৩২ দলের অঙ্ক

ইতালি-নেদারল্যান্ডসের বিশ্বকাপ স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দেওয়া সুইডেন

২০১৮ বিশ্বকাপের বছর। ফুটবল মহাযজ্ঞের উত্তেজনার আঁচ এখনই পেতে শুরু করেছে বিশ্ব। ফুটবল উৎসবে মেতে ওঠার আগে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলোকে নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই ভক্ত-সমর্থকদের। এবারও অংশ নিচ্ছে ৩২ দল। তাদের শক্তি-দুর্বলতা, স্কোয়াড, প্রতিপক্ষ নিয়ে সাজানো আমাদের এই আয়োজন। আজ থাকছে ‘এফ’ গ্রুপের সুইডেন-

সুইডেন ফুটবল দলদুই আসর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে সুইডেন। সেই ফেরাটাও রূপকথার গল্প লিখে। ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাইয়ে নেদারল্যান্ডস ও ইতালির মতো শক্তিশালী ও সাফল্যময় দলের বিশ্বকাপ স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিয়ে রাশিয়ার ফুটবল মহাযজ্ঞে জায়গা করে নিয়েছে তারা।

ইতালি ও নেদারল্যান্ডস বিশ্বকাপের নিয়মিত মুখ। ডাচরা বিশ্বকাপ না জিতলেও ফেভারিটের খাতায় থাকে প্রায় সময়ই। অন্যদিকে ইতালি বিশ্বকাপের পরীক্ষিত দল, শিরোপা জিতেছে চারবার। এই দল দুটি বিশ্বকাপে না থাকলে ফুটবলের বিশ্ব আসরের আলো কিছুটা হয়তো কমবে, তবে সুইডেন তার প্রাপ্য সম্মানটাই পেয়েছে। দুর্দান্ত ফুটবলের ঘায়েল করেছে বিশ্বসেরা দলগুলোকে। তাও আবার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচকে ছাড়া! যাকে সুইডেনের সর্বকালের অন্যতম সেরা বলে বিবেচনা করা হয়, সেই ইব্রা ২০১৬ সালের ইউরো ব্যর্থতার পর অবসর নিলেও দলীয় সমন্বয় ও একতায় কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে রাশিয়ায় পৌঁছে গেছে সুইডেন।

বাছাইয়ের পর মূল আসরেও দিতে হবে তাদের কঠিন পরীক্ষা। ‘এফ’ গ্রুপে তাদের সঙ্গে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। শুধু তারাই নয়, কনকাকাফ অঞ্চলের শক্তি মেক্সিকোর মুখোমুখিও হতে হবে সুইডেনের। তাদের সঙ্গে রয়েছে এশিয়া অঞ্চলের দক্ষিণ কোরিয়া।

একনজরে:

অধিনায়ক: আন্দ্রেয়াস গ্রেয়ানফিস্ত

কোচ: ইয়ানে আন্দেরসন

ডাকনাম: দ্য ব্লু-ইয়োলো

র‌্যাংকিং: ২৪ (জুন ৭ পর্যন্ত)।

বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে: ১১বার- ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৫০, ১৯৫৮, ১৯৭০, ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৯০, ১৯৯৪, ২০০২, ২০০৬।

বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য: রানার্স-আপ- ১৯৫৮।

ফিরে দেখা বাছাই পর্ব:

ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাইয়ে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে সুইডেনকে। সব বাধা পেরিয়ে চারবারের বিশ্ব  চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে বিদায় করে দিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে তারা। প্লে অফে ইতালিকে ১-০ গোলে হারিয়ে দুই আসর পর ফিরেছে তারা বিশ্বকাপে।

বাছাই পর্বে ‘এ’ গ্রুপে তাদের সঙ্গে ছিল ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, বুলগেরিয়ার মতো দল। ফ্রান্সের দাপটের সামনে তারা পারেনি, চ্যাম্পিয়ন হয়ে সরাসরি বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে ফরাসিরা। তবে নেদারল্যান্ডসকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় হয়ে প্লে অফে জায়গা করে নেয় সুইডেন। প্রথমে শক্তিশালী ডাচদের বিদায় করে দেওয়া, এরপর প্লে অফে ইতালিকে হারানো- বিশ্বকাপে ওঠার পথেই সাফল্যের ভেলায় ভেসেছে সুইডিশরা।

