টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষ চারে থাকা চাপ নয়, অনুপ্রেরণা: শান্ত

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন এখনো বেঁচে আছে বাংলাদেশের। সমীকরণ কঠিন, বাকি চারটি টেস্টই জিততে হবে। তাহলে শীর্ষ দুইয়ে থেকে ফাইনালে ওঠার ক্ষীণ সম্ভাবনা টিকে থাকবে। তবে এই পরিস্থিতিকে চাপ হিসেবে দেখছেন না অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। বরং টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চারে থাকাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন তিনি। 

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্রে চতুর্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। আগের তিনটি চক্রের তুলনায় এবার পারফরম্যান্সেও উন্নতি হয়েছে দলের। তাতে সমর্থকদের মধ্যেও টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। শান্তর মতে, এই অবস্থান খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে না। তার ভাষায়, ‘আমার কাছে এটা চাপ নয়, অনুপ্রেরণা। শীর্ষ চারে থাকার বিষয়টি আমাকে অনুপ্রাণিত করছে। টেস্ট ক্রিকেটে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, এটাও অনুপ্রেরণার। এই সিরিজের প্রস্তুতি শুরু করার পর থেকে কিংবা সিরিজ নিয়ে আলোচনা করার সময় থেকেই আমাদের মনোযোগ গত কয়েকটি সিরিজে এবং গত কয়েক বছরে আমরা টেস্ট ক্রিকেটে কেমন খেলেছি, ওই দিকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাড়তি কিছু করতে চাই না, শুধু নিজেদের প্রক্রিয়া মেনে চলতে চাই। কারও কাছে অসাধারণ কিছু প্রত্যাশা করছি না। সিরিজটি অবশ্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ, তবে আমাদের লক্ষ্য নিজেদের প্রতিষ্ঠিত বিষয়গুলো অনুসরণ করা। এই প্রক্রিয়া থেকেই আমরা ফল পাচ্ছি।’

সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে নামছে বাংলাদেশ। সেখানে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের দুই ম্যাচেই হেরেছে তারা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টটি ড্র হয়েছে। তবে শান্ত মনে করেন, পেস বোলিং বিভাগে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে এখন স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়েছে।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে এবাদত হোসেন ও হাসান মাহমুদকে পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবার বিরতি কাটিয়ে ফিরছেন তাসকিন আহমেদ। পেসারদের প্রস্তুতি ও ভূমিকা নিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘আমাদের পেস আক্রমণের ইতিবাচক দিক হলো, প্রত্যেকে নিজের ভূমিকা জানে। কে কখন খেলবে, সেটাও তারা জানে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কাকে খেলানো উচিত, সে ব্যাপারে তাদের পরিষ্কার ধারণা রয়েছে।’

শান্তর ভাষায়, ‘সিরিজের যেকোনো ম্যাচে খেলার জন্য স্কোয়াডের সবাই প্রস্তুত থাকে, এটা দারুণ ব্যাপার। প্রস্তুতির দিক থেকে তারা সব সময়ই ভালো অবস্থানে থাকে। যেকোনো সময় তাদের একজনকে বেছে নেওয়ার সুযোগ আমার জন্য বড় সুবিধা।’

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে বলে মনে করেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই ডারউইনে টেস্ট জেতা খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তবে তার আগেও এই সংস্করণে উন্নতি করার প্রবল ইচ্ছা খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল। তারা সত্যিই টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চায়। জয়ের পর সেই ইচ্ছা আরও বেড়েছে। এখন খেলোয়াড়দের মধ্যে পরবর্তী টেস্ট ম্যাচ কবে হবে, তা নিয়েও আগ্রহ বেশি দেখছি।’

টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে দর্শকদের আগ্রহও শান্তকে অনুপ্রাণিত করছে। তার মতে, ‘মানুষ টেস্ট ক্রিকেটের জন্য কতটা অপেক্ষা করে, সেটা দেখাও আনন্দের। তারা খেলা দেখে, এ নিয়ে কথা বলে। এটা আমাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। আগেও বলেছি, আমরা এখন যে অবস্থানে আছি, সেখান থেকে যদি আরও ২০ থেকে ৩০ শতাংশ উন্নতি করতে পারি, তাহলে জাতীয় দলের অবস্থান আরও উঁচুতে উঠবে। ইনশাআল্লাহ, আমরা আরও ভালো কিছু অর্জন করতে পারব।’