ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে নাগরিক, মাছরাঙা, সনি টেন ২ ও টেন ৩ চ্যানেলে।
দুই দলই টুর্নামেন্ট শুরুর আগের প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে এতদূর এসেছে। সবচেয়ে বেশি চমক দেখিয়েছে রাশিয়া। এই বিশ্বকাপে ৩২ দলের মধ্যে র্যাংকিংয়ে সবার নিচে তারা। তাছাড়া টুর্নামেন্টে আসার আগে ৭টি প্রীতি ম্যাচ খেলে একটিও জেতেনি রুশরা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয় আয়োজক হিসেবে গ্রুপ পর্বে বাদ পড়ার ইঙ্গিত মিলেছিল। কিন্তু তারাই সৌদি আরবকে ৫-০ ও তিউনিসিয়াকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে সেই আশঙ্কা মিথ্যা প্রমাণ করে।
যদিও গত দুই ম্যাচে নিজেদের ছায়া হয়েছিল তারা। উরুগুয়ে ও স্পেনের বিপক্ষে মাত্র একটি করে শট নেয় রাশিয়া। বিশেষ করে শেষ ষোলোতে স্পেনকে টাইব্রেকারে বিদায় করে দিয়ে এখন জাতীয় বীরের খ্যাতি পেয়েছে দলের কোচ ও খেলোয়াড়রা। তবে এসব অর্জনকে চাপ হিসেবে নিচ্ছে না রাশিয়া। দলের মিডফিল্ডার আলেক্সান্দার সেমেদোভ বলেছেন, ‘এখন খুব বেশি চাপ আর নেই। টুর্নামেন্টের আগে আমাদের ওপর চাপ ছিল অনেক বেশি। আমরা এখন কোয়ার্টার ফাইনালে। এখন কেবল সমর্থকদের আনন্দ দিতে মাঠে নামব।’
স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রথমবার সেমিফাইনালে উঠতে হলে রাশিয়াকে মোকাবিলা করতে হবে ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ড চ্যালেঞ্জ, যেখানে আছেন লুকা মদরিচ ও ইভান রাকিতিচের মতো বিশ্ব মানের মিডফিল্ডার। তাছাড়া মারিও মানজুকিচ, ইভান পেরিসিচ ও আন্তে রেবিচের আক্রমণভাগকে থামাতে হবে রুশদের।
১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার সেমিফাইনালের সুবাস পাচ্ছে ক্রোয়েশিয়া। এমন সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না তারা। দলের উইঙ্গার রেবিচ এই ম্যাচে আধিপত্য ধরে রাখতে আত্মবিশ্বাসী, ‘আমি মনে করি আমাদের দলে অনেক বেশি মানসম্মত খেলোয়াড় আছে। আমরাই এই ম্যাচে ছন্দ তৈরি করতে যাচ্ছি।’
মুখোমুখি লড়াইয়ে দুই দলই কাছাকাছি। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচ তারা খেলেছে দুটি। ২০০৮ সালের ইউরো বাছাইয়ের দুটি ম্যাচই হয়েছিল গোলশূন্য ড্র। অবশ্য ২০১৫ সালে রোস্তভ অ্যারেনায় এক প্রীতি ম্যাচে ৩-১ গোলে রুশদের হারায় ক্রোয়েশিয়া।
অবশ্য আয়োজক দেশ হওয়ায় অতীত থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারে রাশিয়া। শেষ ৫টি স্বাগতিক দল, যারা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে তাদের সবাই পেয়েছে সেমিফাইনালের টিকিট। ১৯৯০ সালে ইতালি, ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স, ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া, ২০০৬ সালে জার্মানি ও ২০১৪ সালে ব্রাজিল আয়োজক দেশ হয়ে খেলেছে সেমিফাইনাল। এবার কি তাহলে রাশিয়া! প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে আর কয়েক ঘণ্টা পরই।