মিশরের বাধার দেয়াল ভেঙে উরুগুয়ের উল্লাস

গোলের পর গিমেনেসের বাধভাঙা উল্লাসঅবশেষে খুললো গোলমুখের তালা। একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে বারবার হতাশায় ছেয়ে যাওয়া উরুগুয়ে শিবিরে আনন্দের ঢেউ তুললেন হোসে গিমেনেস। অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের এই ডিফেন্ডারের হেডেই মিশরকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলো উরুগুয়ে।

চোটের কারণে মিশরের সবচেয়ে বড় তারকা মোহাম্মদ সালাহ ছিলেন বেঞ্চে। তাকে ছাড়া আফ্রিকার দেশটিকে দিতে হয়েছে কঠিন পরীক্ষা। উরুগুয়ের আক্রমণের পর আক্রমণ ঠেকাতেই বেশিরভাগ সময় গেছে তাদের। ৯০ মিনিট পর্যন্ত লাতিন দেশটিকে আটকেও রেখেছিল মিশর। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি, একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে গোলের দেখা পেয়েছে উরুগুয়ে।

চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে সের্হিয়ো রামোসের ফাউলে কাঁধে আঘাত পাওয়ায় মাঠ থেকে ছিটকে যান সালাহ। শুরুতে বলা হয়েছিল বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচ খেলতে পারবেন না মিশরীয় ফরোয়ার্ড। যদিও উরুগুয়ের ম্যাচের আগে আবার শোনা যায় মাঠে নামার জন্য তিনি ‘শতভাগ ফিট’। কিন্তু বাস্তবে তা মেলেনি। বেঞ্চে বসে দলের হার দেখতে হয়েছে লিভারপুল তারকাকে।

দলের সেরা অস্ত্রকে ছাড়া গোলশূন্য ড্র অনেক বড় প্রাপ্তি হতো মিশরের জন্য। কাজটা প্রায় করেই ফেলেছিল আফ্রিকার দেশটি। কিন্তু ৯০ মিনিটে কার্লোস সানচেসের নেওয়া ফ্রি কিক ছোট বক্সের সামনে থেকে লাফিয়ে উঠে হেড করে উরুগুয়েকে গুরুত্বপূর্ণ ৩ পয়েন্ট এনে দেন গিমেনেস।

এই হেডেই আসে উরুগুয়ের জয়তার আগে সুযোগ নষ্টের মিছিলে নেমেছিল দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। লুই সুয়ারেস অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেছেন। যার মধ্যে গোলরক্ষককে একা পেয়েও যেভাবে ব্যর্থ হয়েছেন, তাতে বার্সেলোনায় কাটানো দুর্দান্ত ফর্মের সুয়ারেসেকে একেবারেই পাওয়া যায়নি। এদিনসন কাভানিও ব্যর্থ। প্যারিস সেন্ত জার্মেইয়ের জার্সিতে গোলের বৃষ্টি ঝরিয়ে এসে আটকে গেছেন মিশরের সামনে।

তবে শুধু তাদের ব্যর্থতার কথা বললে খাটো করা হবে মিশরীয় গোলরক্ষক মোহাম্মদ এল শেনায়ির কৃতিত্ব। তার দুর্দান্ত সব সেভেই উরুগুয়েরে সুবর্ণ সুযোগগুলো ভেস্তে গেছে।