‘আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলে প্রাণনাশের হুমকি অহরহ দেওয়া হয়’

দিয়েগো আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানি কখনও ভাবেননি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে। রেফারিকে আঘাত ও প্রাণনাশের হুমকিতে এক লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি তাকে ৬ মাসের জন্য নিষিদ্ধ হতে হয়েছে। আগের রাতে এমন শাস্তির কথা শুনে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেননি। ১৪ বছর পর বাংলাদেশে কোচিং করাতে এসে এখন আর্জেন্টাইন এই কোচ অনেকটাই বিব্রত, হতভম্ব!

মাঠে ক্রুসিয়ানির এমন আচরণ ‘স্বভাবসুলভ’-ই। কিন্তু মাত্রা ছাড়ানোয় বড় রকমের নিষেধাজ্ঞায় ৫৫ বছর বয়সী কোচ এখন ভীষণ অনুতপ্ত। ২৬ জুলাই উত্তর বারিধারর বিপক্ষে নিজের কদর্য রূপ দেখানো যে মোটেও ঠিক হয়নি সেটি মানছেন। নিজের ভুল বুঝতে পেরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে শাস্তি থেকে পরিত্রাণও চাইছেন সাইফ স্পোর্টিং কোচ। বাংলা ট্রিবিউনের কাছে ওই দিনের ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ক্রুসিয়ানি বলেছেন, ‘রেফারির একটি সিদ্ধান্তের বিপক্ষে আমি মেজাজ হারিয়ে তাকে ধাক্কা দেই। প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছিলাম। ধাক্কা দেওয়াটা আমার উচিত হয়নি। আর প্রাণনাশের হুমকিটা আসলে কথার কথা। আমাদের দক্ষিণ আমেরিকাতে মাঠের খেলাতে এগুলো বেশ প্রচলিত বাক্য। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলে এমন হুমকি প্রায়ই দেওয়া হয়। কিন্তু সেই দিনের ঘটনায় রেফারির মনে করেছে সিরিয়াস কিছু। আসলে তো তা নয়।’

ঘটে যাওয়া ঘটনায় ক্রুসিয়ানি এখন অনুতপ্ত। শাস্তি কমানোর জন্য তার আইনজীবীর মাধ্যমে বাফুফের কাছে আবেদন করতে যাচ্ছেন। চিঠিতে সেদিনের পুরো ঘটনা ও প্রাণনাশের বিষয়টিও খুলে বলছেন। যাতে করে শাস্তির পরিমাণ কিছুটা হলেও কম হয়। ক্রুসিয়ানি বলেছেন, ‘নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে শাস্তি কমানোর আবেদন করতে যাচ্ছি। পুরো বিষয়টি চিঠিতে খুলে বলার চেষ্টা করছি। যাতে পুরো বিষয়টি সবার কাছে পরিষ্কার হয়।’

বিতর্কিত ঘটনা একপাশে রাখলে সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে ক্রুসিয়ানির অধীনে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে সাইফ স্পোর্টিং। শুরু থেকে লড়াই করে আসছিল তারুণ্যনির্ভর দলটি। এবার তো লিগে তৃতীয় হয়েছে। ঠিক এই অবস্থায় ক্রুসিয়ানিকে বড়রকমের শাস্তি পেতে হলো। নিজের শাস্তির পাশাপাশি লিগ নিয়ে তার দলের অবস্থান সম্পর্কেও কথা বলেছেন তিনি, ‘সাইফ লিগে ভালো করেছে। তবে আমরা আরও ভালো অবস্থানে যেতে পারতাম। অনেক ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়েছি, যা ঠিক হয়নি। বলতে পারেন আমি ৫০ ভাগ সন্তুষ্ট।’ তবে ১৪ বছর পর বাংলাদেশে কোচিং করাতে এসে অনেক কিছুতে পরিবর্তন চোখে পড়েছে তার। ঘরোয়া ফুটবলে আগের চেয়ে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও স্থানীয় খেলোয়াড়দের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আবাহনীতে যখন কোচিং করাতে এসেছিলাম, তখনও স্থানীয়দের মধ্যে ভালো ফুটবলার চোখে পড়েছিল। বর্তমানে সেভাবে তা দেখিনি। একজন আলফাজ বা আরমান মিয়ার মতো কৌশলী ফুটবলার নেই। তবে ফিটনেস লেভেলসহ অন্য জায়গায় উন্নতি দেখেছি। উঁচুমানের বিদেশিও খেলেছে। অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগ হয়েছে। বলতে পারেন কঠিন ছিল।’

বাংলাদেশকে সেকেন্ড হোম বানিয়ে ফেলা ক্রুসিয়ানি আগামী মৌসুমে থাকবেন কিনা নির্ভর করছে তার শাস্তির মেয়াদের ওপর। এরই মধ্যে একটি ক্লাবের সঙ্গে কথা চললেও শাস্তির কারণে সেটি থমকে আছে!