উঠেছে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান টেস্ট। বাংলাদেশের ৩৪৬ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেটে ২১১ রানে দিন শেষ করেছে আফগান দল। তারা এখনও ১৩৫ রানে পিছিয়ে।
অধিনায়ক রহমত শাহ ১৮৬ বলে ৮৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেছেন। অপরাজিতও আছেন তিনি। এর আগে আব্দুল মালিক করেছেন ৬২ রান।
আফগানিস্তানের সহ-অধিনায়ক ইকরাম আলিখিলও পেয়েছেন ভালো শুরু। ২৬ রানে ব্যাট করছেন। বলা যায় শেষ ঘণ্টায় কোনো উইকেট নিতে না পারায় কিছুটা হতাশা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ।
অথচ দ্বিতীয় দিন চায়ের বিরতির আগ পর্যন্ত মোটামুটি ভালো অবস্থানে ছিল আফগানিস্তান। এই পুরো সেশনে বাংলাদেশ তাদের একটি উইকেট ফেলতে পেরেছিল। দ্বিতীয় সেশন শেষে আফগানদের প্রথম ইনিংসে স্কোর ছিল ২ উইকেটে ১৩১ রান। চায়ের বিরতির পর আবার খেলায় ফেরে বাংলাদেশ। তৃতীয় সেশনের শুরুতে পর পর তুলে নেয় দুই উইকেট। এই সুযোগে চালকের আসনে বসার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেট হয়ে যাওয়া ব্যাটার মালিককে ওয়াইড লাইনের বাইরে ফুল লেংথের বল দিয়ে প্রলুব্ধ করেন এবাদত। শট খেলতে গিয়ে উইকেটকিপার লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন মালিক (৬২)। দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় এক হাতে উড়ে গিয়ে ক্যাচটি নেন লিটন। তাতে ভাঙে আব্দুল মালিক ও রহমত শাহর ৭০ রানের জুটি।
পরের ওভারে মিরাজের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হন আফগানিস্তানের আরেক ব্যাটার হাশমতউল্লাহ শহীদি। বলের ঘূর্ণি বুঝতে না পেরে স্টাম্পড হন তিনি শূন্যরানে। তার পর পরিস্থিতি সামাল দেন অধিনায়ক রহমত ও ইকরাম আলিখিল। দারুণ দৃঢ়তায় পঞ্চম উইকেটে ৭২ রানে অবিচ্ছিন্ন আছেন তারা।
দুই দলের লড়াই এখন এমন জায়গায়, যেখানে তৃতীয় দিন ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের হয়ে এবাদত হোসেন নিয়েছেন দুটি উইকেট। হাসান মাহমুদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ পেয়েছেন একটি করে।