৩২ দলের অঙ্ক

বেলজিয়ামের ‘সোনালি প্রজন্ম’ জাগাচ্ছে নতুন আশা

২০১৮ বিশ্বকাপের বছর। ফুটবল মহাযজ্ঞের উত্তেজনার আঁচ এখনই পেতে শুরু করেছে বিশ্ব। ফুটবল উৎসবে মেতে ওঠার আগে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলোকে নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই ভক্ত-সমর্থকদের। এবারও অংশ নিচ্ছে ৩২ দল। তাদের শক্তি-দুর্বলতা, স্কোয়াড, প্রতিপক্ষ নিয়ে সাজানো আমাদের এই আয়োজন। আজ থাকছে ‘জি’ গ্রুপের বেলজিয়াম-

বেলজিয়াম দলচার বছর আগের কথা ধরা যাক। মাঠের প্রত্যেকটি পজিশনে তারকা খেলোয়াড়। যারা বসে ছিলেন সাইড বেঞ্চে, তাদের দিয়েও আরেকটি জাতীয় দল গড়া যাবে অবলীলায়। তারকাসমৃদ্ধ শক্তিশালী স্কোয়াডের বেলজিয়ামকে তাই বলা হয়েছিল ‘ডার্ক হর্স’। যদিও ব্রাজিলের আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে আটকে যায় ‘রেড ডেভিলরা’। চার বছর পর রাশিয়ার প্রতিযোগিতায় নামার সময় বেলজিয়াম আরও বেশি শক্তিশালী। ২০১৪ বিশ্বকাপে খেলা তরুণ খেলোয়াড় এখন অনেক বেশি অভিজ্ঞ ও পরিণত। বেলজিয়ামের ‘সোনালি প্রজন্মের’ এই স্কোয়াড জাগাচ্ছে নতুন আশা।

দলে তারকা খেলোয়াড়ের অভাব নেই। এডেন হ্যাজার্ড, রোমেলু লুকাকু, ড্রিস মের্টেনসের মতো তারকা খেলোয়াড়ের ভিড়ে বেলজিয়ামের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা কেভিন ডি ব্রুইন। ম্যানসিটিতে দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটিয়ে নামতে যাচ্ছেন তিনি বিশ্বকাপে।

২০১৬ সালে বেলজিয়ামের দায়িত্ব নিয়ে দারুণভাবে দল গুছিয়ে নিয়েছেন রবের্তো মার্তিনেস। তার অধীনে ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাইয়ের ‘এইচ’ গ্রুপে কোনও ম্যাচ না হেরে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে রেড ডেভিলরা। রাশিয়ার আসরের গ্রুপ পর্বে খুব একটা বেগ পাওয়া কথা নয় তাদের। ‘জি’ গ্রুপে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, তিউনিসিয়া ও পানামা। মূলত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইটা হবে তাদের ইংল্যান্ডের সঙ্গে।

একনজরে:

অধিনায়ক: এডেন হ্যাজার্ড

কোচ: রবের্তো মার্তিনেস

ডাকনাম: রেড ডেভিলস

র‌্যাংকিং:

বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে: ১২বার- ১৯৩০, ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৫৪, ১৯৭০, ১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০, ১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২, ২০১৪

বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য: চতুর্থ স্থান- ১৯৮৬

ফিরে দেখা বাছাই পর্ব:

দাপুটে পারফরম্যান্সে সহজেই বাছাই পর্ব পেরিয়ে গেছে বেলজিয়াম। ১০ ম্যাচের একটিতেও হারের মুখ দেখেনি তারা, ৯ জয়ে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে রাশিয়ার টিকিট নিশ্চিত করে কেভিন ডি ব্রুইনরা। সাইপ্রাসের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে বাছাই শুরু করা বেলজিয়ামের গ্রুপটা খুব একটা কঠিন ছিল না। গ্রুপের অন্য দলগুলো ছিল- গ্রিস, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, এস্তোনিয়া এবং জিব্রালটার। বাছাই পর্বে প্রতিপক্ষের জালে ৪৩বার বল জড়িয়েছে রেড ডেভিলরা, বিপরীতে হজম করেছে মাত্র ৬ গোল।

বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ গ্রুপ:

