পঞ্চমবার বিশ্বকাপ খেলার স্বাদ পেতে যাচ্ছে ইরান ও মরক্কো। তারপরও অভিজ্ঞতায় কিছুটা তফাৎ রয়েছে দুই দলের মধ্যে। ইরান টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপে, আর মরক্কো খেলছে ২০ বছর পর। এনিয়ে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন ইরান কোচ কার্লোস কুইরোস, আর এবারই প্রথমবার বিশ্ব আসরে মরক্কো কোচ এর্ভে রেনার্দ।
অভিজ্ঞতায় ব্যবধান থাকলেও বাছাই পর্বে দারুণ খেলেছে দুই দল। মরক্কো তাদের ৮ ম্যাচে মাত্র ১ গোল খেয়েছে। আর ১৮ ম্যাচে ইরানের জালে বল ঢুকেছে মাত্র ৫ বার। কিন্তু দুই দলের দুর্ভাগ্য পর্তুগাল ও স্পেনের সঙ্গে কঠিন গ্রুপে পড়েছে তারা। রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেললেও শেষ ষোলোতে যেতে হলে তাই প্রথম ম্যাচটি জিততেই হবে ইরান ও মরক্কোকে। যদিও বিশ্বকাপে তাদের দেখা কখনও হয়নি। মাত্র একবার তারা মুখোমুখি হয়েছিল প্রীতি ম্যাচে, যেটা শেষ হয় ড্রতে।
অবশ্য বিশ্বকাপে খুব ভালো কোনও অভিজ্ঞতা নেই দুই দলের কারও। ১৩ ম্যাচ খেলে মাত্র দুটি জিতেছিল মরক্কো (৪ ড্র, ৭ হার)। ১৯৮৬ ও ১৯৯৮ সালে জিতেছিল একটি করে ম্যাচ। দুই দশক পর বিশ্বকাপে ফিরেছে তারা। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করতে চায় দলটি। কোচ রেনার্দ প্রস্তুত, ‘আমাদের প্রতিপক্ষ দলের কোচের এটা টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ। আমি এখানে প্রথমবার, শুরু করছি কেবল। কিন্তু সেন্ট পিটার্সবার্গে আমরা ছবি তুলতে আসিনি, লড়তে এসেছি। ড্র হওয়ার পর থেকে আমরা ইরানকে নিয়ে অনেক ভেবেছি।’
যদিও বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকে দুঃসংবাদ লেগে আছে তাদের পেছনে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবরোধে নাইকি ইরানকে বুট সরবরাহ বন্ধ করেছে। স্ট্রাইকার মেহেদি তারেমি ইনজুরিতে এবং ফেডারেশন প্রধান মেহেদি তাদেশ হার্ট অ্যাটাকের শিকার করেছেন। এসব সমস্যায় কিন্তু ভেঙে পড়ছেন না কুইরোস। বরং একে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে শেষ ষোলো খেলার স্বপ্ন তার, ‘আমরা এসবকে (সমস্যা) অজুহাত হিসেবে দেখতে চাই না। আমরা স্বীকার করছি তারা ফেভারিট। কিন্তু আমাদের জেতার সামর্থ্য নেই এমন বলাটা সহ্য করতে পারি না। আমাদের আশা-প্রত্যাশাকে খাটো করে দেখা সহ্য করব না। ফেভারিটদের লড়তে আমরা এখানে এসেছি।’
খেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল নাগরিক টিভি, মাছরাঙা টিভি, সনি টেন ১ ও টেন ২। গোল ডটকম