ইমরান-পুত্রদের সাক্ষাৎকারের জের, ধারাভাষ্য থেকে বাদ ইংল্যান্ডের দুই কিংবদন্তি!

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী ইমরান খানের ছেলেদের দেওয়া এক সাক্ষাৎকার ঘিরে বিতর্কের রেশ এবার পড়েছে ক্রিকেটের ধারাভাষ্য কক্ষে। চলমান ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ধারাভাষ্য দল থেকে ইংল্যান্ডের সাবেক দুই অধিনায়ক নাসের হুসেইন ও মাইকেল আথারটনকে বাদ দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ইমরানের ছেলেদের সাক্ষাৎকার প্রচারের পরই পিসিবি ঘোষিত ছয় সদস্যের ধারাভাষ্য প্যানেলে তাদের নাম রাখা হয়নি।

চলতি বছরের শুরুতে ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান দলের অবস্থানকালে স্কাই স্পোর্টস ইমরানের দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলেমান খানের একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন আথারটন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ইংল্যান্ডের সর্বশেষ পাকিস্তান সফরের সময়ও ধারাভাষ্য দলের সদস্য ছিলেন নাসের হুসেইন ও আথারটন।

লর্ডস টেস্ট চলাকালে প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারের পর পিসিবি প্রতিবাদ হিসেবে দিনের দ্বিতীয় সেশনে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের মাঠে না নামানোর হুমকি দিয়েছিল বলে তখন খবর প্রকাশ হয়েছে। 

সাক্ষাৎকারে কাসিম ও সুলেমান অভিযোগ করেন, অবহেলা ও বিচ্ছিন্ন করে রাখার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ ‘প্রকাশ্যেই তাকে হত্যার চেষ্টা করছে’। ইমরান ও তার সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথের দ্বিতীয় ছেলে কাসিম দাবি করেন, কারাগারে একাধিক রাজনৈতিক বন্দির মৃত্যু হয়েছে। তার অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার একই পরিণতি তার বাবার ক্ষেত্রেও ঘটানোর পরিকল্পনা করছে।

ইমরানের দুই ছেলের আরও দাবি, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে দিনের ২৩ ঘণ্টারও বেশি সময় একটি ছোট কক্ষে একা থাকতে হয়। বাবার সঙ্গে দেখা করতে পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য তাদের ভিসার আবেদনও ‘কারিগরি কারণে’ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাকিস্তান সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইমরানের আত্মীয়স্বজন, আইনজীবী কিংবা চিকিৎসকদের তার সঙ্গে দেখা করতে বাধা দেওয়া হয়নি।

সাক্ষাৎকারটির রাজনৈতিক বিষয়বস্তু নিয়ে পিসিবি অসন্তুষ্ট ছিল বলে জানা গেছে। এ কারণে বোর্ডটি পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের মাঠ ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি স্কাই স্পোর্টসের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও জানিয়েছিল। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম পিটিভি অবশ্য দেশটিতে সাক্ষাৎকারটি প্রচার করেনি।

২০২৩ সাল থেকে কারাগারে থাকা ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি দৃষ্টিশক্তির ৭৫ শতাংশ হারিয়েছেন।

১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে পাকিস্তান সরকারকে চিঠি দিয়েছেন সাবেক কয়েকজন ক্রিকেটার।