ওই বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্বে ইরানের বিপক্ষে মেসি জাদুতে আর্জেন্টিনা জয় পেয়েছিল ইনজুরি টাইমে। ওই সময় অবশ্য এশিয়ার দেশটির কোচ কার্লোস কুইরোজের কাছ থেকে অমন কোনও বিশেষণ শোনা যায়নি। হতে পারে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডে তিনি এতটাই বুঁদ হয়ে ছিলেন যে, সেভাবে কিছু বলার প্রয়োজন মনে করেননি।
চার বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপের আগে একটি কথায় মেসি সম্পর্কে তার সব ধারণা প্রকাশ করে দিলেন এই পর্তুগিজ। বার্সেলোনা তারকায় তিনি এতটাই মুগ্ধ, ফুটবল থেকেই তাকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব তুললেন কুইরোজ!
পুরোটাই রসিকতা, তবে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী একক পারফরম্যান্সে যেভাবে একটা দলের চিত্র পাল্টে দিতে পারেন, সেই ক্ষমতা একটা মানুষের আছে কিনা, সেটাই প্রশ্ন কুইরোজের। তাই যতদিন মেসি মানুষ বলে প্রমাণিত না হন, ততদিন ফিফার তাকে নিষিদ্ধ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ২০১১ সাল থেকে ইরানের কোচের দায়িত্ব পালন করা এই পতুর্গিজ।
এবারের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের কথাটা ধরা যাক না। আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে খেলতে পারবে কিনা, সেই সংশয় ছিল পৃথিবীর সব ফু্টবলপ্রেমীদের মনে। কিন্তু মেসি থাকলে কী হয়, সেটা আরেকবার জেনে গেল ফুটবল বিশ্ব। ইকুয়েডরের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে সরাসরিই তিনি রাশিয়া বিশ্বকাপে তুলে নিলেন আলবিসেলেস্তেদের। কুইরোজ নিজেই তো সাক্ষী এক ম্যাচের। বেলো হরিজন্তে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র’টা করেই ফেলেছিল তার দল ইরান। কিন্তু মেসি জাদুতে সব শেষ, ইনজুরি টাইমের গোলে ১-০ ব্যবধানে ঠিকই জয় নিশ্চিত করেন আর্জেন্টিনার।
ওই স্মৃতি এখনও পোড়ায় কুইরোজকে, তবে তাতে নাকি কোনও দুঃখ নেই। মেসির অমন বিস্ময়কর পারফরম্যান্স যে এখনও চোখে লেগে আছে ৬৪ বছর বয়সী এই কোচের। ‘ফিফা ডটকম’কে দেওয়া তার সাক্ষাৎকারে স্মৃতিটা ধরা দিল টাটকা হয়ে, ‘আমি সবসময় বলেছি মেসি বিস্ময়কর খেলোয়াড়। ও এই পৃথিবীর বাইরের। ও যদি মানুষ হতো, তাহলে ওই ম্যাচটিতে অমন জাদুকরী মুহূর্ত তৈরি করতে পারতো না।’
১-০ গোলে হেরে তাই দুঃখ হয়নি তার, ‘সাধারণত হারটা আমি পছন্দ করি না। তবে ওই হারের পর কেন জানি নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে আমি ফিরতে পারিনি। যখন এই ধরনের জাদুকরী মুহূর্ত তৈরি হবে, তখনই আপনার মনে হবে ফুটবল জীবন্ত ও সক্রিয়। আর এই কারণেই দেখার জন্য এটা বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলা।’
শুধু বিশ্বকাপের ওই ম্যাচ নয়, মেসির আরও অসংখ্য জাদুকরী মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন কুইরোজ। হয়তো মাঠে দাঁড়িয়ে নয়, টিভি কিংবা গ্যালারিতে বসে। তাই বার্সেলোনা খেলোয়াড়কে ফুটবল খেলতে দেওয়া উচিত কিনা, সেটা নিয়ে খানিক রসিকতাও করেছেন সাক্ষাৎকারের এক অংশে, ‘এমন আরও অসংখ্য বিশেষ মুহূর্তের জন্ম দেওয়া একজন খেলোয়াড়কে খেলতে দেওয়া উচিত না ফিফার, যত দিন না পর্যন্ত প্রমাণ হয় সে (মেসি) আসলে মানুষ!’
রসিকতায় মেসির প্রতি ভালোবাসার অন্যরকম প্রকাশ। মেসিহীন ফুটবল, ভাবা যায়!