রোনালদোর ইতিহাসের রাতে উজবেকিস্তানকে বিধ্বস্ত করেছে পর্তুগাল 

বিশ্বকাপে কঙ্গোর বিপক্ষে হতাশায় টুর্নামেন্ট শুরু করলেও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ফেভারিটের মতোই নিজেদের মেলে ধরেছে পর্তুগাল। প্রথমার্ধে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জোড়ায় শেষ পর্যন্ত অভিষিক্ত দলটিকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। 

অথচ জাতীয় দলের হয়ে বড় টুর্নামেন্টে ১০ ম্যাচে কোনও গোল পাচ্ছিলেন না রোনালদো। তাতে প্রত্যাশার চাপটা বাড়ছিল আরও। তবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দেখা দিয়েছেন স্বমহিমায়। তার করা গোলেই ষষ্ঠ মিনিটে এগিয়ে গেছে পর্তুগাল। যে গোলে গড়েছেন ইতিহাসও। প্রথম ফুটবলার হিসেবে ৬টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েছেন তিনি। এই গোলটাই পরে ম্যাচের মূল সুর বেঁধে দিয়েছে।  

পর্তুগাল তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো। বক্সের ভেতরে বল পেয়ে জোয়াও নেভেস সেটি বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ব্রুনো ফার্নান্দেসের কাছে। প্রথম স্পর্শেই শট নেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার। কিন্তু প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল কর্নারের বিনিময়ে বাইরে চলে যায়।

দুই মিনিট পর আরেকটি সুযোগ আসে। বাঁ প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত গতিতে উঠে আসেন নুনো মেন্দেস। এরপর বক্সের মাঝখানে অপেক্ষায় থাকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর উদ্দেশে দারুণ একটি ক্রস বাড়ান তিনি। বল পেয়ে পা বাড়িয়ে শট নেওয়ার চেষ্টা করেন সিআরসেভেন। কিন্তু তাতে ঠিকমতো সংযোগ করতে না পারায় সুযোগটি হাতছাড়া হয়। তবে ষষ্ঠ মিনিটে আর কোনও ভুল করেননি। কানসেলোর ক্রস থেকে গোলমুখের কাছে থাকা অবস্থায় দুর্দান্ত শটে জাল কাঁপিয়ে ঐতিহাসিক গোলটির দেখা পেয়েছেন।  

কঙ্গোর বিপক্ষে খেলার ধরণ নিয়ে সমালোচনার মুখে ছিল পর্তুগিজরা। কিন্তু এদিন তারা ধরা দেয় নিজেদের স্টাইলে। ১৭ মিনিটে কৌশলগত এক পরিবর্তন চমকে দেয় সবাইকে। দেখে মনে হচ্ছিল তখন পাওয়া ফ্রি-কিকটি নিতে যাচ্ছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তাই গোলপোস্টের বাঁ দিকটায় বেশি মনোযোগ দিয়েছিল উজবেকিস্তানের রক্ষণ ও গোলরক্ষক। কিন্তু এটাই ছিল পর্তুগালের কৌশল! সবাইকে চমকে দিয়ে শট নেন নুনো মেন্দেস। বাঁ পায়ে নেওয়া তার নিখুঁত বাঁকানো শট উড়ে গিয়ে জড়িয়ে যায় জালে! গোলরক্ষকের কোনো সুযোগই ছিল না। তাতে ২০ মিনিটের মধ্যেই দুই গোলের অগ্রগামিতা পেয়ে যায় পর্তুগাল। 

২৯ মিনিটে দর্শনীয় এক গোলে একটি শোধ দিয়েছিল উজবেকিস্তান। মাঝমাঠে আব্বাসবেক ফয়জুল্লায়েভের চাপে বল হারান জোয়াও ক্যানসেলো। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে আলগা বল নিয়ে নেন গানিয়েভ। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী শট সোজা গিয়ে জড়িয়ে যায় জালে! দারুণ সেই গোলে উল্লাসে মেতে ওঠে উজবেকিস্তান। যদিও সেটি স্থায়ী হয়নি ভারের হস্তক্ষেপে।  বল দখলে নেওয়ার সময় জোয়াও ক্যানসেলোর ওপর ফাউল করেছিলেন আব্বাসবেক ফয়জুল্লায়েভ। ফলে গোলটি গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি জায়েদ। 

৩৯ মিনিটে আবারও ব্যবধান বাড়ায় পর্তুগাল। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উজবেকিস্তানের রক্ষণভাগকে পুরোপুরি ছিন্নভিন্ন করে দেয় তারা। মাঝমাঠ থেকে নিখুঁত এক থ্রু পাস বাড়ান ব্রুনো ফার্নান্দেস। বলটি ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়া ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দিকে যায়। সুযোগ হাতছাড়া করেননি পর্তুগাল অধিনায়ক। এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করে নিখুঁত ফিনিশে বল জড়িয়ে দেন জালে।

বিরতির পরও একই দাপট ধরে রাখে তারা। ৬০ মিনিটে চতুর্থ গোলটিও পেয়ে যায় পর্তুগাল। যদিও সেটা ছিল আত্মঘাতী। শুরুতে কর্নার থেকে আসে সুযোগ। যা নিয়েছেন ব্রুনো ফার্নান্দেস। নিচু করে নেওয়া সেই কর্নারে প্রথমে বল স্পর্শ করেন জোয়াও ফেলিক্স। এরপর খুসানোভের গায়ে লেগে বলের গতিপথ বদলায়। তার পর গোলরক্ষক নেমাতভের হালকা ছোঁয়া লেগে তা চলে যায় জালে। 

৭৪ মিনিটে হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়ে যাচ্ছিলেন রোনালদো। বক্সে আব্দুল্লায়েভ কিছুটা ঢিলেমি করতেই বলটি তার সামনে চলে এসেছিল। হাফ-ভলিতে নিখুঁতভাবে শট নেন পর্তুগিজ তারকা। দুর্দান্তভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে সেভ করে দলকে বাঁচান উজবেক গোলকিপার।

ইতিহাস গড়া রাতটাকে আরও স্মরণীয় করতে রোনালদো হ্যাটট্রিকের খোঁজ করছিলেন। দুর্ভাগ্য ভাগ্য সহায়নি তার। ৮৭ মিনিটেই যেমন- ডান দিক দিয়ে নেমে আসা সেমেদো নিখুঁতভাবে বল বাড়িয়েছিলেন। যা মূলত রোনালদোকে কেন্দ্র করেই ছিল। কিন্তু মাঝপথে প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে বলের গতিপথ বদলে যায়। সেই সুযোগটা লুফে নেন রাফায়েল লিয়াও। কোনো সময় নষ্ট না করে জোরালো শটে বল ঠেলে দেন জালের বাঁ দিকে। 

এখন ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ কে-তে শীর্ষে ফিরেছে পর্তুগাল। কাল সকালে কলম্বিয়া কঙ্গোকে হারালে তারা তখন শীর্ষস্থান দখলে নেবে।