কয়েক দিন আগেই বিধ্বস্ত চেহারার লিওনেল মেসিকে দেখা গিয়েছিল। আইসল্যান্ডের সঙ্গে পেনাল্টি মিস, সঙ্গে হতাশার ড্র। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নিজেকে হারিয়ে ফেলা। চিরচেনা মেসিকে দেখতে পাওয়া যায়নি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম দুই ম্যাচে। কিন্তু মনে বিশ্বাস ছিল তার, শেষ ষোলোতে উঠবে আর্জেন্টিনা।
‘ডি’ গ্রুপে আইসল্যান্ডের সঙ্গে ড্রর পর ক্রোয়েশিয়ার কাছে হারে খাদের কিনারায় ছিল আর্জেন্টিনা। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে বাঁচা-মরার শেষ লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়াল তারা। পথ দেখালেন মেসি নিজে গোল করে। ৩১তম জন্মদিনে সবার ভালোবাসা ও শুভ কামনা তাকে নতুন করে ফেরাল। নাইজেরিয়াকে ২-১ গোলে হারানোর পর মেসি জানালেন, কখনও ভেঙে পড়েননি তিনি। বিশ্বকাপে টিকে থাকার স্বপ্ন ঠিক জ্বলজ্বল করছিল তার চোখে।
রোমাঞ্চকর ম্যাচ জয়ের পর মেসি বলেছেনম ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে এই ম্যাচ জিততে পারব। এভাবে জিততে পারা দারুণ। এই আনন্দ-উচ্ছ্বাসের দাবিদার আমরা।’ রাশিয়া বিশ্বকাপের শততম গোলদাতা আরও যোগ করেছেন, ‘আমি জানতাম ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে আছেন। তিনি আমাদের ছেড়ে যাবেন না। এখানে আসা সব ভক্ত-সমর্থককে ধন্যবাদ জানাই তাদের বিসর্জনের জন্য, যারা আর্জেন্টিনায় বসেও আমাদের সঙ্গে ছিলেন তাদের কাছেও কৃতজ্ঞ। জাতীয় দলের এই জার্সি সবার উপরে।’
মেসির গোলই শেষ ষোলোতে ওঠার জন্য যথেষ্ট ছিল না। দলের ত্রাতা হয়ে এলেন মার্কোস রোহো। ৮৬ মিনিটে মেরকাদোর লম্বা ক্রস থেকে বক্সের ঠিক মাঝখান থেকে ডান পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করে দলকে জেতান এই ম্যানইউ ডিফেন্ডার। আইসল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দলের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক না হলেও তার বিশ্বাস, নকআউটে আর্জেন্টিনা ওঠায় এখন যেকোনও কিছু সম্ভব।
আগামী শনিবার ফ্রান্সের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত হওয়ার পর রোহো বলেছেন, ‘আমাদের এটা দরকার ছিল। এখন আমাদের কাপের লড়াই শুরু। লিওনেল মেসি দলের সবাইকে বলেছিল, সে একটি বা তার বেশি গোল করতে যাচ্ছে। আমার এই গোল পরিবার ও এই দলের জন্য, যার প্রাপ্য এটা। এগিয়ে চলো আর্জেন্টিনা।’