একমাত্র টেস্টে জয়ের জন্য শেষ দিনেও মরিয়া ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেদিকুল্লাহ অটলের অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ আর শেষ দিকে কায়েস আহমেদ ও ইয়ামিন আহমাদজাইয়ের দৃঢ়তায় আবুধাবি টেস্ট ড্র করে মাঠ ছেড়েছে আফগানিস্তান। কঠিন এই লড়াইয়ের পর আফগান অধিনায়ক রহমত শাহর কাছে ড্রয়ের আনন্দ যেন জয়েরই সমান। ম্যাচ শেষে তাই রহমত বলেছেন, ‘এই ড্র জয়ের সমান।’
আবুধাবি টেস্টের শেষ দিনে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৯২ ওভার ব্যাটিং করে ম্যাচ বাঁচায় আফগানিস্তান। পুরো দিনজুড়ে দলের প্রতিরোধের কেন্দ্রে ছিলেন সেদিকুল্লাহ অটল। তার ৩৩২ বলে ১১১ রানের ইনিংসটি আফগানিস্তানকে ড্রয়ের পথে এগিয়ে দেয়।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়া কোনো দলের বিপক্ষে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের পর এই প্রথম টেস্টে হার এড়ালো আফগানিস্তান। এর আগে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামে বাংলাদেশকে হারিয়েছিল তারা। অবশ্য ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়া ম্যাচটি এই হিসাবের বাইরে।
অটলের ইনিংসের প্রশংসা করেছেন আফগানিস্তানের কোচ রিচার্ড পাইবাসও। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ঘুরে দাঁড়ানোর কৃতিত্ব পুরোপুরি অটলের। ওর ইনিংসটি ছিল অসাধারণ। আসলে সাম্প্রতিক সময়ে ওর ফর্ম কিছুটা ভালো যাচ্ছিল না। তাই এই ইনিংসের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছে। ওকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। ওর টেস্ট ক্যারিয়ার সবে শুরু হয়েছে। নিজের কাজটা করেছে। এই আত্মবিশ্বাস ভবিষ্যতেও কাজে লাগবে।’
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে রহমত শাহ বলেছেন, ‘সেদিকুল্লাহ টি-টোয়েন্টি খেলে এসেছে। এরপরও যেভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে দলের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটিং করেছে এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে, তাতেই আমরা এই ফল পেয়েছি।’
অটলের প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও। তার মতে, মাঠে পাওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারাই বাংলাদেশের জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অটল যখন ১১৯তম ওভারে আউট হন, তখনও ২৩ ওভারের বেশি খেলা বাকি ছিল। ক্রিজে ছিলেন মূলত লেজের ব্যাটাররা। ওই অবস্থায় বাংলাদেশ জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হতেই পারত। কিন্তু কায়েস আহমেদ ও ইয়ামিন আহমাদজাই রক্ষণাত্মক ব্যাটিংয়ে সেই আশা ভেঙে দেন। অবশ্য কায়েস শুধু রক্ষণেই আটকে থাকেননি; শেষ ওভারে দুটি ছক্কাসহ পুরো ইনিংসে তিনটি ছক্কা হাঁকান তিনি।
শান্ত বলেছেন, ‘ওরা দারুণ ক্রিকেট খেলেছে, এ জন্য তাদের কৃতিত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে সেদিকুল্লাহ যেভাবে ব্যাটিং করেছে, তা সত্যিই মুগ্ধ করার মতো। চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে উইকেট ভালো ছিল। স্পিনাররা কিছুটা সহায়তা পেয়েছেন, তবে পাঁচ দিনই ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেট ভালো ছিল। আমাদের মানসম্পন্ন বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে যেভাবে তারা ব্যাটিং করেছে, তার জন্য তাদের কৃতিত্ব প্রাপ্য।’