ক্রোয়েশিয়া সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক রাশিয়ার। রবিবার আগের ম্যাচে স্পেনকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে রুশরা।
মস্কোর পর একই দিন নোভগোরদেও শেষ ষোলোর ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় টাইব্রেকারে। ৪ মিনিটে ২ গোলে ডেনমার্ক ও ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচ দারুণ উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। ১-১ গোলে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধেই ম্যাচ জিততে পারত ক্রোয়েটরা। কিন্তু মদরিচের পেনাল্টি শট ব্যর্থ করে দেন স্মেইকেল। তবে আসল পরীক্ষায় প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন ডেনিস গোলরক্ষক।
তার আগে দারুণ শুরু করে দুই দল। ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজতে না বাজতে গোল উদযাপন করে ডেনমার্ক, ৫৮ সেকেন্ডের গোলে এগিয়ে যায় তারা। জোনাস নুডসেনের লম্বা থ্রো থেকে ক্রোয়েটদের ডিবক্সের বল পান থোমাস ডিলানে। বাঁ দিকে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। মাতিয়াস জর্গেনসেন ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডার দোমাগো ভিদার পায়ের নিচ দিয়ে বল পাঠিয়ে সুবাসিচকে পরাস্ত করেন। ২০১৪ সালে ঘানার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিন্ট ডেম্পসে ২৯ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন। এদিন হলো বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দ্রুততম গোল।
বিশ্বকাপে এনিয়ে চতুর্থবার চার মিনিটের মধ্যে দুই গোল হলো। আর দুই দলের চার মিনিটে দুই গোল দেওয়ার ঘটনা ঘটল কেবল দ্বিতীয়বার।
পরের সুবর্ণ সুযোগটি পেয়েছে ক্রোয়েশিয়া ২৯ মিনিটে। বেশ দূর থেকে গোলমুখে শট নেন রাকিতিচ। স্মেইকেল সেটা প্রতিহত করলে উইং থেকে আন্তে রেবিচ ফিরতি শট নেন। আবারও ডেনিস গোলরক্ষক বাধা হন, বল পাঠান সামনের দিকে। গোলপোস্টের সামনে বেশ ফাঁকা জায়গায় বল পান ইভান পেরিসিচ, কিন্তু তিনি জোরালো শট মারেন গোলবারের উপর দিয়ে।
৩৯ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে মদরিচের নিখুঁত ক্রসে দেহান লভরেন লক্ষ্যে হেড করেছিলেন, কিন্তু বল চলে যায় গোলবারের পাশ দিয়ে। পরের মিনিটে ইউসুফ পলসেনের পাস থেকে বল পায়ে নিতে পারেননি ডেনমার্ক স্ট্রাইকার আন্দ্রেস কর্নেলিয়াস।
দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে ছিল ডেনমার্ক। যদিও দুর্বল ফিনিশিংয়ে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি তারা। পলসেন ও এরিকসেনের ওয়ান-টু পাসে কর্নেলিয়াসের শট গোলবারের পাশ দিয়ে ব্যর্থ হয়। বদলি নেমে নিকোলাই জর্গেনসেন ৭২ মিনিটে দারুণ সুযোগ পেয়েও সুবাসিচের কাছে সরাসরি বল দেন।
নির্ধারিত সময়ের শেষ ৫ মিনিট পেরিসিচ দুইবার লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন গোলবারের উপর দিয়ে বল মেরে।
ইনজুরি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ২৭ গজ দূর থেকে নেওয়া রাকিতিচের শট বাঁ পোস্টের পাশ দিয়ে চলে যায়।
যদিও তাদের হতাশ করে অতিরিক্ত সময়েই ম্যাচ জেতার সুযোগ পায় ক্রোয়েশিয়া ১১৪ মিনিটে। দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে ডিবক্সে ঢুকে পড়েছিলেন রেবিচ, তিনি শট নেওয়ার আগেই জর্গেনসেনের চ্যালেঞ্জে মাটিতে পড়ে যান। পেনাল্টি শট নেন মদরিচ। কিন্তু তার নিচু শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকান স্মেইকেল। রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড তার ওই সুযোগ নষ্টের হতাশা কাটান টাইব্রেকারে গোল করে। এই উত্তেজনায় ঠাঁসা লড়াইয়ে সব হিসাব চুকিয়ে দেন তার মাঝমাঠের আরেক সঙ্গী রাকিতিচ।
১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার নকআউটে জিতল ক্রোয়েশিয়া। আগামী ৭ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ রাশিয়া।