ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এবার নিউক্যাসল ইউনাইটেডের উত্থান ছিল ঈর্ষণীয়। লিভারপুল, চেলসির মতো বড় দলকে টেক্কা দিয়ে ২০ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নিয়ে আলোচনায় দলটি। এবার তারা আলোচিত হলো ভিন্ন কারণে। ক্লাবটির মালিকরা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আল নাসরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
নিউক্যাসলের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিক সৌদি অ্যারাবিয়া পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) সৌদি প্রো লিগের শীর্ষ চারটি ক্লাবের মালিকানা নিয়েছে। এর মধ্যে আছে রোনালদোর ক্লাব। এছাড়া করিম বেনজেমাকে চুক্তি করতে আগ্রহী বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আল ইত্তিহাদও তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন হয়েছে।
সৌদি আরবের তথাকথিত ‘স্পোর্টস ক্লাবস ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড প্রাইভেটাইজেশন প্রজেক্ট’-এর অংশ হিসেবে পিআইএফ সৌদি চ্যাম্পিয়ন আল ইত্তিহাদ, বর্তমান এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন আল হিলাল, আল আহলি ও আল নাসরের ৭৫ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়েছে। বাকি ২৫ শতাংশ সৌদি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অলাভজনক ফাউন্ডেশনগুলোতে জমা হবে।
আগে সব সৌদি ক্লাব ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন হলেও নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল না।
প্রিমিয়ার লিগ ও লা লিগাসহ বিশ্বের বড় লিগগুলোতে একই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী একাধিক দলের মালিকানা নেওয়ার অনুমোদন নেই। তবে সৌদি আরবে এমন কোনও বাধাধরা নিয়ম নেই। তাতে করে পিআইএফ চারটি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারহোল্ডার হতে পেরেছে।
২০২১ সালের অক্টোবরে নিউক্যাসলের অধিকাংশ শেয়ার কিনে নেয় সৌদি পিআইএফ। সৌদি সরকারের হস্তক্ষেপ কিংবা ক্লাব কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কায় শুরুর দিকে প্রিমিয়ার লিগ বাধা দিয়েছিল তাদের। কিন্তু তেমন কিছু এখনও ঘটেনি।
সেন্ট জেমস পার্কের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পিআইএফ কোচ এডি হাওয়েকে চুক্তি করে। খেলোয়াড় নিবন্ধণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে তারা। তার ফল মিলেছে হাতেনাতে। দুই দশক পর প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলবে তারা প্রিমিয়ার লিগের চতুর্থ দল হয়ে। আর এই শতকে তারা প্রথম বড় কোনও ফাইনালেও ওঠে, কারাবাও কাপে তারা অবশ্য হেরে যায় ম্যানইউর কাছে।