ছোট্টবেলার বিশ্বকাপ স্মৃতিতে অনুপ্রাণিত তারা

নেইমার ও গ্যাব্রিয়েল হেসুসরাশিয়াতে তারাই তৈরি করবেন স্মরণীয় মুহূর্ত। সেই ইচ্ছার বীজ তারা রোপণ করেছেন সেই ছোট্টবেলা থেকেই, যখন ফুটবলেও লাগেনি তাদের পা। অবশ্য ফুটবলের প্রতি তাদের ভালোবাসা ছিল জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই। বিশেষ করে বিশ্বকাপের প্রথম স্মৃতি দাগ কেটেছিল অনেকের মনে। রাশিয়া বিশ্বকাপের আগে সেই স্মৃতিচারণ করেছেন নেইমার, হাভিয়ের হার্নান্দেস ও হ্যারি কেনের মতো তারকারা। যেসব স্মৃতি এবার তাদের অনুপ্রাণিত করবে, সেগুলো তুলে ধরেছে ফিফা তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে:

লুকা মদরিচ (ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডার)

আমার বয়স ওই সময় (১৯৯৮ ফ্রান্স) ছিল ১৩ বছর, জাদারে আমার পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখছিলাম। প্রত্যেকটি জয়ের পর আমরা আনন্দে ভেসেছিলাম। একই সময়ে, এটা ছিল ক্রোয়েশিয়ার জন্য দারুণ বিজ্ঞাপণ- সারা বিশ্ব শেষ পর্যন্ত আমাদের সম্পর্কে জানতে পারল। আমার মনে পড়ে, তখন থেকেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম একদিন ঠিক এই জায়গায় পৌঁছাব। এটা ছিল অসাধারণ একটা ব্যাপার।

থিয়াগো আলকান্তারাথিয়াগো আলকান্তারা (স্পেনের মিডফিল্ডার)

আমার প্রথম বিশ্বকাপ স্মৃতি ১৯৯৪ সালে, যেটা আমার বাবা (ব্রাজিলের মাজিনহো) জিতেছিল। আমার বয়স ছিল মাত্র ৩। যদিও ম্যাচগুলোর কথা খুব একটা মনে নেই। আমার মনে পড়ে তিনি ঘরে ফিরলেন এবং পুরো পুরিবার উদযাপন করল। এটা স্পষ্ট মনে আছে। তাছাড়া ২০১০ সালের স্পেন ও নেদারল্যান্ডসের ফাইনালের কথাও মনে আছে। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই গোলও। স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসে এটা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ওই সময় আমরা অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ছিলাম। যখন ইনিয়েস্তা গোল করল, তখন সবকিছু একেবারে উত্তাল হয়ে গেল। আমরা বুঝতেই পারলাম না কী করব। হৈ-হুল্লোড়ে তো টিভি পড়ে গেল মাটিতে।

গাব্রিয়েল হেসুস (ব্রাজিলের স্ট্রাইকার)

গত তিনটি বিশ্বকাপে আমি প্রতিযোগিতাটা উযদাপন করতে কেবল রাস্তায় ছবি এঁকেছি। আমাদের সমাজে এটা এক ধরনের কর্তব্য ছিল। আশা করি আমি রাশিয়া বিশ্বকাপে সুযোগ পাব এবং এতদিন যে আনন্দ পেয়েছি তার দেনাপাওনা মিটিয়ে দেবো।

রাদামেল ফালকাওরাদামেল ফালকাও (কলম্বিয়া স্ট্রাইকার)

আমার প্রথম বিশ্বকাপ স্মৃতি? ১৯৯০ সালে ইতালিতে জার্মানির বিপক্ষে ফ্রেডি রিঙ্কনের গোল। ওইসময় আমার বয়স ছিল ৪। কলম্বিয়ার প্রত্যেকে উদযাপন করেছে। এই স্মৃতিটা আমার দারুণ। পরের বিশ্বকাপ ছিল ১৯৯৪ সালে, ততদিন পর্যন্ত আমরা ওই গোলটিই দেখেছি বারবার।

