চ্যাম্পিয়ন কিংসকে হারিয়ে ফাইনাল খেলার স্বপ্ন আবাহনীর

ঘরোয়া ফুটবলে বসুন্ধরা কিংসের উত্থানের পরই আবাহনী লিমিটেডের বিপক্ষে মাঠের লড়াইটা বেশ জমজমাট হয়ে আসছে। অনেকটা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর দুই দলের মতো! এবার নতুন মৌসুমে স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনালে দল দুটি মুখোমুখি হচ্ছে। শুক্রবার কিংস অ্যারেনাতে বিকাল ৪টার ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে লড়তে যাচ্ছে আকাশী-নীল জার্সিধারিরা। দুইদলই চাইছে ফাইনালে খেলতে। তার আগে মিলছে তীব্র লড়াইয়ের ইঙ্গিত।

সাম্প্রতিক সময়ে বসুন্ধরা কিংস অন্য দলগুলোকে ছাড়িয়ে নিজেদের চূড়ায় নিয়ে গেছে। টানা চারবারের লিগ চ্যাম্পিয়ন ছাড়া অন্য ট্রফিও জিতে চলেছে। তাদের বিপক্ষে বাকি দলগুলোর জেতা বেশ কঠিন।

এই দুই দলের পরিসংখ্যানেও এগিয়ে কিংস। এখন পর্যন্ত ১২টি ম্যাচ খেলেছে দুই দল। এর মধ্যে কিংস ৮টি ম্যাচ জিতেছে। আবাহনী জিতেছে দুটি, ড্রও করেছে দুটিতে।

তবে আর্জেন্টিনার কোচ দিয়েগো আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানির অধীনে নতুন মৌসুমে দারুণ খেলছে আবাহনী। গ্রুপ পর্ব ছাড়া নক আউটেও ছন্দ ধরে রেখেছে। কোয়ার্টার ফাইনালে তো শেখ জামালের বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয় এসেছে। এমন আগ্রাসী ফুটবল কালও দেখাতে চায় দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দলটি। দলটির অধিনায়ক মিডফিল্ডার মোহাম্মদ হৃদয় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আমরা প্রস্তুত আছি।যে করেই হোক মাঠে খেলে ফাইনালে যেতে চাই। আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। দলে সবার অবস্থা ভালো। আশা করছি আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো।’

প্রতিপক্ষ কিংস সম্পর্কে সমীহও ঝরছে তার কণ্ঠ থেকে, ‘কিংস এই মুহূর্তে দেশের অন্যতম সেরা দল, শক্তিশালীও। তাদের হারানো কঠিন। তবে কঠিনকে আমরা জয় করতে চাই। ফুটবলে ম্যাচের দিন যে কোনও কিছু হতে পারে। আমরাও শক্তির দিক দিয়ে কম নই। ’

সাফল্য পেতে কোচ ক্রুসিয়ানি ম্যাচের আগে টোটকা দিয়ে যাচ্ছেন। হৃদয় বলেছেন, ‘কোচ তো সব সময় আমাদের অনুপ্রেরণা দিয়ে থাকেন। প্রতিটি ম্যাচের আগে নানান দিক তুলে ধরেন। কিংসের বিপক্ষে কীভাবে লড়তে হবে তাও দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। মনে হয় ম্যাচ জিতেই আমার ফাইনালে যেতে পারবো।’

এএফসি কাপের গ্রপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর ঘরোয়া ফুটবলে দৃষ্টি দিয়েছে কিংস। কোয়ার্টার ফাইনালে সেনাবাহিনী দলকে তারা ২-১ গোলে হারিয়েছে। দলটির কোচ অস্কার ব্রুজন সবকটি ট্রফি জয়ের প্রত্যাশা করছেন এখন। তার আগে সেমিফাইনাল ম্যাচ নিয়ে বলেছেন, ‘আমরা এরই মধ্যে ঘরোয়া ফুটবলে মনোযোগ দিয়েছি। যে করেই হোক স্বাধীনতা কাপের ট্রফি ধরে রাখতে হবে। তাই ফাইনালের আগে ম্যাচটি জিততে চাই। যাতে ঘরোয়া ফুটবলের সব ট্রফি আমাদের ঘরে আসে। আবাহনী এখন আমাদের বাধা। নতুন করে দলটি সাজানো হয়েছে। তারাও আমাদের মতো ট্রফি চায়। চ্যালেঞ্জিং ম্যাচ হবে বলে মনে হচ্ছে।’