মেসি-রোনালদো-নেইমারের শেষ অধ্যায়

শুরু হচ্ছে ফুটবলের মহাযজ্ঞ

আশপাশের দিকে তাকালে এরই মধ্যে ‘তর্কযুদ্ধ’ শুরু। ঢাকার বাইরে একাধিক জায়গায় তো বড় পতাকা নিয়ে র‌্যালিও হচ্ছে। রাজধানীর বাড়িতে কিংবা অফিসগুলোতে পতাকা উড়তে শুরু করেছে। যে যার দলের সমর্থন নিয়ে শোডাউন করছেন। এর সব কিছুই গোলাকার এক বলের দখল নিয়ে। আর্জেন্টিনার হাতে ট্রফি থাকবে নাকি ব্রাজিল ২৪ বছরের খরা ঘুচাবে, নাকি অন্য কারও হাতে উঠবে সোনালি ট্রফি। এছাড়া মেসি, নেইমার ও রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কথার লড়াই তো আছেই। এর পোশাকি নাম বিশ্বকাপ ফুটবল! সেই যে ১৯৩০ সালে শুরু হয়েছে, আজ অবধি চলছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয়, এক কথায় অধিকাংশ মানুষ যে খেলাটায় বুঁদ হয়ে থাকে সেই বিশ্বকাপ ফুটবল এখন শুধু শুরুর অপেক্ষা। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক স্তাদিও আজতেকায় সাজ সাজ রব। সেখানেই আজ রাত ১টায় স্বাগতিক দল মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার। আয়োজক অন্য দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাও প্রস্তুত। এবারই প্রথম সব ভেন্যুতে আলাদা করে থাকছে উদ্বোধনী বর্ণিল অনুষ্ঠানও।

এছাড়া বিশ্বে অন্য জায়গায় ফুটবল জ্বর দেরিতে হলেও উঠতে শুরু করেছে। এবার সব কিছুকে একপাশে রেখে বিশ্বকাপ উপভোগ করার পালা। লিওনেল মেসি, নেইমার ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শেষ অধ্যায় দেখার অপেক্ষা। এবারের বিশ্বকাপে অনেক নতুন নিয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে।

তার আগে একটা কথা বলে নেওয়া উচিত। এবারই প্রথম কোনও বিশ্বকাপের আগে থেকে পুরো বিশ্ব খুব বেশি ভালো নেই। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরানের মধ্যে যুদ্ধ থেমে থেমে হচ্ছে। এই বাড়ে তো কমে। যার প্রভাব সব জায়গায় গিয়ে পড়েছে। অনেকটা যুদ্ধের আবহ থেকেই শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ! তার ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের কড়াকড়ি তো আছেই।

আজ শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল। আয়োজক দল ও ম্যাচ বেড়েছে

প্রথমবার তিনটি দেশে আয়োজন হচ্ছে, দলও বেড়ে হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ- ৪৮ দল! গ্রুপ থেকে দুই দলই শুধু নয়, নকআউট পর্বে যাওয়ার সুযোগ পাবে সেরা আটটি তৃতীয় দল। কুরাসাও, কেপ ভার্দে, জর্ডান ও উজবেকিস্তানের মতো দলগুলোও সুযোগ পেয়েছে। তারা ছোট দল হলেও কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না, সেটি নিশ্চিত করে বলা যায়।

আসন্ন বিশ্বকাপে ১২টি গ্রুপে চারটি করে দল খেলবে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল এবং সেরা ৮টি তৃতীয় স্থানধারী দল শেষ ৩২-এ উঠবে। অথচ আগের আসরগুলোতে মূল পর্ব শুরুই হয়েছিল ৩২ দল নিয়ে। এই পর্বে প্রতিটি দল নিজের গ্রুপের বাকি ৩টি দলের সাথে একটি করে ম্যাচ খেলবে। অর্থাৎ, গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল নিশ্চিতভাবে ৩টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে। ১২টি গ্রুপের প্রতিটির শীর্ষ ২টি দল (চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ) সরাসরি চলে যাবে শেষ ৩২-এ। ১২টি গ্রুপের মধ্যে পয়েন্ট, গোল ব্যবধান ও অন্যান্য টাইব্রেকার নিয়মের ভিত্তিতে সেরা ৮টি তৃতীয় স্থানধারী দল তাদের সঙ্গী হবে। শেষ ম্যাচ পর্যন্ত গ্রুপ পর্বের প্রতিটি গোল গুরুত্বপূর্ণ হবে, কারণ ৩ নম্বর পজিশনে থেকেও সেরা ৮ দলের তালিকায় ঢুকে নকআউটে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। বাকি ১৬টি দল গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেবে। রাউন্ড অব ৩২ থেকে আসল রোমাঞ্চ অর্থাৎ ‘ডু অর ডাই’ নকআউট পর্ব শুরু হবে। এই পর্বে কোনও ম্যাচ ড্র হলে অতিরিক্ত সময় এবং প্রয়োজনে পেনাল্টি শুট-আউটের মাধ্যমে জয়ী নির্ধারণ করা হবে।

