নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পানামাকে ২-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ ‘এল’-এর শীর্ষস্থান নিয়ে নকআউটে গেলো ইংল্যান্ড। আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়া পানামার বিপক্ষে দাপুটে এক জয় তুলে নিলো থমাস টুখেলের দল।
প্রথমার্ধ: আধিপত্য থাকলেও গোলহীন
ম্যাচের শুরু থেকেই ইংল্যান্ড বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধে জালের ঠিকানা খুঁজে পায়নি। মার্কাস র্যাশফোর্ড ও বুকায়ো সাকা দুই দিক থেকে চাপ তৈরি করলেও তাদের ফিনিশিং ছিল নিখুঁত নয়। পানামার গোলরক্ষক অরল্যান্দো মস্কেরা দারুণ কয়েকটি সেভে দলকে বাঁচান। জুড বেলিংহাম মধ্যমাঠে অসাধারণ সক্রিয় ছিলেন, বল পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধ: বেলিংহামের শো
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই খুলে যায় ইংল্যান্ডের আক্রমণ। কর্নার থেকে নিজেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন বেলিংহাম। এরপর ৬৭ মিনিটে আসে দ্বিতীয় গোল— র্যাশফোর্ডের লম্বা বল ধরে বাঁ দিকে দারুণ কাজ করে বক্সে চিপ করে বল ফেলেন বেলিংহাম, আর কাছ থেকে হেডে জালে জড়ান অধিনায়ক হ্যারি কেইন।
এই গোলে ইতিহাস গড়লেন কেইন— গ্যারি লিনেকারের ১০ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন তিনিই, ১১ গোল নিয়ে।
বেলিংহামের রাতটাও কম স্মরণীয় নয়— ২২ বছর ৩৬৩ দিন বয়সে ১৯৬৬ সালের পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে এক বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট দুটোই করার কীর্তি গড়লেন তিনি।
এই জয়ে গ্রুপ ‘এল’-এ শীর্ষস্থান নিশ্চিত করলো ইংল্যান্ড— যা নকআউট পর্বে তাদের জন্য তুলনামূলক সহজ পথ তৈরি করে দিলো।
এদিকে পানামার বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হলো হতাশায়— টুর্নামেন্টে একটি গোলও করতে পারলো না তারা, তবে ঘানা ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানের হারে লড়াকু মানসিকতার প্রমাণ রেখেছিল তারা।