উত্তেজনা, রোমাঞ্চ, নাটক- কোনও কিছুর কমতি ছিল না স্পার্তাক স্টেডিয়ামের ম্যাচে। হ্যারি কেইনের পেনাল্টি গোলে ইংল্যান্ডের এগিয়ে যাওয়া এবং দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে জেরি মিনার লক্ষ্যভেদে কলম্বিয়ার সমতা ফেরানোর পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে, সেখানে দুই দলের পেনাল্টি মিসে রোমাঞ্চ ছড়ানো শেষ ষোলোতে জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংলিশরা।
কলম্বিয়ার হয়ে প্রথম নিতে আসা স্পট কিক জালে জড়িয়ে দেন রাদামেল ফালকাও। ইংল্যান্ডের প্রথম পেনাল্টি জালে জড়াতে অসুবিধা হয়নি আগেই পেনাল্টি ‘অনুশীলন করা’ হ্যারি কেইনের। দ্বিতীয় শটেও ইংল্যান্ড-কলম্বিয়া ২-২ সমতা। হুয়ান কাদরাদোর পর বল জালে জড়ান মার্কাস রাশফোর্ড। এরপর স্পট কিক লক্ষ্যভেদ করেন কলম্বিয়ার লুইস মুরিয়েল, তবে ইংলিশ মিডফিল্ডার জর্ডান হেন্ডারসন ব্যর্থ। তার নেওয়া কিকটি ঝাঁপিয়ে প্রতিহত করেন কলম্বিয়ান গোলরক্ষক ওসপিনা।
তাতে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি হয় কলম্বিয়ার। কিন্তু সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি মাতিয়াস উরিবে, তিনি শট করেন বারপোস্টে। এরপরও সব ঠিক ছিল, কিন্তু শেষ কিক নিতে আবারও ব্যর্থ কলম্বিয়া, এবার কার্লোস বাকার শট ঠেকিয়ে দেন ইংল্যান্ড গোলরক্ষক। তাই এরিক ডায়ারের শট জালে জড়াতেই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আনন্দে মাতোয়ারা ইংলিশরা।
হ্যারি কেইনের দেওয়া পেনাল্টি গোলে জয়ের উৎসবে মেতে উঠেছিল ইংল্যান্ড। গ্যালারিতে উপস্থিত ইংলিশ সমর্থকদের কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন দেখাটাই তো স্বাভাবিক। ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা ম্যাচে তখন চলছিল ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিট। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্নে ছুরি বসিয়ে দেন মিনা। গ্রুপ পর্বে পোল্যান্ড ও সেনেগালের বিপক্ষে গোল পাওয়া বার্সেলোনা ডিফেন্ডার আবারও হেডে লক্ষ্যভেদ করে ম্যাচে ফেরান ১-১ সমতা। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে হেড করে বল জালে জড়ান মিনা।
দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমের সব নাটক জমিয়ে রাখা ম্যাচের প্রথমার্ধটা ছিল ম্যাড়ম্যাড়ে। ইংল্যান্ড কিংবা কলম্বিয়া- কোনও দলই গোছানো ফুটবল খেলতে পারেননি প্রথমার্ধে। খেলার উত্তেজনাও তেমন একটা জমেনি। সুযোগ তৈরির দিক থেকে ইংলিশরা এগিয়ে থাকলেও কাজে লাগাতে পারেনি। বিপরীতে লাতিন আমেরিকার দলটি আক্রমণে উঠলেও ইংল্যান্ডের কড়া রক্ষণ ভেঙে বক্সের ভেতর ঢুকতে পারেনি খুব একটা।
বিরতিতে যাওয়ার আগে কলম্বিয়াকে খানিকটা আশা দেখিয়েছিলেন হুয়ান কুইনতেরো। বক্সের বাইরে থেকে শট করেছিলেন এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার, কিন্তু রাখতে পারেননি পোস্টের ভেতর, উড়ে যায় বারের ওপর দিয়ে। দুদলের সুযোগ নষ্টে প্রথমার্ধ শেষ হয় তাই গোলশূন্যভাবে।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে গতি বাড়ে ইংল্যান্ডের। তবে কলম্বিয়া শারীরিক শক্তির ফুটবলের সামনে সুবিধা করতে পারছিল না তারা। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের সেট পিচে শরীরকে বেশি ব্যবহার করতে চাইছিল কলম্বিয়া। চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বেশিরভাগ গোল সেট পিচ থেকে এসেছে বলেই হয়তো লাতিন দেশটির বাড়তি নজর ছিল এখানে। তবে তার খেসারতও দিতে হয় তাদের!
৫৪ মিনিটে কর্নার পায় ইংল্যান্ড। সেট পিচের আগেই বক্সের ভেতর ইংলিশ খেলোয়াড়দের সঙ্গে বেশ খানিকটা ধাক্কাধাক্কি হয়, এমনকি রেফারিকেও যেতে হয় মাঝে। এরপর কর্নার থেকে উড়ে আসা বল যেন কেইনের কাছে না আসতে পারে, সেজন্য কার্লোস সানচেস চেপে ধরেন ইংলিশ স্ট্রাইকারকে। টটেনহাম তারকা মাটিতে পড়ে গেলে রেফারি বাজান পেনাল্টির বাঁশি। ৫৬ মিনিটে সেই স্পট কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় লক্ষ্যভেদ করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নেন কেইন।
এই গোলে রাশিয়া বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আরও এগিয়ে গেলেন ইংলিশ তারকা। চলতি আসরে তার গোলসংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ৬-এ। ইংল্যান্ডের হয়ে আরেকটি রেকর্ডেও নাম লেখান তিনি। ১৯৩৯ সালে টমি লটনের পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে থ্রি লায়ন্স জার্সিতে টানা ছয় ম্যাচে গোল করেছেন কেইন।
৮৬ মিনিটে আরেকবার হতাশায় পোড়ে লাতিন দলটি। বাঁ প্রান্ত থেকে আসা ক্রস বক্সের ভেতর থেকে লাফিয়ে হেড করলেও পোস্টে রাখতে পারেননি অধিনায়ক ফালকাও। মিনিট খানেক পর বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া ফালকাওয়ের দুর্বল শট ধরতে কোনও সমস্যাই হয়নি ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের। তবে ইনজুরি টাইমে গিয়ে অবশেষে গোলের মুখে দেখে কলম্বিয়া মিনার হেডে।