যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার সবসময়ই দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকে। বিশেষ করে রাত নামলে সেখানে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। শনিবার রাতেও তার ব্যতিক্রম ছিল না। তবে এদিনের দৃশ্য ছিল কিছুটা ভিন্ন। চারপাশে চোখ রাখলেই দেখা যাচ্ছিল ব্রাজিল ও মরক্কোর জার্সি পরা অসংখ্য সমর্থককে। কেউ স্লোগান দিচ্ছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ দলীয় পতাকা হাতে উল্লাসে মেতে উঠেছেন।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ব্রাজিল ও মরক্কো। সেই ম্যাচের আগে নিজেদের দলকে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদেরও উজ্জীবিত করতে টাইমস স্কয়ারকে বেছে নিয়েছেন দুই দেশের সমর্থকেরা।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের সামগ্রিক আমেজ খুঁজে পাওয়া তুলনামূলক কঠিন। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ ঘিরে যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে তুলনা করলে এখানে সেই আবহ অনেকটাই কম। বিশেষ করে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সি অঞ্চলে এখন মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এনবিএ ও এনএইচএল। দীর্ঘদিন পর এনবিএতে নিউইয়র্ক নিকস ফাইনালে ওঠায় শহরজুড়ে চলছে বাড়তি উচ্ছ্বাস।
নিউইয়র্কপ্রবাসী এবং সাবেক জাতীয় ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় সিলেটের ফয়জুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখানে ফুটবলের আমেজ কম। আমেরিকানরা অনেক খেলাই খেলে। তবে ফুটবল শীর্ষে নেই। অভিবাসীর শহর নিউইয়র্ক। তাই অন্য দেশ থেকে আসা নাগরিকদের মনে উৎসাহটা বেশি। এছাড়া আমাদের মধ্যে বেশ উত্তজনা কাজ করছে।’
ষাটোর্ধ্ব আইজান বলেন, ‘মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ব্রাজিল হারবে। মরক্কো ২-১ গোলে জিতবে—এটা আমার বিশ্বাস। নিজ দেশ থেকে খেলা দেখতে এসেছি। দলের জয় নিয়ে দেশে ফিরবো।’
অন্যদিকে ব্রাজিলের সমর্থক গ্যাব্রিয়েলও নিজ দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। টাইমস স্কয়ারে এসেছেন উৎসবের অংশ হতে এবং দলের প্রতি সমর্থন জানাতে।
তিনি বলেন, ‘ব্রাজিল এ বিশ্বকাপে দারুণ খেলবে। কার্লো আনচেলত্তির অধীনে দল ভালো করছে। আশা করছি, আমরা ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরতে পারবো। আমরা মাঠে গিয়ে খেলা দেখবো এবং দলকে উৎসাহ দেবো।’
তবে টাইমস স্কয়ারে শুধু ব্রাজিল ও মরক্কোর সমর্থকরাই ছিলেন না। দেখা মিলেছে স্কটল্যান্ড, আর্জেন্টিনাসহ বিভিন্ন দেশের সমর্থকদেরও। বিশ্ববিখ্যাত এই চত্বরে এসে সবাই নিজেদের মতো করে উপভোগ করছেন বিশ্বকাপের আবহ।