ঘরের মাঠে ইতালির বিপক্ষে প্লে অফের প্রথম লেগ ১-০ গোলে জেতে সুইডেন। এরপর আজ্জুরিদের মাঠে গিয়ে গোলশূন্য ড্র করে দুই লেগ মিলিয়ে ১-০ অগ্রগামিতায় বিশ্বকাপের মূল পর্ব নিশ্চিত করে সুইডিশরা।

সুইডেনের বিশ্বকাপ গ্রুপ:

‘এফ’ গ্রুপে সুইডেনের সঙ্গে রয়েছে জার্মানি, মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়া।

সুইডেনের বিশ্বকাপ সূচি:

গ্রুপ পর্বে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে সুইডিশদের। ১৮ জুন নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া। ২৩ জুন নামবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে। আর ২৭ জুন গ্রুপের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ মেক্সিকো।

১৮ জুন: দক্ষিণ কোরিয়া

২৩ জুন: জার্মানি

২৭ জুন: মেক্সিকো

নজরে থাকবেন:

ইয়েমিল ফোসবার্গ: জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের পরা ১০ নম্বর জার্সি পেয়েছেন তিনি। ফোসবার্গের কাছে এই আনন্দের সীমা নেই। ভালো লাগাটা লাইপজিক উইঙ্গারের মনে আরও দোলা দেয়, যখন দেখেন ইব্রাহিমোভিচের মতো তাকে ঘিরেও স্বপ্ন দেখেন সুইডিশরা। রাশিয়া বিশ্বকাপে নজরটা তাই তার ওপরই থাকবে। সুইডেনের কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবলে ভীষণ কার্যকরী ফোসবার্গ। তার চমৎকার নিয়ন্ত্রণ, ড্রিবলিং ও দুর্দান্ত শুটিং সুইডিশদের জন্য তৈরি করে দেয় গোলের সুযোগ।

জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচফুটবল মহাযজ্ঞে থাকছেন না:

জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ: সুইডেন বিশ্বকাপে, অথচ দেখা যাবে না দলটির সর্বোচ্চ গোলদাতা ইব্রাহিমোভিচকে। সুইডেন বাছাই পর্ব টপকাতে না পারায় ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে খেলা হয়নি তার। এবার তারা বিশ্বকাপে ফিরলেও তার আগেই অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার। ২০১৬ সালের ইউরো ব্যর্থতার পর জাতীয় দলকে বিদায় বলেন ১১৬ ম্যাচে ৬২ গোল করা ইব্রা। অবসর ভেঙে বিশ্বকাপে ফেরার গুঞ্জন শোনা গেলেও সেটা আর হয়নি।

শক্তি: দলীয় সমন্বয় ও একতা।

দুর্বলতা:  মাঝমাঠ।

ভবিষ্যদ্বাণী: শেষ ষোলো।

চূড়ান্ত স্কোয়াড:

গোলরক্ষক: রবিন ওলসেন, কার্ল-ইয়োহান ইয়োনসন, ক্রিস্তোফার নুফেল; ডিফেন্ডার: মিকায়েল লুস্তিগ, ভিক্তর নিলসন লিনদেল্ফ, আন্দ্রেয়াস গ্রেয়ানফিস্ত, মার্তিন ওলসন, লুদবিগ অগাস্তিনসন, ফিলিপ হেলান্দের, এমিল ক্রাফত, পোনতাস ইয়ানসন; মিডফিল্ডার: সেবাস্তিয়ান লারসন, আলবিন একদাল, ইয়েমিল ফোসবার্গ, গুস্তাভ সভেনসন, অস্কার হিলিয়েমার্ক, ভিক্তর ক্লায়েসন, মার্কাস রোহদেন, জিমি দারমাজ; ফরোয়ার্ড: মার্কাস বার্গ, জন গুইদেত্তি, ইসাক কিয়েসে থেলিন, ওলা থোইভোলেন।