‘জি’ গ্রুপে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ পানামা, তিউনিসিয়া ও ইংল্যান্ড।

বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ সূচি:

১৮ জুন পানামার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হবে বেলজিয়ামের। ২৩ জুন দ্বিতীয় ম্যাচে প্রতিপক্ষ তিউনিসিয়া। আর ২৮ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ডের।

১৮ জুন: পানামা

২৩ জুন: তিউনিসিয়া

২৮ জুন: ইংল্যান্ড

কেভিন ডি ব্রুইননজরে থাকবেন:

কেভিন ডি ব্রুইন: বেলজিয়ামে তারকা খেলোয়াড়ের অভাব নেই, এবং সবাই পরীক্ষিত। তবে মাঠমাঝ কিংবা পজিশন পাল্টে আক্রমণভাগে যেভাবে বল জোগান দিতে পারেন ডি ব্রুইন, তাতে তার ওপরই নির্ভর করছে বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ দৌড়। সতীর্থের কাছে ডিফেন্স চিড়া পাস দিতে তিনি দ্বিতীয়বার ভাবেন না, পজিশন পাল্টে খেলতেও পারদর্শী। লং পাস কিংবা ছোট পাসে তার জুড়ি নেই। জাতীয় দলের সতীর্থরাও খুব ভালো করে জানেন তার সামর্থ্য। তাই বল দেওয়া-নেওয়ার বেলায় না দেখেও একে-অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ হয়ে যায় তাদের। বিশ্বকাপে নামতে যাচ্ছেন তিনি ম্যানসিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতার আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করে।

এডেন হ্যাজার্ড: চেলসির জার্সিতে গত মৌসুমটা ভালো কাটেনি তার। তবে কে না জানে, এডেন হ্যাজার্ডের সামর্থ্যের কথা। গত বিশ্বকাপে গিয়েছিলেন ফর্মের চূড়ায় থেকে, ক্লাব ফুটবলে এবার সেই জায়গায় না থাকলেও বেলজিয়াম দলে তিনি বরাবরই দুর্দান্ত। হ্যাজার্ডের কাছে প্রত্যাশা এমনিতেই বেশি থাকে সবসময়, এবার সেই প্রত্যাশার চাপের সঙ্গে থাকবে অধিনায়কের দায়িত্ব।

ফুটবল মহাযজ্ঞে থাকছেন না:

রাডিয়া নাইনগোলান: রোমাতে স্মরণীয় এক মৌসুম পার করেছেন নাইনগোলান। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ইতালিয়ান ক্লাবটি বিদায় করে দেয় বার্সেলোনাকে, সেখানেও তিনি রেখেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ক্লাব ফুটবলের এই পারফরম্যান্স দিয়েও কোচ রবের্তো মার্তিনেসের মন গলাতে পারেননি। বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা হয়নি তার। হতাশায়, ক্ষোভে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়ই বলে দিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী মিডফিল্ডার।

শক্তি: দুর্দান্ত আক্রমণভাগ ও মাঝমাঠ

দুর্বলতা:  কোচ মার্তিনেস দল গুছিয়ে নিলেও এখনও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি আছে

ভবিষ্যদ্বাণী: কোয়ার্টার ফাইনাল

চূড়ান্ত স্কোয়াড:

গোলরক্ষক: কোয়েন কাসটিলস, থিবো কোর্তোয়া, সিমন মিনোলেট; ডিফেন্ডার: টোবি আল্ডারভেইরেল্ড, ডেডরিক বোয়াটা, ভিনসেন্ট কোম্পানি, থোমাস মুনিয়ের, থোমাস ভারমালিন, ইয়ান ভার্তুনেন; মিডফিল্ডার: নাসের চাডিল, কেভিন ডি ব্রুইন, মুসা দেম্বেলে, লিয়েন্ডার ডেনডুনকার, মারুয়ান ফেলাইনি, ইউরি টিলেমান্স, আক্সেল ভিটসেল; ফরোয়ার্ড: মিশি বাটশুয়াই, ইয়ানিক কারাস্কো, এডেন হ্যাজার্ড, থোরগান হ্যাজার্ড, আদনান ইয়ানুজাই, রোমেলু লুকাকু, ড্রিস মারটেন্স।