শেষ ৩২-এ মোট ১৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। জয়ী ১৬টি দল পরের রাউন্ডে যাবে এবং পরাজিত ১৬টি দল টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেবে। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তীর্ণ ১৬টি দল নিয়ে এই পর্বের খেলা হবে। এখানে ম্যাচ হবে ৮টি। জয়ী ৮টি দল কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখবে। বিশ্বের সেরা ৮টি দল নিয়ে এই পর্বের লড়াই। এখানে ম্যাচ হবে ৪টি। জয়ী ৪টি দল সেমিফাইনালের টিকিট কাটবে। শেষ চারের এই লড়াইয়ে ম্যাচ হবে দুটি। বিজয়ী দুটি দল চলে যাবে স্বপ্নের ফাইনালে। আর পরাজিত দুটি দল খেলবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ।

 নতুন ফরম্যাটে ম্যাচের সংখ্যা বেড়েছে। আগের ফরম্যাটে যেখানে মোট ৬৪টি ম্যাচ হতো, এই নতুন ফরম্যাটে মোট ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১০৪টি। আগে একটি দলকে চ্যাম্পিয়ন হতে হলে মোট ৭টি ম্যাচ খেলতে হতো। নতুন ফরম্যাটে ট্রফি জিততে হলে বা ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে হলে একটি দলকে মোট ৮টি ম্যাচ খেলতে হবে।

টুর্নামেন্টের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শিরোপার প্রধান দাবিদার কে

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে বিভিন্ন স্পোর্টস অ্যানালিটিক্স, বাজির বাজার ও সুপার কম্পিউটারের গাণিতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী শিরোপার প্রধান দাবিদার হিসেবে মূলত ইউরোপের দুই পরাশক্তি যৌথভাবে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।
 
অধিকাংশ ফুটবল বিশেষজ্ঞ ও বাজির বাজারের মতে, কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বাধীন ফ্রান্স শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ সারিতে থাকা ফরাসি দলটির মূল শক্তি হলো তাদের অবিশ্বাস্য দলের গভীরতা। মূল একাদশের পাশাপাশি তাদের বিকল্প বেঞ্চও সমমানের বিশ্বমানের খেলোয়াড়ে ঠাসা, যা ১০৪ ম্যাচের এই দীর্ঘ টুর্নামেন্টে তাদের সবচেয়ে বড় সুবিধা দেবে।
 
অন্য দলটি ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ফ্রন্টরানার হিসেবে ফ্রান্সের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করছে। বিশ্বখ্যাত ডাটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান অপ্টার সাম্প্রতিক ১০,০০০ সিমুলেশনের ফলাফলে স্পেনকে টুর্নামেন্টের একক ‘প্রধান দাবিদার’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। নিখুঁত পাসিং ফুটবল এবং চমৎকার রক্ষণভাগের সমন্বয়ে গত কয়েক বছর ধরে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল দারুণ ফর্মে রয়েছে।

প্রধান দুই ফেভারিটের ঠিক পেছনেই রয়েছে আরও ৩টি শক্তিশালী দল। নতুন কোচ থমাস টুখেলের অধীনে বাছাই পর্বে একটিও গোল না খেয়ে দাপটের সাথে মূল পর্বে এসেছে থ্রি লায়নরা। বাজির বাজারে তারা ৩ নম্বর পজিশনে রয়েছে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে লিওনেল মেসির দল ট্রফি ধরে রাখার অন্যতম বড় দাবিদার। বেশ কিছু অর্থনৈতিক ও গাণিতিক মডেলে গ্রুপ বিন্যাস সহজ হওয়ায় তাদের সেমিফাইনাল বা ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশ জোরালো ধরা হয়েছে।

