২০১৮ বিশ্বকাপের বছর। ফুটবল মহাযজ্ঞের উত্তেজনার আঁচ এখনই পেতে শুরু করেছে বিশ্ব। ফুটবল উৎসবে মেতে ওঠার আগে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলোকে নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই ভক্ত-সমর্থকদের। এবারও অংশ নিচ্ছে ৩২ দল। তাদের শক্তি-দুর্বলতা, স্কোয়াড, প্রতিপক্ষ নিয়ে সাজানো আমাদের এই আয়োজন। আজ থাকছে ‘ই’ গ্রুপের কোস্টারিকা-
বাজে কিছু হারও সঙ্গী হয়েছে। যদিও অনুপ্রেরণা হিসেবে থাকছে আগের বিশ্বকাপের সুখস্মৃতি। ইংল্যান্ড, ইতালি ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে একই গ্রুপে থাকায় কোস্টারিকাকে ‘বাতিলের খাতায়’ রাখা হয়েছিল। অথচ ইংল্যান্ড ও ইতালিকে বিদায় করে দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নাম লেখায় তারা শেষ ষোলোতে। এরপর গ্রিস বাধা পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হারে টাইব্রেকারে। এবারও গ্রুপে কঠিন পরীক্ষার সামনে কোস্টারিকা। ‘ই’ গ্রুপে তাদের সঙ্গে রয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাই পর্বে দুর্দান্ত পারফর্ম করা সুইজারল্যান্ড ও সার্বিয়া।
গ্রুপ পর্ব টপকানো তাই কোস্টারিকার জন্য চ্যালেঞ্জের। এরপরও গত বিশ্বকাপের সাফল্য হিসাবে নিলে রাশিয়ার আসরে নকআউট পর্বে দেখা যেতে পারে তাদের। আর সেজন্য আক্রমণভাগের জ্বলে ওঠাটা জরুরি।
একনজরে:
অধিনায়ক: ব্রায়ান রুইস
কোচ: অস্কার নাভাস
ডাকনাম: লা সেলে
র্যাংকিং: ২৫ (জুন ৭ পর্যন্ত)
বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে: ৪বার (১৯৯০, ২০০২, ২০০৬, ২০১৪)।
বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য: ২০১৪- কোয়ার্টার ফাইনাল।
ফিরে দেখা বাছাই পর্ব:
র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকায় কনকাকাফ অঞ্চলের বাছাই পর্বের চতুর্থ রাউন্ড থেকে খেলেছে কোস্টারিকা। ১৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পঞ্চম ও চূড়ান্ত রাউন্ডে ওঠে তারা। ত্রিনিদাদ ও টোবাগোকে হারিয়ে পঞ্চম রাউন্ড শুরুর পর দ্বিতীয় ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে দেয় ৪-০ ব্যবধানে। লা সেলেরা প্রথম হারের মুখ দেখে তৃতীয় রাউন্ডে, মেক্সিকোর বিপক্ষে। পরের দুই ম্যাচে হন্ডুরাস ও পানামার সঙ্গে ড্র করে মাত্র ২ পয়েন্ট পায়। তবে শেষ পাঁচ ম্যাচের প্রথম দুটিতে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো এবং যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও হারিয়ে রাশিয়ার টিকিট নিশ্চিত করে। শেষ তিন ম্যাচের একটিও না জিতলেও ১৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হয়ে রাশিয়ার মূল পর্বে ওঠে যায় কোস্টারিকা।
কোস্টারিকার বিশ্বকাপ গ্রুপ:
গ্রুপ পর্বে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে কোস্টারিকাকে। ‘ই’ গ্রুপের তাদের প্রতিপক্ষ ব্রাজিল, সার্বিয়া ও সুইজারল্যান্ড।
কোস্টারিকার বিশ্বকাপ সূচি:
সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ১৭ জুন বিশ্বকাপ শুরু করবে কোস্টারিকা। ২২ জুন কঠিন পরীক্ষায় নামবে ব্রাজিলের বিপক্ষে। আর ২৭ জুন গ্রুপের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড।
১৭ জুন: সার্বিয়া
২২ জুন: ব্রাজিল
২৭ জুন: সুইজারল্যান্ড
কেইলর নাভাস: গোলবারের নিচে আরেকটি দুর্দান্ত মৌসুম পার করেছেন তিনি রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে। মাদ্রিদের ক্লাবটির চ্যাম্পিয়নস লিগের হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতার পথে কেইলর নাভাসের অবদান অনেক। লিভারপুলের বিপক্ষে ফাইনালে দুটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়েছেন দারুণ দক্ষতায়। কোস্টারিকার বিশ্বকাপে ওঠার পথেও অবদান রেখেছিলেন এই গোলরক্ষক, এবার পালা চূড়ান্ত মঞ্চে জ্বলে ওঠার।
ফুটবল মহাযজ্ঞে থাকছেন না:
আলভারো সাবোরিও ২০১৪ বিশ্বকাপ খেলতে পারেননি চোটের কারণে। এবারের আসরেও দেখা যাবে না এই স্ট্রাইকারকে। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন তিনি।
শক্তি: রক্ষণ ও গোলরক্ষক।
দুর্বলতা: স্কোরারের অভাব।
ভবিষ্যদ্বাণী: শেষ ষোলো
চূড়ান্ত দল:
গোলরক্ষক: কেইলর নাভাস (রিয়াল মাদ্রিদ), পাত্রিক পেমবেরতোন (আলাখুয়েলেন্সে), লিওনেল মোরেইরা (হেরেদিয়ানো); ডিফেন্ডার: জিয়ানকার্লো গোনসালেস (বোলোনিয়া), জনি আকোস্তা (আগুইলাস দোরাদাস), ক্রিস্তিয়ান গাম্বোয়া (সেল্টিক), ব্রায়ান ওভেইদো (সান্ডারল্যান্ড), অস্কার দুয়ারতে (এস্পানিওল), ফ্রানসিস্কো কালভো (মিনেসোটা ইউনাইটেড), কেনদাল ওয়াস্তন (ভ্যানকুভার), রোনাল্দ মাতারিতা (নিউ ইয়র্ক সিটি), ইয়ান স্মিথ (নোরকোপিং); মিডফিল্ডার: সেলসো বোরগেস (দেপোর্তিভো লা করুণা), ক্রিস্তিয়ান বোলানোস (সাপরিসা), রান্দাল আসোফেইফা (হেরেদিয়ানো), ইয়েলৎসিন তেহেদা (লুজান), দাভিদ গুজমান (পোর্টল্যান্ড টিম্বার্স), রোদনি ওয়ালেস (নিউ ইয়র্ক সিটি), দানিয়েল কোলিন্দ্রেস (সাপরিসা); ফরোয়ার্ড: ব্রায়ান রুইস (স্পোর্তিং), জোয়েল কাম্পবেল (রিয়াল বেতিস), মার্কো উরেনা (লস অ্যাঞ্জেলস), জোহান বেনেগাস (সাপরিসা)।