ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে নাগরিক, মাছরাঙা, সনি টেন ২ ও টেন ৩ চ্যানেলে।
ফ্রান্সে আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান, কিলিয়ান এমবাপে ও অলিভার জিরুদের আক্রমণভাগ এবার দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে হোসে মারিয়া হিমেনেস ও ডিয়েগো গোদিনকে নিয়ে সাজানো উরুগুয়ের রক্ষণ প্রতিপক্ষের জন্য হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তাছাড়া ম্যাচের শুরুতে ৭০ মিটার গতিতে দৌড়ের পর পেনাল্টি আদায়ে বিশ্বের নজর কেড়েছেন এমবাপে। উরুগুয়ের ডিফেন্ডারদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠতে পারেন তিনি।
শুধু এমবাপে নয়, ক্লাব সতীর্থ গ্রিয়েজমানকে নিয়েও ভাবতে হবে হিমেনেস ও গোদিনকে। অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড এই বিশ্বকাপে দুটি গোলই করেছেন পেনাল্টি থেকে। এমবাপের সঙ্গে আলো কাড়তে ‘আসল’ ম্যাচে জ্বলে উঠতে চান গ্রিয়েজমান।
রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে শুধু যে রক্ষণ আর আক্রমণভাগের লড়াই হবে তা নয়। রাশিয়াতে ব্রাজিলের পর একমাত্র দল হিসেবে এক গোল খাওয়া উরুগুয়ে আক্রমণেও ক্ষুরধার। বিশেষ করে আক্রমণে লুই সুয়ারেস ও এদিনসন কাভানির জুটি দুর্দান্ত। পর্তুগালের বিপক্ষে এই জুটিতে ২-১ গোলে জিতেছে উরুগুয়ে। এখন সবশেষ সেরা সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে তাদের দিকে তাকিয়ে ২০১০ সালে সেমিফাইনাল খেলা দলটি। যদিও পায়ের চোট নিয়ে অনিশ্চিত কাভানি।
অবশ্য পিএসজি স্ট্রাইকারকে খেলানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি কোচ অস্কার তাবারেস। কাভানির না খেলার আশঙ্কা সত্যি হলে সুয়ারেসের সঙ্গে আক্রমণভাগে থাকবেন ক্রিস্তিয়ান স্তুয়ানি। ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম জানালেন, কাভানি খেলুক না খেলুক তারা প্রস্তুত। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক বলেছেন, ‘কাভানি খেলবে ধরেই আমার দলকে প্রস্তুত করেছি। কারণ সে খেলবে নাকি খেলবে না, সেটা আমরা জানতে পারব খেলার ৯০ মিনিট আগে। তাদের (উরুগুয়ে) অনেক সম্পদ আছে, অনেক গুণ আছে। তারা একটি দল হয়ে রক্ষণ করে, তারা একসঙ্গে খেলে এবং এটা ভালোবাসা থেকে করে।’
বিশ্বকাপে এ নিয়ে চতুর্থবার মুখোমুখি হবে উরুগুয়ে ও ফ্রান্স, তবে নকআউটে তাদের দেখা প্রথমবার। ২০০২ ও ২০১০ সালে সবশেষ গ্রুপে দেখা হয়েছিল তাদের, দুটি ম্যাচই হয় গোলশূন্য ড্র। ১৯৬৬ সালে উরুগুয়ে ২-১ গোলে হারায় ফ্রান্সকে।
সবশেষ লড়াই তাদের হয়েছিল ২০১৩ সালের জুনে। মন্টেভিডিওতে ওই প্রীতি ম্যাচও উরুগুয়ে জিতেছিল লুই সুয়ারেসের একমাত্র গোলে। আগের ৮ ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের একমাত্র জয় ২-০ গোলে, সেটাও অনেক পুরনো- ১৯৮৫ সালে প্যারিসে এক প্রীতি ম্যাচে।