ব্রাজিল ও পর্তুগালও আছে এই কাতারে। সেলেসাও এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালও ফেভারিটের তালিকায় শীর্ষ ৫-৬-এর মধ্যে অবস্থান করছে। আছে ইংল্যান্ডও।

ফ্রান্সের মূল শক্তি হলো এমবাপের গতি আর ফিনিশিংয়ের পাশাপাশি এই দলের বেঞ্চের গভীরতা অবিশ্বাস্য। ফরাসি দলের প্রতিটি পজিশনে ব্যাকআপ হিসেবে বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে। বাজির বাজার এবং বড় বড় স্পোর্টস অ্যানালিটিক্সের মতে, তারা শিরোপার এক নম্বর ফ্রন্টরানার। নকআউট পর্বের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য ফ্রান্সের স্কোয়াড সবচেয়ে বেশি উপযোগী।

 আর্জেন্টিনার মূল শক্তি তারা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং কোপা আমেরিকা জয়ী দল। সেই হিসেবে তাদের মধ্যে এক অবিশ্বাস্য জয়ী মানসিকতা তৈরি হয়েছে। লিওনেল মেসির জাদুকরি নেতৃত্ব এবং দলের তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের রসায়ন দারুণ। মাঝমাঠ এবং রক্ষণভাগ অত্যন্ত গোছানো হওয়ায় তারা শিরোপার অন্যতম দাবিদার।

লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন খেলছে নিখুঁত ও গতিময় ফুটবল। তরুণ বিস্ময় লামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের মতো উইঙ্গাররা যেকোনও রক্ষণভাগ ভেঙে চুরমার করতে পারেন। সুপার কম্পিউটারের অপ্টার গাণিতিক বিশ্লেষণে স্পেনকে এই মুহূর্তে শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার হিসেবে দেখানো হচ্ছে। তাদের নির্ভুল পাসিং ও আক্রমণাত্মক কৌশল যেকোনও দলের জন্য ভীতিকর।

বরাবরের মতো ব্রাজিলও থাকছে এগিয়ে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো ও এন্ড্রিকদের নিয়ে গড়া আক্রমণভাগ যেকোনও দিন ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। নামের ভার এবং হেক্সা জয়ের মিশন তাদের সবসময়ই ফেভারিট বানিয়ে রাখে। কাগজে-কলমে সেরা ৫ দলের মধ্যে থাকলেও মাঠে তাদের ধারাবাহিকতার অভাব কিছুটা চিন্তার কারণ। তবে নকআউট পর্বে নিজেদের দিনে ব্রাজিল অপরাজিত।

এদিকে হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহামদের নিয়ে গড়া ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগ বিশ্বসেরা। থমাস টুখেলের মতো ট্যাকটিশিয়ান কোচ যুক্ত হওয়ায় তাদের রণকৌশল আরও ধারালো হয়েছে। স্কোয়াডের শক্তি অনুযায়ী তারা ফাইনাল খেলার দাবিদার। বড় টুর্নামেন্টের ফাইনাল গেট পার হওয়ার মানসিক চাপ সামলাতে পারলে ইংল্যান্ড এবার ইতিহাস গড়তে পারে।


এবার নজরে থাকবেন রোনালদো। যারা নজরে থাকবেন

এবারের বিশ্বকাপে নজরে থাকবেন রোনালদো। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই মহাতারকার জন্য এটি সম্ভবত ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ও শেষ বিশ্বকাপ। ৪১ বছর বয়সেও তার ফিটনেস এবং গোল করার ক্ষুধা ফুটবল বিশ্বকে অবাক করে। পর্তুগালকে ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি এনে দিয়ে নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের রূপকথার মতো সমাপ্তি টানাই হবে তার একমাত্র লক্ষ্য।

২০২২ সালে ট্রফি জিতে ফুটবলকে পূর্ণতা দেওয়ার পর মেসি আরও একবার বিশ্বমঞ্চে নামছেন। এটিই হতে যাচ্ছে ফুটবল জাদুকরের শেষ বিশ্বকাপ। এবার আর কোনও চাপ নেই, কেবল ফুটবলকে উপভোগ করা এবং আলবিসেলেস্তেদের জার্সিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট ধরে রাখার এক মহাকাব্যিক মিশন তার সামনে।

