বিশ্বকাপের জ্বর এখন তুঙ্গে, উত্তেজনার পারদ চড়ছে প্রতিটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে। চার বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞ শুরু হতে আর মাত্র এক দিন বাকি। চারদিকে এখন শুধু আলোচনা—কে জিতবে বিশ্বকাপ, কে লিখবে নতুন ইতিহাস। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শকের চোখ এখন উত্তর আমেরিকায়।
আর এই বিশ্বকাপের উত্তাপের মাঝেই আয়োজক মেক্সিকোকে সামাল দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিতে হচ্ছে। উদ্বোধনী ম্যাচকে সামনে রেখে সম্ভাব্য যানজট ও জনসমাগম সামাল দিতে আগেভাগেই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ। প্রথম দিনের চাপ সামাল দিতে রাজধানীর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের বড় একটি অংশকে বাসা থেকে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণটাও স্বাভাবিক। এদিন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো সমর্থক, পর্যটক, সাংবাদিক, ফিফা কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে শহরজুড়ে ব্যাপক চাপ তৈরি হবে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেদিন মেক্সিকো সিটির সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। কিন্ডারগার্টেন, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়—সব পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে। এই নির্দেশনা সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য। যার ফলে রাজধানীর রাস্তায় হাজারো স্কুলবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ কমে যাবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। এতে করে বিশ্বকাপ শুরুর দিনে শহরের পরিবহন ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ঘিরে প্রস্তুতির প্রতিটি পদক্ষেপই এখন এক নতুন ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠছে। প্রথম ম্যাচই গড়াবে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে ১১ জুন রাত ১টায়। স্বাগতিকদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক স্তাদিও আজতেকায় ম্যাচটি মাঠে গড়াবে। এই ম্যাচ দিয়েই পর্দা উঠবে আসরের। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি ফিরিয়ে আনছে ২০১০ সালের স্মৃতিও। সেবারও দক্ষিণ আফ্রিকা খেলেছিল উদ্বোধনী ম্যাচে।
তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসরকে ঘিরে ইতোমধ্যেই উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে পুরো মেক্সিকো জুড়ে।