২০১৮ বিশ্বকাপের বছর। ফুটবল মহাযজ্ঞের উত্তেজনার আঁচ এখনই পেতে শুরু করেছে বিশ্ব। ফুটবল উৎসবে মেতে ওঠার আগে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলোকে নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই ভক্ত-সমর্থকদের। এবারও অংশ নিচ্ছে ৩২ দল। তাদের শক্তি-দুর্বলতা, স্কোয়াড, প্রতিপক্ষ নিয়ে সাজানো আমাদের এই আয়োজন। আজ থাকছে ‘বি’ গ্রুপের পর্তুগালকে নিয়ে-
যদিও গত বিশ্বকাপের দুঃখটা এখনও রয়েই গেছে পর্তুগিজদের মনে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন হয়তো দেখেনি, তাই বলে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার কথাও কল্পনাতে ছিল না তাদের। কিন্তু জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের পেছনে থাকায় নকআউট পর্বে আর যাওয়া হয়নি তাদের। তবে চার বছর আগের দৃশ্যের সঙ্গে এখনকার পর্তুগালের পার্থক্য অনেক। খেলোয়াড়রা যেমন অভিজ্ঞ হয়েছেন, তেমনি অনুপ্রেরণা হিসেবে আছে দুই বছর আগের ইউরো জয়।
ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাইয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছে পর্তুগাল। কোচ ফের্নান্দো সান্তোসের আক্রমণভাগ এখন আরও ধারালো। রক্ষণটাও জমাট ও অভিজ্ঞ। সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার পেপে, জোজে ফন্তে ও ব্রুনো আলভেসের তিন জনের মিলিত বয়স ১০০’র উপরে।
একনজরে:
অধিনায়ক: ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো
কোচ: ফের্নান্দো সান্তোস
ডাকনাম: সেলেকাও
র্যাংকিং: ৪ (জুন ৭ পর্যন্ত)
ফিরে দেখা বাছাই পর্ব:
হার দিয়ে বিশ্বকাপ বাছাই শুরু করেছিল পর্তুগাল। ‘বি’ গ্রুপে বাসেলের ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে হারা ২-০ গোলের ম্যাচে চোটের কারণে ছিলেন না ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। হতাশার শেষ ওই ম্যাচেই, এরপর বাছাই পর্বের বাকি সব ম্যাচ জিতে পর্তুগিজরা সরাসরি নিশ্চিত করে রাশিয়ার বিশ্বকাপ। জয় পাওয়া ৯ ম্যাচে পর্তুগাল প্রতিপক্ষদের জালে বল জড়িয়েছে ৩২বার, আর নিজেরা হজম করেছে মাত্র ২ গোল। আক্রমণভাগে রোনালদো ও আন্দ্রে সিলভা দারুণ জুটি গড়েছিলেন, দুজন মিলে করেছেন ২৪ গোল।
পর্তুগালের বিশ্বকাপ গ্রুপ:
রাশিয়ার ফুটবল মহাযজ্ঞে পতুর্গাল রয়েছে ‘বি’ গ্রুপে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনের সঙ্গে এশিয়ার ‘পাওয়ার হাউজ’ ইরান ও আফ্রিকা অঞ্চলের মরক্কো।
পর্তুগালের বিশ্বকাপ সূচি:
স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই শুরু হবে পর্তুগালের বিশ্বকাপ মিশন। ১৫ জুন এই দ্বৈরথেই হয়তো ঠিক হয়ে যাবে ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন। পাঁচ দিন পর ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোরা মুখোমুখি হবে মরক্কোর। আর ২৫ জুন গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে পর্তুগাল খেলবে ইরানের বিপক্ষে।
১৫ জুন: স্পেন
২০ জুন: মরক্কো
২৫ জুন: ইরান
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো: যে দলে রোনালদো আছেন, সেই দলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তার থাকাই স্বাভাবিক। বিশ্বকাপে আরও একবার পর্তুগিজরা তাকিয়ে থাকবেন তার দিকে। ২০১৬ সালের ইউরো জিতিয়ে পর্তুগালকে প্রথম কোনও শিরোপা উপহার দিয়েছেন তিনি, এবার পালা বিশ্বকাপের। সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমটাও দারুণ কেটেছে এই উইঙ্গারের। লা লিগা ও কোপা দেল রে’তে হতাশ হলেও টানা তৃতীয়বারের মতো হাতে তুলেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা। সেই আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করেই ফুটবল মহাযজ্ঞে নামতে যাচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
বের্নারদো সিলভা: বয়স মাত্র ২৩, তবে এর মধ্যেই নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন বের্নারদো সিলভা। ম্যানচেস্টার সিটিতে দারুণ সময় কাটিয়েছেন এই উইঙ্গার। এবার বিশ্ব মঞ্চে নিজেকে মেলে ধরার পালা।
পেপে: বয়সের সঙ্গে হয়েছেন আরও অভিজ্ঞ। পর্তুগালের ইউরো জয়ে রক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা পেপের ওপর আবারও দায়িত্ব থাকবে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোর। রিয়াল মাদ্রিদে ১০ বছর কাটিয়ে এখন বেসিকতাসের হয়ে খেলা এই ডিফেন্ডার প্রস্তুত তার দায়িত্ব সামলাতে।
ফুটবল মহাযজ্ঞে থাকছেন না:
২০১৬ সালের ইউরো জয়ে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল রেনাতো সানচেসের। ফ্রান্সের আসরে হয়েছিলেন সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ও। কিন্তু বিশ্বকাপের প্রাথমিক দলেও জায়গায় পাননি ২০ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার! রাশিয়ায় দেখা যাবে না বার্সেলোনার দুই খেলোয়াড়- মিডফিল্ডার আন্দ্রে গোমেস ও ফুলব্যাক নেলসন সেমেদোকে।
শক্তি: আক্রমণভাগ।
দুর্বলতা: মাঝমাঠ।
ভবিষ্যদ্বাণী: সেমিফাইনাল।
চূড়ান্ত স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: আন্থনি লোপেস (লিওঁ), রুই পাত্রিসিও (স্পোর্তিং), বেতো (গোৎপে); ডিফেন্ডার: ব্রুনো আলভেস (রেঞ্জার্স), সেদরিক সোয়ারেস (সাউদাম্পটন), জোজে ফন্তে (দালিয়ান ইফাং), মারিও রুই (নাপোলি), পেপে (বেসিকতাস), রাফায়েল গেহেইরো (বরুশিয়া ডর্টমুন্ড), রিকার্দো পেরেইরা (পোর্তো), রুবিন দিয়াস (বেনফিকা); মিডফিল্ডার: আদ্রিয়েন সিলভা (লিস্টার সিটি), ব্রুনো ফের্নান্দেস (স্পোর্তিং), জোয়াও মারিও (ওয়েস্ট হ্যাম), জোয়াও মৌতিনিয়ো (মোনাকো), মানুয়েল ফের্নান্দেস (লোকোমোতিভ), উইলিয়াম কারভালো (স্পোর্তিং); ফরোয়ার্ড: আন্দ্রে সিলভা (এসি মিলান), বের্নারদো সিলভা (ম্যানচেস্টার সিটি), ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (রিয়াল মাদ্রিদ), জেসলন মারতিনস (স্পোর্তিং), গনসালো গেজিস (ভ্যালেন্সিয়া), রিকার্দো কুয়ারেজমা (বেসিকতাস)।