ইনজুরি এবং উত্থান-পতনের ক্যারিয়ার পেরিয়ে নেইমার আবারও ব্রাজিলের সেলেসাওদের স্বপ্নসারথি। পেলের দেশের হয়ে শেষ একটা বড় ধামাকা দেখানোর মঞ্চ এটি। ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের হাহাকার ঘোচাতে নেইমারের অভিজ্ঞতা ও সৃষ্টিশীল ফুটবল এবার ব্রাজিলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা ও পরিপূর্ণ মিডফিল্ডার বেলিংহ্যাম। অল্প বয়সেই রিয়াল মাদ্রিদ এবং ইংল্যান্ড দলের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছেন তিনি। মাঝমাঠ থেকে খেলা নিয়ন্ত্রণ করা, ট্যাকল করা এবং দরকারি সময়ে বক্সে ঢুকে গোল করার যে অবিশ্বাস্য ক্ষমতা তার আছে, তা ইংল্যান্ডকে ১৯৬৬ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ জেতাতে পারে কিনা, সেটাই দেখার বিষয়।

গোলমেশিন হিসেবে পরিচিত আর্লিং হাল্যান্ডের এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম বিশ্বকাপ। নরওয়েকে এই বড় মঞ্চে কোয়ালিফাই করিয়ে তিনি ইতোমধ্যে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করেছেন। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ক্লাব ফুটবলে গোলের বন্যা বইয়ে দেওয়া হালান্ড এবার ৪৮ দলের এই নতুন ফরম্যাটে বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের অন্যতম বড় দাবিদার।

বর্তমান ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘বিস্ময় বালক’ ইয়ামাল। ২০২৪ ইউরোতে মাত্র ১৬-১৭ বছর বয়সে বিশ্বকে চমকে দেওয়া এই উইঙ্গার এখন স্পেনের আক্রমণের মূল অস্ত্র। মেসির পর বার্সেলোনা ও স্পেনের ফুটবলকে নতুন রূপ দেওয়া এই তরুণ তুর্কি তার অতিমানবীয় ড্রিবলিং আর ক্ষুরধার পাসিং দিয়ে স্পেনের লা রোহাদের ট্রফি এনে দিতে পারেন কিনা, তা দেখতে মুখিয়ে থাকবে সবাই।

এবারের আসরে যারা চমক দেখাতে পারেন

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে মরক্কো ইতিহাস গড়েছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপেও আশরাফ হাকিমি, সোফিয়ান আমরাবাতদের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া দলটির রক্ষণভাগ ভাঙা যেকোনও পরাশক্তির জন্যই কঠিন হবে। কাতার বিশ্বকাপের সেই অবিশ্বাস্য আত্মবিশ্বাস এবং বড় ম্যাচ জেতার অভিজ্ঞতা এবারও তাদের বড় দলগুলোর বিপক্ষে লড়তে সাহায্য করবে। 

জাপানের গতিময়, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নিখুঁত কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবলের জন্য পরিচিত। গত বিশ্বকাপে তারা জার্মানি ও স্পেনের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল। ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে খেলা জাপানি খেলোয়াড়দের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তাদের দলগত বোঝাপড়া ও লড়াকু মানসিকতা এবার নকআউট পর্বে বড় কোনও অঘটন ঘটিয়ে দিতে পারে।

এবারের বিশ্বকাপে দুই উত্তর আমেরিকান দেশ নিজেদের ঘরের মাঠে খেলার হোম অ্যাডভান্টেজ পাবে, যা ফুটবল ইতিহাসে সবসময়ই বড় শক্তি হিসেবে কাজ করে। ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক, জিও রেইনাদের মতো একঝাঁক তরুণ ও প্রতিভাবান প্রজন্ম নিয়ে মার্কিন দলটির স্কোয়াড বেশ শক্তিশালী। ঘরের মাঠে চেনা কন্ডিশন এবং দর্শকদের অকুণ্ঠ সমর্থন তাদের কোয়ার্টার ফাইনাল বা তার চেয়েও দূরে নিয়ে যেতে পারে।

আলফোনসো ডেভিসের মতো অতিমানবীয় গতির উইঙ্গারের নেতৃত্বে কানাডা দল গত কয়েক বছরে দারুণ উন্নতি করেছে। কোপা আমেরিকাতেও তারা শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে কঠিন লড়াই করেছে। নিজেদের কন্ডিশনে তারা যেকোনও বড় দলের পয়েন্ট কেড়ে নেওয়ার সামর্থ্য রাখে।