দুর্দান্ত রক্ষণ প্রথমার্ধে বেলজিয়ামকে ঠেকানোর পর দ্বিতীয়ার্ধে ৫ মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোলে এগিয়ে যায় এশিয়ার পরাশক্তি। প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার হাতছানি পাচ্ছিল তারা জাপান। কিন্তু তাদের চমকে দিয়ে ৫ মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ঘুরে দাঁড়ায় বেলজিয়াম। রেফারি যখন অতিরিক্ত সময়ের বাঁশি বাজানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই অসাধারণ এক আক্রমণে জয় ছিনিয়ে নেয় ১৯৮৬ সালের সেমিফাইনালিস্টরা।
আগামী ৬ জুলাই কাজান অ্যারেনায় বেলজিয়ামের শেষ আটের প্রতিপক্ষ ব্রাজিল। একই দিন নিঝনি নোভগোরদে উরুগুয়ে মোকাবিলা করবে ফ্রান্সকে।
এই গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার সুযোগ পেয়েছিল বেলজিয়াম পরের মিনিটে। দ্রিয়েস মের্টেন্সের পাস থেকে হ্যাজার্ড শক্তিশালী শট নিয়েছিলেন লক্ষ্যে। কপাল খোলেনি তাতে, গোলপোস্টে আঘাত করে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় তার চেষ্টা।
চাপে পড়া বেলজিয়ামকে আরও হতাশায় ডুবিয়ে ৫২ মিনিটে গোল করে জাপান। ডিবক্সের প্রান্তে শিনজি কাগাওয়া বল পেয়ে পেছনে পাস দেন তাকাশি ইনুইকে। বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ শটে বাঁ দিক দিয়ে লক্ষ্যভেদ করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইনুই।
জাপানি গোলরক্ষক এইজি কাওয়াশিমা বীরত্বে ৮৫ মিনিটে দুইটি সুযোগ নষ্ট করে বেলজিয়াম। প্রথমে মুনিয়েরের হেড প্রতিহত করেন কাওয়াশিমা। ফিরতি ক্রসে বল ডিবক্সের মাঝামাঝি দেন মিউনিয়ের, লুকাকুর দুর্দান্ত হেড দারুণ ক্ষিপ্রতায় গোলবারের উপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান জাপানের গোলরক্ষক।
৮৭ মিনিটে ভেরটনঘেনের প্রচেষ্টায় আবার সফল পরীক্ষা দেন কাওয়াশিমা। তিন মিনিট পর কোর্তোয়া ঠেকান জাপানের একটি চেষ্টা। ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে হোন্ডার দুর্দান্ত ফ্রি কিককে কর্নার বানান বেলজিয়ামের এই গোলরক্ষক। জাপানের কর্নার থেকে বল হাতে নিয়েই মাঝমাঠে বল পাঠান কোর্তোয়া। তখন ম্যাচের শেষ হতে বাকি ৪০ সেকেন্ড। কেভিন ডি ব্রুইন মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে ডান দিকে দৌড়াতে থাকা মুনিয়েরের কাছে পাঠান। বেলজিয়ান রাইট ব্যাকের নিচু ক্রস বক্সের মধ্যে লুকাকু পায়ে নিতে পারেননি, তবে একটু দূরে ছিলেন নাসের চ্যাডলি। ২৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডার কোনও দেরি না করে লক্ষ্যভেদ করেন। ৯৫তম মিনিটের গোলে টানটান উত্তেজনার এক ম্যাচ জিতে নেয় বেলজিয়াম।
জাপানের দুই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ও চার ডিফেন্ডারের প্রতিরোধ ভাঙতে বেশ ভুগতে হয়েছে লুকাকু ও হ্যাজার্ডদের।
২৬ মিনিটে দ্রিয়েস মের্টেন্সের ক্রস ডিবক্সের মাঝখানে লুকাকুকে খুঁজে পায়। কিন্তু ম্যানইউ তারকার পায়ের নিচের বল পড়লে এইজি কাওয়াশিমা দ্রুত বল মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেন। কয়েক মিনিট পর হ্যাজার্ডের লম্বা শট সেভ করেন জাপানি গোলরক্ষক।
জাপান সুযোগ পেয়েছে শেষ মিনিটে। নাগাতামোর নিচু শট ধরতে গিয়ে এলোমেলো হয়ে পড়েছিলেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। হাত ফসকে গেলেও বল দ্রুত আগলে নেন তিনি।
এই নিস্ফল প্রথমার্ধ যে দ্বিতীয়ার্ধে এত রঙ ছড়াবে, সেটা ঘুণাক্ষরেও টের পাওয়া যায়নি তখন।
বিশ্বকাপের নকআউটে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও সবশেষ জয় পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৯৭০ সালে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ২ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর নির্ধারিত সময়ে সমতা ফেরায় জার্মানি, তারপর অতিরিক্ত সময়ে দেখা পায় জয়সূচক গোলের।