স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়াম যেন রূপ নিয়েছিল হলুদের সমুদ্রে। গ্যালারিজুড়ে ব্রাজিল সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের ঢেউয়ের সঙ্গে যোগ হয়েছিল ভিনিসিয়ুসদের সাম্বার ছন্দ! দুয়ে মিলে স্রেফ উড়ে গেছে স্কটল্যান্ড। তাদের ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে সেলেসাওরা। শুধু কি তাই? সি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই শেষ ৩২ এ যাচ্ছে তারা।      

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রথমার্ধেই ভালো অবস্থানে চলে যায় ব্রাজিল। ব্রাজিল অগ্রগামিতা পায় ৭ মিনিটেই। অবশ্য গোলের জন্য দায়টা স্কটল্যান্ডেরই। দীর্ঘ সময় বলের দখল ধরে রাখার পর নিজেদের অর্ধেই বড় ভুল করেন স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার স্কট ম্যাকেনা। আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি সময় বল পায়ে রাখেন। সেই সুযোগে তাকে চাপে ফেলেন রায়ান। ব্রাজিলের তরুণ ফরোয়ার্ড বলটি ম্যাকেনার পা থেকে ছিনিয়ে নিতে গেলে সেই বল গিয়ে পড়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সামনে। যিনি তখন বক্সের মুখেই ছিলেন। এরপর ভিনিসিয়ুস বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানের পাশ কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল জড়িয়ে দেন। তাতে সহজ গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। 

২৪ মিনিটে আরেকবার জালে বল পাঠিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। কিন্তু বিল্ডআপে স্কটল্যান্ড খেলোয়াড়ের ওপর ফাউল করায় ভারে পর্যালোচনার পর সেই গোল বাতিল করে দেন রেফারি। 

৪৫ মিনিটে আরও একটি সুযোগ তৈরি করেছিল সেলেসাওরা। গোলমুখে নিচু ক্রস বাড়িয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। সেই বলে পা ছোঁয়ানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন মাথেউস কুনহা। তবে স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডাররা সম্মিলিতভাবে বাধা হয়ে দাঁড়ান। একাধিক খেলোয়াড় নিজেদের শরীর ছুড়ে দিয়ে শট ঠেকিয়ে দেন। 

তবে যোগ হওয়া ৪৫+৩ মিনিটে আর কোনও ভুল করেনি ব্রাজিল। স্কটল্যান্ডের রক্ষণের ভুলে এবারও জাল কাঁপান ভিনিসিয়ুস। দলগত আক্রমণের পর বল পেয়ে বক্সের ভেতর দারুণ এক ক্রস বাড়িয়েছিলেন ব্রুনো গুইমারেস। তখন গোলমুখে কোনো মার্কিং ছাড়াই হাজির ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। সহজ হেডে বল জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল তুলে নেন এই ফরোয়ার্ড। চলতি বিশ্বকাপে ভিনিসিয়ুসের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় চারটিতে। 

বিরতির পর ৪৯ মিনিটে অবশেষে গোলমুখে নিজেদের প্রথম শটটি নিতে সক্ষম হয় স্কটল্যান্ড। বাম প্রান্ত থেকে দারুণ একটি ক্রস ভাসিয়ে দিয়েছিলেন কিয়েরান টিয়ার্নি। সেই বলে লাফিয়ে মাথা ছোঁয়ান স্কট ম্যাকটমিনে। কিন্তু তা সহজেই তালুবন্দি করে ফেলেন ব্রাজিল গোলরক্ষক আলিসন।

২ মিনিট পর হ্যাটট্রিকের দুর্দান্ত সুযোগ তৈরি করেছিলেন ভিনিসিয়ুস। কিন্তু স্কটল্যান্ড গোলকিপার অ্যাঙ্গাস গান দৃঢ়তা দেখানোয় তার সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।  

৬০ মিনিটে ব্রাজিলের তৃতীয় গোলটিতে ছিল সাম্বার ছন্দ। মাঝমাঠ থেকে নিখুঁত পাস করেছিলেন কাসেমিরো। বল পেয়ে সরাসরি গোলমুখে এগিয়ে যান ব্রুনো গুইমারেস। তার পর ডান দিকে ফাঁকায় থাকা সতীর্থ মাথেউস কুনহার পথে বাড়িয়ে দেন বল। সেখান থেকে অনায়াসে বল জালে পাঠিয়ে স্কোর ৩-০ করেন তিনি। 

তার পর ব্রাজিল আক্রমণ করে গেলেও ব্যবধানে আর হেরফের করতে পারেনি। নেইমার শুরুর একাদশে না থাকলেও ৭৬ মিনিটে বদলি হয়ে মাঠে নেমেছিলেন। যদিও তেমন কিছুই করতে পারেননি। শেষ দিকে স্কটল্যান্ড আক্রমণে ধাড় বাড়িয়েছিল। যদিও লাভ হয়নি তাতে। যোগ হওয়া সময়ের শেষ দিকে তাদের হতাশ করেছেন আলিসন। 

‘সি’ গ্রুপ থেকে ব্রাজিল ও মরক্কো শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে। দুই দলেরই পয়েন্ট সমান ৭। কিন্তু গোল ব্যবধানে এগিয়ে ব্রাজিল। তাই গ্রুপ চ্যাম্পিয়নও তারা। মরক্কো গ্রুপ রানার্স আপ হয়েই পরের পর্বে যাচ্ছে।