হাভিয়ের হার্নান্দেস (মেক্সিকোর স্ট্রাইকার)

প্রথম যে বিশ্বকাপের কথা মনে পড়ে, সেটা হলো ১৯৯৮ সালের। ওখানে আমার সবচেয়ে বড় আইডল ছিলেন- রোনালদো। ম্যাচের সময়ের কারণে মাঝেমধ্যে আগেভাগেই স্কুলে পড়ালেখা শেষ করে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতাম, শুধু খেলা দেখার জন্য।

হ্যারি কেনহ্যারি কেন (ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার)

২০০২ সালের কথা মনে পড়ে। উঁচু দিয়ে কোনাকুনি শটে ফ্রি কিক থেকে গোল করলেন রোনালদিনহো (কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে)। এখনও আমাকে এটা কষ্ট দেয়। ওটাই ছিল বিশ্বকাপের প্রথম স্মৃতি। তারপর থেকে সবসময় আমার স্বপ্ন ছিল বিশ্বকাপে একদিন খেলব।

ইগোর আকিনফিভ (রাশিয়ার গোলরক্ষক)

আমি প্রথমবার বিশ্বকাপ দেখেছি ১৯৯৪ সালে, যুক্তরাষ্ট্রে যেটা হয়েছিল। দারুণ একটা অনুভূতি ছিল এটা। ওইসময় প্রথমবার ফুটবল কী বুঝতে পেরেছিলাম। পুরো ম্যাচে কী কী হয়, সেটাও। বিশ্বকাপে আমার দেখা সেরা স্মৃতিগুলোর একটা হলো ক্যামেরুনের বিপক্ষে, যখন ওলেগ সালেনকো ৫ গোল করলেন এবং রাশিয়া জিতল ৬-১ গোলে।

সন হিউং মিনসন হিউংমিন (দক্ষিণ কোরিয়ার ফরোয়ার্ড)

২০০২ সালের বিশ্বকাপে আমার অনেক ভালো কয়েকটি স্মৃতি আছে। মনে পড়ে স্পেনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে পেনাল্টি শুট আউটের পর প্রত্যেকে পাগলপ্রায় হয়ে গিয়েছিল। আমাদের বিশ্বাসই হচ্ছিল না। ২০০২ সালে প্রত্যেকে লাল শার্ট পরেছিল, এমনকি আমিও। বিশ্বকাপ থেকে একটি পছন্দের মুহূর্ত বাছাই করার আমার জন্য কঠিন। ২০০২ সালের প্রত্যেকটি মুহূর্ত ছিল চমৎকার।

নেইমার (ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড)

আমার প্রথম স্মৃতি ১৯৯৪ সালের। যদিও ওই সময় আমার বয়স ছিল কেবল ২। সবার আগে মনে পড়ে আমি টিভি দেখছিলাম, ওই সময় হল্যান্ডের (কোয়ার্টার ফাইনাল) বিপক্ষে রোমারিও গোল করলেন। বেবেতোর ক্রসের কথাও মনে পড়ে এবং প্রথমবার বল পায়ে নিয়েই গোল করলেন তিনি।

পল পোগবা (ফ্রান্সের মিডফিল্ডার)

১৯৯৮ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ফ্রান্সের ৩-০ গোলের জয়ের কথা ভালোভাবে মনে আছে। আমি খুব ছোট ছিলাম, বয়স ৭ বা ৮ বছর হবে। সবার সঙ্গে বাড়িতে বসে ম্যাচ দেখছিলাম। ফ্রান্স যখনই জিতল, আমরা সবাই বাইরে গেলাম এবং গাড়িতে চড়ে ঘুরলাম। চারদিক শুধু গাড়ির হর্ন বাজছিল এবং আমরা খুব আনন্দ করছিলাম।